২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আওয়ামী লীগ নেতাদের চোখ এখন কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দিকে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগ নেতাদের চোখ এখন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দিকে। কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক? সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কী ওই পদে আবারও নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক করবেন, নাকি এবার সাধারণ সম্পাদক পদে দেখা যাবে নতুন মুখ? কে বাদ যাচ্ছেন, কার পদোন্নতি হচ্ছে আবার নতুন কারা দলের সর্বোচ্চ এই নীতিনির্ধারণী ফোরামে নাম লেখাচ্ছেন- ইত্যাদি প্রশ্ন ও কৌতূহল এখন আওয়ামী লীগের প্রবীণ-নবীন নেতাদের মুখে মুখে। নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরই বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ তিন বছর পূর্ণ হবে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২০তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল শেষ করতে চায় উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও পুরনো এই রাজনৈতিক দলটি। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে স্পষ্টভাবে ডিসেম্বরেই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশের পরই নড়েচড়ে বসেছে দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা। সে মোতাবেক কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতির কাজও শুরু হয়েছে। ঈদের পরই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির পর্ব শুরু হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দল গুছানোর কাজ শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেজন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের ৭১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৫টি জেলার সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সম্মেলন শেষ হলেও অনেক জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি যেমন গঠন করা যায়নি, তেমনি বেশকিছু সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন অসম্পন্ন রয়েছে।

দলটির সাত বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে একটি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪টির মধ্যে চারটি, ঢাকা বিভাগের ২১টির মধ্যে ১১টি, বরিশাল বিভাগের ৭টির মধ্যে তিনটি, সিলেট বিভাগের একটি ও খুলনা বিভাগের একটি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন এখনও হয়নি। ঢাকা বিভাগের ২১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ১২টিতে সম্মেলন হয়েছে। দুটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে, বাকিগুলোর কমিটি নবেম্বরেই সম্পন্ন হবে। সম্মেলন না হওয়া জেলাগুলো ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্মেলন হবে বলে দাবি করেছেন ওই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা।

এসব কারণে আগামী ডিসেম্বরের আগেই সব জেলার সম্মেলন সম্পন্ন এবং প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কারও কারও মনে রয়েছে সংশয়। দলটির সাত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা অবশ্য দাবি করছেন, সুনির্দিষ্ট সময়ের আগেই সব জেলা ও মহানগরের সম্মেলন শেষ হবে, প্রতিটি জেলা ও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নামও ঘোষণা করা হবে। ঈদের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক করে অবশিষ্ট মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি টিম গঠন করা হবে। এসব টিম পৃথক বৈঠক করে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ও মহানগরের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করবেন এবং উপস্থিত থেকে সম্মেলন শেষ করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নবীন ও প্রবীণ নেতাদের কাছে জেলা সম্মেলনের চেয়ে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দিকেই মনোযোগ বেশি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অফিস, বাসা-বাড়িতে একই আলোচনা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এবার কারা আসছেন? সভাপতিম-লী, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, নাকি সামান্য কিছু রদবদল হবে, এ নিয়ে গুঞ্জন-আলোচনা এখন সব পর্যায়ের নেতাদের মুখে মুখে।

বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে দলীয় গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। সময়ের চাহিদার তাগিদে এবং প্রয়োজনীয়তার নিরিখে কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লী, সভাপতিম-লী, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সংখ্যার কলেবর বাড়ানো হচ্ছে, এমন গুঞ্জন রয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে।

দলীয় সূত্রগুলো মনে করছে, আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে বর্তমান ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কলেবর বৃদ্ধি করে ১০১ করা হতে পারে। ময়মনসিংহসহ নতুন কয়েকটি বিভাগ ঘোষণার কারণে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এছাড়া দলের নিষ্ক্রিয় ও বয়সের ভারে ন্যুজ একাধিক সভাপতিম-লীর সদস্যকে সরিয়ে বেশ ক’জন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে রাজনীতিতে সক্রিয় বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের দু’একজনকে সভাপতিম-লীতে দেখা যেতে পারে। সম্পাদকম-লীর দু’একটি পদ বৃদ্ধিসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে বেশ কয়েকজন সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় উপ-দফতর সম্পাদক এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপিসহ ক’জন কেন্দ্রীয় নেতা জনকণ্ঠকে বলেন, ডিসেম্বরে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী মাস থেকে প্রস্তুতির কাজ শুরু হবে। এখন তো ঈদের ব্যস্ততা চলছে। পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা ছাড়াও বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হবে। তখনই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।