১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কনকর্ডের ভবন এতিমখানাকে দেয়ার নির্দেশ বহাল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার জায়গায় আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের তৈরি ১৮ তলা ভবন এতিমখানাকে হস্তান্তরের নির্দেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ ভবন ও সম্পত্তি এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতেও বলা হয়ছে। চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মাদ ইমান আলী মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। কনকর্ডের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জারি করা এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ চার দফা নির্দেশনা দিয়ে এ রায় দেন। ওই রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে মঙ্গলবার কনকর্ড কর্তৃপক্ষ একটি আবেদন করলে শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি ‘আউট অব লিস্ট’ অর্থাৎ হাইকোর্টর রায়ই বহাল থাকল বলে আদেশ দেন।

এর আগে মনজিল মোরসেদ জানিয়েছিলেন, ১৯০৯ সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ এতিমখানা স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে সরকারের কাছ থেকে কর্তৃপক্ষ এতিমখানা সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় জমি লিজ নিয়েছে। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই এতিমখানার সভাপতি শামসুন্নাহার ও সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট জি এ খান আহসান উল্লাহ এতিমখানার দুই বিঘা জমি ডেভেলপার কোম্পানি কনকর্ডের কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে এতিমখানার সম্পত্তি অবৈধ হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ পায়। পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তা সংযুক্ত করে চারজন ছাত্রের পক্ষে রিট পিটিশন দায়ের করেন মনজিল মোরসেদ। পরবর্তীতে ওই রিট পিটিশনে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) পক্ষভুক্ত হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, এতিমখানার সম্পত্তি সরকারে কাছ থেকে লিজ নেওয়া হয় এবং লিজ চুক্তিতে এতিমখানার সম্প্রসারণের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয়। শর্ত ছিল প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো কাজে জমি ব্যবহার করা যাবে না। তার পরও এতিমখানার সভাপতি ও সেক্রেটারি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হয়ে এতিমখানার সম্পত্তি কনকর্ড গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।