১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যামেরনের কুকীর্তি নিয়ে চুপ ডাউনিং স্ট্রিট

অনলাইন ডেস্ক ॥ কলেজ জীবনে একটু আধটু উচ্ছৃঙ্খল কে না হয়! তা সে নেশা করাই হোক বা বেপরোয়া কোনও অন্য ধরনের কাজ। আর পাঁচ জনের মতো তিনিও সে সব করেছেন। সেই স্মৃতি খুঁড়ে কেউ কি আর বেদনা জাগায়!

তিনি সাধারণ কেউ হলে হয়তো কিছু হতো না। তবে কলেজ জীবন পেরিয়ে ব্রিটেনের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার পরে তো সেই অঙ্ক আর খাটে না। হয়েছেও তাই। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্র হিসেবে ডেভিড ক্যামেরন় যা যা ‘কুকীর্তি’ করেছেন, তার অনেক কিছুই ধরা পড়েছে একটি নতুন বইয়ে। যা প্রকাশ্যে আসার পরে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। ডাউনিং স্ট্রিট অবশ্য গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে।

‘কল মি ডেভ: দ্য আনঅথরাইজড বায়োগ্রাফি’ নামে সেই বইটি লিখেছেন কনজারভেটিভ পার্টির প্রাক্তন ডেপুটি চেয়ারম্যান লর্ড অ্যাশক্রফট। বইয়ে দাবি করা হয়েছে, পিয়ার্স গেভসটন সোসাইটি নামে একটি ‘খতরনাক’ দলের সদস্য ছিলেন ক্যামেরন। কুখ্যাত বুলিংডন ক্লাবেও নাম লেখানো ছিল তাঁর। অক্সফোর্ডে ক্যামেরনের সমসাময়িক আর এক ছাত্রের কাছ থেকে (যিনি নিজেও এখন এমপি) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সেই ‘রঙিন’ দিনগুলোর কথা জানতে পেরেছেন লেখক।

ক্যামেরনের ‘কুকীর্তির’ বর্ণনা ফলাও করে লেখা হয়েছে বইয়ে— ক্যামেরন নাকি নিজের গোপনাঙ্গ মৃত শুয়োরের মুখের ভিতরে ঢুকিয়েছিলেন। সেই কাজের ছবিও ছিল বলে দাবি। লন্ডনে নিজের বাড়িতে তিনি কোকেনও আনাতেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্ররা এ ব্যাপারে নীরব। তাঁরা শুধু ‘নো কমেন্টস’ বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। বাকিরা মনে করছেন, এ সবই দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্যামেরনকে কলুষিত করার চক্রান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ে তিনি মাদক সেবন করতেন কিনা, এর আগেও এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে ক্যামেরনকে। সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করে তিনি শুধু বলেছিলেন, ২০০১ সালে এমপি হওয়ার পর থেকে তিনি আর কখনও মাদক নেননি। ২০০৫ সালে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হওয়ার পরে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘অতীতের যা কিছু ব্যক্তিগত, তা ব্যক্তিগত থাকাই শ্রেয়।’’ ২০০৭ সালেও তাঁর একটি জীবনীতে দাবি করা হয়েছে: এটনে পড়ার সময়ে বছর ১৫-র ডেভিডকে এক বার ভাং-এর নেশার দায়ে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই জীবনী প্রকাশের পরে ক্যামেরনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কনজারভেটিভ নেতা জর্জ অসবোর্ন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ডেভিড তো ওই তথ্য অস্বীকার করেননি। তবে নেতারা যৌবনে কী করেছেন-না করেছেন, তা নিয়ে আম জনতা ভাবিত নয়।’’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা