২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় সাতক্ষীরায় বাবা-ছেলেকে পিটিয়েছে হিসাব রক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের পাওনা টাকার চেক না পেয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় ঠিকাদার বাবা-ছেলেকে স্টিলের স্কেল দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষক কাজী মিজানুর রহমান। সোমবার বেলা ২টার দিকে সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষকের রুমে ঘটে এ ঘটনা। আহত ঠিকাদার আমানত মল্লিক ও ছেলে আসাদুজ্জামান রনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় হিসাব রক্ষক কাজী মিজানুর রহমানকে আসামি করে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদ শেখ সোমবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জনকণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদুর রহিম তাঁর অফিসে ঠিকাদার লাঞ্ছিতের ঘটনাটি দুঃখজনক মন্তব্য করে বলেন, এ ঘটনা তদন্তের জন্য একজন এ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্টের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

খুলনার খালিশপুরের মুজগুনি এলাকার আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমানত মল্লিক সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে এলজিইডির হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেন। বিভিন্ন সময়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ৮০ লাখ টাকারও বেশি তাঁর পাওনা রয়েছে এলজিইডির কাছে। ১৫ দিন আগে ওই টাকার মধ্যে ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকার চেক দেয়ার কথা বলে এলজিইডির হিসাব রক্ষক কাজী মিজানুর রহমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। সোমবার ওই ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকার চেক দেয়ার কথা ছিল। ঠিকাদার আমানত মল্লিক ও ছেলে আসাদুজ্জামান রনি সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষক কাজী মিজানুর রহমানের কাছে চেক দাবি করেন। ঈদের আগে কোন চেক হবে না, হিসাব রক্ষক ঠিকাদারকে এমনটি জানালে ঠিকাদার আমানত মল্লিক হিসাবরক্ষকের কাছে ঘুষের ৮০ হাজার টাকা ফেরত দাবি করেন । ঘুষের টাকা ফেরতকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্যে ক্ষিপ্ত হয়ে হিসাবরক্ষক কাজী মিজানুর রহমান তার স্টীলের স্কেল দিয়ে ঠিকাদার আমানত মল্লিককে মারপিট করেন। এসময় তাঁর ছেলে আসাদুজ্জামান রনি প্রতিবাদ করলে হিসাবরক্ষক তাকেও আঘাত করে।