২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাল সনদে চাকরি করছেন ৩ শিক্ষক

  • কুড়িগ্রামে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ কুড়িগ্রামে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলে জাল সনদে চলছে তিন শিক্ষকের চাকরি। এছাড়া সরকারী পরিপত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন করে ছয় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গোপন এ নিয়োগ বাণিজ্যে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা। এ নিয়ে একাধিক তদন্ত টিম গঠিত হলেও দুর্নীতিবাজদের ব্যাপারে শাস্তির ব্যবস্থা না করায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। উল্টো দুর্নীতিবাজ এ চক্রটি অভিযোগকারী ও সংবাদ কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তে জালিয়াতি ধরা পড়ে। তদন্তে তিন শিক্ষকের সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণের দু’বছর অতিবাহিত হলেও নেয়া হয়নি কোন আইনানুগ ব্যবস্থা। এতে করে প্রতিবছরই সরকারের লাখ লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, প্রতিবন্ধী স্কুল কমিটি ও সুইট বাংলাদেশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ২০১৩ সালে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ও সমাজসেবা অধিদফতরকে অবহিত না করে গোপনে ছয় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। শিক্ষক বকুল হোসেন ১৯৮৮ সালে ৮ম শ্রেণী পাসের সনদ দিয়ে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর পদে যোগদান করেন। ২০১০ সালে সরকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়। এ সময় বকুল হোসেন এসএসসি পাসের সনদ দিয়ে শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। কিন্তু তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে এসএসসিতে অংশগ্রহণ করে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। ইলমুন নাহার ২০০২ সালে শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে খলিলগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে তৃতীয় বিভাগ নিয়ে এসএসসি পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন কাউনিয়া ডিগ্রী মহাবিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় বিভাগে ১৯৯১ সালে। তার চাকরিতে যোগদানের পূর্বে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র চাওয়া হয়নি। তিনি নিয়োগের জন্য আবেদন করেন ২৩ মে ২০০২ সালে কিন্তু একই বছরের ১৪ জুলাই তাকে নিয়োগ পত্র প্রদান করেন সাধারণ সম্পাদক। চাকরিতে যোগদানের পর এইচএসসি’র সনদপত্র জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০০৭ সালে উন্মুুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে জিপিএ-২.৮৫ নিয়ে এইচএসসি-পাসের সনদপত্র জমা দেন। অপরদিকে সরকারী বিধি তোয়াক্কা না করে ৩০ নবেম্বর ২০১৩ সালে সাদা কাগজে দরখাস্ত আহ্বান করে প্রতিষ্ঠানের নোটিস বোর্ডে দেয়া হয়। যেখানে একটি শিক্ষক পদ ফাঁকা থাকলেও বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় শিক্ষকসহ ছয় পদের জন্য। এই ছয়টি পদে ছয়জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩০ লাখ টাকা বাণিজ্যের বিনিময়ে। নিয়োগকৃতরা হলেন, আমিনুল ইসলাম জুনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর, নাসরিন আকতার জুনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে ১ জুলাই ২০১৪ সালে, জুনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে নাজমা বেগম একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর, জুনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে শামীমা খাতুন চলতি বছরের ২৭ আগস্ট যোগদান করেই দশ মাসের বিএসএড প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় রয়েছেন। এছাড়াও ভ্যানচালক কাম পিয়ন পদে জীবন চন্দ্র গত ১ ফেব্রুয়ারি এবং খাদিজা আকতার ১০ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন।

জেলা প্রশাসক খান নুরুল আমিন জানান, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের জাল সনদ ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বগুড়ায় এতিমখানার তিন শিশুকে নির্যাতন

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ ধুনটের শৈলমারী এতিমখানার তিন শিশুকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে সংলগ্ন মাদ্রাসার হাফেজ শাখার শিক্ষার্থী। শিশুদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আহত শিশুরা হলো-সদরের বেলকুচি গ্রামের রাকিব হোসেন (৮), নলডাঙ্গা গ্রামের সাব্বির হোসেন (৭) ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সজিব (৮)।

সূত্র জানায়, শুক্রবার ছুটি থাকায় ওই তিন শিশু গোসলের আগে হাঁটু পানির থাকা পুকুরে মাছ ধরতে নেমেছিল ও পানিতে ছুটোছুটি করে খেলছিল। এই ঘটনার পর এতিমখানার হাফেজ শাখার শিক্ষার্থী মোত্তালিব তাদের ডেকে কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। শিশুদের পা ও পিঠ জখম হয়। এতিমখানার প্রধান হুজুর আব্দুল হালিমের অনুপস্থিতিতে ছোট হুজুর হিসাবে পরিচিত আব্দুল মোত্তালিব কেন শিশুদের পিটিয়ে আহত করল এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। আহত শিক্ষার্থীরা জানায় বড় হুজুর প্রায়ই থাকে না।

তখন ছোট হুজুর ক্লাস নেয়, কথায় কথায় পেটায়। এই ঘটনায় প্রধান হুজুর আব্দুল হালিমের কথা- শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময়ে শিশুদের দেখার দায়িত্ব দিয়েছিলন আব্দুল মোত্তালিবকে। কিন্তু পেটাতে বলেননি। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর সোমবার ওসি জানান, অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

এই মাত্রা পাওয়া