২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘুরে এলাম বিপ্লবী বাঘা যতীনের আত্মবলিদান ভূমি (২য় পর্ব)

ঘুরে এলাম বিপ্লবী বাঘা যতীনের আত্মবলিদান ভূমি (২য় পর্ব)

৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, চাঁদিপুর সীবিচ, ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়

লিটন আব্বাস ॥

৯ সেপ্টেম্বর খুব ভোরে সবাই তৈরী হয়ে আমাকে তারা দিচ্ছে তৈরী হওয়ার জন্য্। কে একজন বললো যেনো মজনু চাচা তৈরী। হক আংকেল, না রাশেদ সবাই এসে আমাকে নিয়ে যাবার তাগিদ অনুভব করায় একলাফে উঠে বাথরুমে গিয়ে স্নান শেষে পুরো তৈরী হয়ে ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে গিয়ে ছবি তোলা, অপে¶া করা, আড্ডা দেয়া। রাশেদ, শহীদুল, হামিদুল ওরা কোত্থেকে যেনো চায়ের বন্দোবস্ত করে ফেললো। বাসী পেটে দুধ-চা গিললাম। বিস্কুটও এসে গেলো। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জলযোগে এসব তাৎক্ষনিক আমাদরকে আপ্যায়িত করলেন। বাস আর আসেনা। সাতটা বেজে সারা। অর্নব নাগকে ফোন করি। আমাদের সাথে এসে দেখা করেন উড়িষ্যার বালাশোরের এডভোকেট প্রসন্ন কু পাহাড়ি, লেকচারার রমেশ চন্দ্র বেহেড়া, ঠাকুর রনজিত রয় । আটাটার কিছূ আগে আমাদের সবসময় তাড়া দেয়া রুবেল ও পরাগ এবার সবচে দেরী করে চলে আসলো। বাসও এসে গেলো। ড্রাইভার সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে বাস দেরী করলো। একে একে সবার অসুস্থতার পালাপর্বন সাথে সাথে পাল্রা দিয়ে ছুটলো। এবার যাওয়া চাঁদিপুর বীচ ও পান্থনিবাসে লুচি নাস্তা খাওয়া এবং দেখা। আমরা চলে যেতে থাকি বিচের দিকে। অনেকদূর যেতে দেখলাম ভারতের প্রয়াত প্রাক্তন রাস্ট্রপতি এপিজে কালাম সাহেব সেই গ্রামের মধ্যে বিজ্ঞান গবেষনাগার খুলে এলাকাটাকে আলোকিত করেছেন। যেতে যেতে রাস্তার দুপাশে সবুজ বনানী। কেয়াফুলের চাউমি। মন্ত্র মুগ্ধ হয়ে আমরা দেখতে থাকি দুরন্ত বাসের গতির সাথে পাল্রা দিয়েই। একসময় চাঁদিপুর বীচ এ পৌঁছালাম। বাস থেকে নেমে দেখি জল দ্রূত সরে যাচেছ। যে যার মত দৌড়। জল সরে যাবার কারণে সবাই বীচে নেমে ছবি তুলতে থাকে। আমিও সে কাজে পিছনে খুব একটা পড়িনি। এসব দেখে পান্থনিবাসে নাস্তার পালা। আমাদের সাথে ছিলেন কলকাতা ও বালাশোরের আটজন গাইড বন্ধু। তারা পরম আদরে আমাদেরকে সবকিছূ বুঝিয়ে দিচ্ছেন। সবরকম সহযোগিতা করছেন। কারোর কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা সবসময় খবর রাখছেন। লুচি-আলুর দম খেতে খেতে অনেক মজার আড্ডা হলো-কথা হলো। কে কয়টা লুচি খেতে পারে। মজনু চাচা আবার লুচিটা একটু বেশিই খায়। কেউ বোধ হয় কম খায়নি। আমাদের সাথে মাত্র দুজন মহিলা প্রতিনিধি মেরী ও হোসনেয়ারা ম্যাডাম কম যায়না সমানে পাল্লা মারে। হক আংকেল বেছেকুছে খায়। কয়া ৫জন আবার বাদ থাকে নাকি। শহীদুল ভাই, হামিদুল ভাই বেশ খায়। লতিফ বেছে কুছে খায়। প্রথম থেকেই সে অসুস্থ। আর ৮১ বছরের তরুন জালাল মামাটা তো একেবারে এখনো হিরো হাসিয়ে পাগল করে দেয় আমাদের। নাস্তা সেরে ডাবল হিটের চা খেয়ে আবার যাত্রা শুরু। বেলা এগারটায় ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপ্লবী বাঘা যতীন মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে সেমিনার হবে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে। তার আগেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী ভবনের দ্বিতীয় তলায় সেমিনার কক্ষে পৌঁছে গেলাম। নমনীয় অভ্যর্থনা পেলাম সেখানে। ব্রিটিশ বিরোধী যুগান্তরের নেতা ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতার সূর্য সন্তান অগ্নিযুগের মহানায়ক বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) স্মরণে সেমিনারের আয়োজন করেন বিশ্ববিদালয় কর্তৃপক্ষ ঠিক বেলা এগারটায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি ও বাঘা যতীন মৃত্যুশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শাহরিয়ার কবির, সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজের অধ্যাপক বিমল শংকর, ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল স্টাটিজ এন্ড কালচারাল, ভারত এর সম্পাদক অরিন্দম মুখার্জী প্রমুখ। শুরুতে উড়িয়ার কবি ফকির মোহন এর প্রতিকৃতিতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালান অতিথিবৃন্দ। উড়িয়ার প্রথ্যাত কবি ফকির মোহন সেনাপতির অস্তিত্ব বহাল ও বিদ্যমান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে আমাদেরকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেন..

সংস্কৃতি অধ্যায়ে এটি আমাদের জন্য-দেশের জন্য এক গৌরবের বিষয়। তারা আমাদেরকে যেভাবে সম্মাননা জানিয়েছেন সত্যিই পরম মমতায় পূর্ণতৃপ্তির তপ্ত রসদ নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে দুপুরের লাঞ্চের জন্য আবার নসিতে। সেখানে লাঞ্চ শেষ করে এবার কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা। ঠিক দুটোর পরে আমরা সবাই ছুটে চললাম কলকাতার দিকে। আসতে আসতে পশ্চিম মেদিনীপুরের এটা টং দোকানের চা পান করছিলেন শাহরিয়ার কবির, কাজী মুকুল ও কলকাতা থেকে আসা প্রফেসর বিমল শংকর। আমরাও ট্রাভেল বাস তাদের গা ঘেষে লাগিয়ে দিয়ে নেমে পড়ি চাচক্রে যোগ দিই। সেখানেও ফটোশ্যূট যথারীতি। চা খেয়ে আবার ছুটে চলা। এবার কোলাঘাটে পৌছে আর এক্সপ্রেস ফুড প্লাজায় না যেয়ে একটু দূরে শেরেপাঞ্জার হোটেলে পাকুড়া, চিকেন প্যাকেট নিয়ে বাসের মধ্যে যেতে যেতে খাওয়া আর আড্ডা দিতে দিতে দমদম এয়াপোর্ট পার হয়ে বিগবাজারের বিপরীতে হোটেল অতিথি ইনে যখন আসি রাত সাড়ে দশটার মতো। সবাই রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নিচে লবিতে এসে রাতের ডিনার খেয়ে ক্লান্ত শরীরে কিছু¶ন আড্ডায় দিয়ে যার যার রুমে। সবার চোখে মুখে ঘুমভাত। (চলবে)

লেখক ॥ কলামিস্ট, নাট্যকার