১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিলে তিলে সেজে উঠুন

তিলে তিলে সেজে উঠুন

অনলাইন ডেস্ক ॥ পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে কথা উঠলে প্রথমেই মনে হয় কী ভাবে সাজাবেন আপনার ওয়ার্ড্রোব। পুজোর জামা কাপড়ের দুটো ভাগ। এক দিকে যে সব সাজপোশাক আপনি আত্মীয়দের কাছ থেকে পেলেন সেগুলি। অন্য দিকে যে সব সাজ আপনি নিজের জন্য কিনবেন সেগুলি। এখন চারিদিকে নানা প্রদর্শনী হচ্ছে। সেই সব প্রদর্শনীতে ডিসকাউন্টও প্রচুর। অপশন অনেক। বেছে নিন কী ধরনের ডিসকাউন্টের জিনিস আপনি কেনাকাটা করবেন।

কেনাকাটার ব্যাপারটাই উৎসবের মরসুমের সব চেয়ে উত্তেজক। মহালয়া থেকে পুজোর পাঁচদিন কী ভাবে সাজবেন তা নিয়ে প্রস্তুতি নিন আগে থেকেই।

আবহাওয়া যে পুজোর সময় খুব সুন্দর থাকে তা নয়। কখনও ভ্যাপসা গরম, কখনও বা স্যাঁতসেতে। পায়ের নখ থেকে মাথার চুল থেকে শরীরের ত্বক সবেরই যত্ন নিতে হবে এমন ভাবে যাতে পুজোমণ্ডপে আপনাকে সকলের থেকে আলাদা লাগে। এই সময়টা অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, নতুন বন্ধুও তৈরি হয়। এইরকম এক মেলবন্ধনের সময় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করাটা একান্তই জরুরি।

মাত্র কয়েক দিন বাকি আর পুজোর। এই সময়টা বেশ কয়েকবার পার্লারে যাবেন অবশ্যই। পেডিকিওর, মেনিকিওর, ফেশিয়াল করাবেন নিয়মিত। এই ধারাবাহিক যত্নই আপনাকে পুজোর সময় তিলে তিলে সুন্দর করে তুলবে। ফেশিয়াল ছাড়াও মুখে ব্যবহার করুন ঘরোয়া টোটকা। বেসন, গোলাপ জল, দই, চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে লাগান। চোখ যাতে ফোলা ফোলা না লাগে সেইজন্য শশা চাকা চাকা করে কেটে চোখে লাগান। ত্বক সতেজ রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে জল খান। খেতে পারেন অন্যান্য পানীয়ও।

চুলের স্টাইল কেমন হবে পুজোর সময় সেটা আগে থাকতেই প্ল্যান করে নিন। হঠাৎ করে পার্লারে গিয়ে চুল কেটে ফেলবেন না। তার কারণ কোনও দিন আপনি হয়তো চান ঢিলেঢালা হাতখোঁপা করতে আর কোনও দিন চান ফ্যান্সি চুলের স্টাইল উঁচু করে বাঁধা। এ দুইই যদি সমান ভাবে করতে চান তা হলে হঠাৎ করে ছোট করে চুল কেটে ফেলা চলবে না। ভ্যাপসা আবহাওয়ায় পুজোর সাজের সঙ্গে ভাল লাগে দেখতে বান খোঁপা অথবা ফ্রেঞ্চ রোল। বান বা ফ্রেঞ্চ রোল করলে গয়নাকাঁটা চুলে গুঁজতে পারেন। লাগাতে পারেন ফুলও। তা না হলে করুন পনি টেল।

পুজোর সময় কখনই বেশি মেক আপ করবেন না। কারণ ভ্যাপসা গরমে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়। গরমের মধ্যে মেক আপ বেশি করলে ঘাম হওয়ার অসুবিধে তো আছেই। রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখার সময় মেক আপ গলে যাবার আশঙ্কা থাকেই। চলাফেরার সময় ব্যাগে তাই কম্প্যাক্ট, কাজল আর লিপস্টিক রাখুন।

পুজোর পোশাকে খুব ভারি সিল্ক কিংবা ব্রোকেড না থাকাই ভাল। আমাদের ভ্যাপসা আবহাওয়ায় যেমনটা মানানসই তেমন মেটিরিয়ালের কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক পরুন। ফুলিয়া-বেগমপুর থেকে আনা টাঙ্গাইল শাড়ি বা ধনেখালি পরতে পারেন। পরতে পারেন এমব্রয়ডারি করা জর্জেট, গোটা কাজের শাড়ি এবং ভারতের যে কোনও রাজ্যের হাতে বোনা শাড়ি। দক্ষিণ ভারতের প্রিন্টেড তসর এখন খুব চলছে—তাও পরতে পারেন। পুজোয় শাড়ির রেঞ্জ সীমাহীন। ওয়েস্টার্ন আউটফিট পরতে হলে একটু দেখেশুনে পরবেন। উৎসবের ঐতিহ্যের সঙ্গে যায় এমন পোশাক পরুন। ঘেরওয়ালা আনারকলি পরতে পারেন। উৎসবের মরসুমের সঙ্গে ম্যাচ করে।

সাজপোশাক বা রূপটানের প্রস্তুতি ছাড়াও মানসিক প্রস্তুতিরও প্রয়োজন আছে। অসুরের সঙ্গে যুদ্ধে মা দুর্গার জয়ের মহিমা যেন আপনার মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি সেই অনুসারে বদলান।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা