২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গরুর হাট জমজমাট

গরুর হাট জমজমাট
  • রাজধানীর ২৩ কোরবানির পশুর হাটেই দেশী গরুর আধিক্য সঙ্কটের আশঙ্কা নেই

রহিম শেখ ॥ একদিন বাকি মাত্র। দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। মুসলমান সম্প্রদায়ের এ উৎসবের মূল অনুষঙ্গ পশু কোরবানি। আর তাই গরু-ছাগল, মহিষ ও উটসহ কোরবানির সব পশুর আগমনে জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর সব হাট। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হাটগুলোতে পা ফেলার যেন জায়গা নেই। একই সঙ্গে বৃষ্টি, কাদায় ও গরুর বর্জ্যে মাখামাখি নগরির সব হাট। মঙ্গলবার সকালের বৃষ্টি স্রোতে খুব বেশি ক্রেতার দেখা না মিললেও বিকেলে চোখে পড়েছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। সন্ধ্যার পর নগরীর অধিকাংশ হাটেই ক্রেতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বিক্রি নিয়ে খুব বেশি সন্তুষ্টির কথা শোনাতে পারলেন না বিক্রেতারা। আজ থেকে ক্রেতার সংখ্যা ও বিক্রি দুটোই বাড়বে বলে আশা করছেন ইজারাদার ও ব্যাপারীরা। তবে এবার গরু আমদানি বেশি হওয়ায় দাম শেষ পর্যন্ত কমতির দিকে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেক ক্রেতাই। অনেকে আবার বলছেন, গতবারের তুলনায় পশুর দাম অনেক বেশি। তাই বিক্রির পরিমাণ খুব বেশি বাড়ছে না। তাই শেষ পর্যন্ত কোরবানির পশুর দাম কমবে না বাড়বে তাই দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।

এবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৩টি পশুর হাট বসেছে। এ বছর কোরবানির হাটে ভারতীয় গরুর আধিপত্য কাটিয়ে দেশী গরুর জয়জয়কার। ছোট, মাঝারি, বড়সহ সব ধরনের দেশী গরু বাজারজুড়ে ছড়িয়ে আছে। ভারতীয় গরু আসবে না, সেজন্য গরুর দাম বেশি হবে এমন আশায় নিজ উদ্যোগে রাজধানীতে গরু নিয়ে এসেছেন অনেক খামারি। দেশের প্রতিটি মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিনই গরু আসছে। ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানের গরুও দেশে ঢুকছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজধানীর হাটগুলোতে যে পরিমাণ গরু আসছে, তাতে সঙ্কট তো হবেই না বরং প্রত্যাশার তুলনায় এখনই গরু বেশি। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন পশু হাট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ হাটেই গরু রাখার নির্দিষ্ট জায়গা পূরণ হয়ে গেছে। ফলে আশপাশের সড়ক ও খালি জায়গা দখল করছেন ব্যাপারীরা। কোরবানির পশুতে ভরে গেছে সব হাট। তারপরও ট্রাকভর্তি গরু আসছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। এছাড়া নদীপথে ট্রলারেও গরু-ছাগল ও মহিষ ঢুকছে রাজধানীতে। দুপুরে বৃষ্টির মধ্যেও অধিকাংশ হাটে কোরবানির পশুর ট্রাক ঢুকতে দেখা যায়। এদিকে এবার কোরবানির পশু ওঠায় ইজারাদাররা খুশি থাকলেও বেপারিরা স্বস্তিতে নেই। বরং আমদানি বেশি হওয়ায় তারা কিছুটা চিন্তিত। এর মধ্যে আবার অবিরাম বৃষ্টির ভয়। গেল রবিবার প্রথম বৃষ্টিতে ভেসে যায় হাট। তার রেশ ছিল সোমবারও। মঙ্গলবার সকাল থেকে দু’দফা বৃষ্টিতে কাদাপানিতে একাকার নগরীর সব হাট। বৃষ্টি, কাদায় ও গরুর বর্জ্যে হাটের অবস্থা যাচ্ছেতাই। গরুর পায়ের তলায় কাদা, রাস্তায় কাদা। এর মধ্যেই ক্রেতা আসছেন। নগরীর গাবতলী, আগারগাঁও, তালতলা, শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মৈত্রী সংঘের মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ মাঠসহ সব হাট কোরবানির পশুতে পূর্ণ। কোন কোন হাট নির্দিষ্ট সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। অস্থায়ী হাট চলে এসেছে মূল সড়কে। গাবতলীর মূল হাট ছেড়ে ট্রাকস্ট্যান্ডসহ আশপাশের সড়কের পাশে গরু রাখা হয়েছে। গাবতলী হাটের প্রবেশমুখেই গরু বিক্রি করতে দেখা গেছে। আগারগাঁও হাটের গরু চলে এসেছে শেরেবাংলা নগর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের প্রবেশমুখের সামনে। রাজধানীর অন্যান্য অস্থায়ী হাটের সঙ্গে মিশে গেছে অবৈধ হাট। রাজধানীতে যেভাবে গরু আসছে তাতে অধিকাংশ হাট আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। অধিকাংশ হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলছেন, এ বছর বাজারের চরিত্র বোঝা যাচ্ছে না। প্রথম কয়দিন ধারণা করা হচ্ছিল এবার গরুর দাম বেশি হবে। কিন্তু যে হারে কোরবানির পশু রাজধানীতে আসছে তাতে শেষ পর্যন্ত দাম কিছুটা কমতির দিকে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার সরেজরিমন গাবতলী হাটে গিয়ে দেখা যায়, এ হাটে অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, ভারত, ভুটান, পাকিস্তানীখ্যাত গরু আনা হয়েছে। তবে এ হাটে দেশী জাতের গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে ভারতের রাজস্থান, অসম, তামিলনাড়ু ও হরিয়ানা রাজ্য থেকেও কিছু গরু এসেছে। এসেছে ভারতীয় উটও। এ হাটের পরিচালনা কমিটি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ বুধবার থেকে পুরোদমে জমে উঠবে বেচাকেনা। চলবে ঈদের আগের রাত অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। গরুর বেপারিরা বলছেন, এবার ভারত থেকে কোরবানির পশু আমদানি কম হলেও দেশীয় গরু এসেছে অনেক। প্রতিটি হাটেই প্রচুর পরিমাণে কোরবানির পশু এসেছে। সে তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম বলে জানান তারা। গাবতলী হাটে পাবনা থেকে ১৬টি গরু নিয়ে এসেছেন হাবিবুর রহমান ও তার সঙ্গীরা। স্বাস্থ্যবান একটি গরুর দাম চাচ্ছেন দেড় লাখ টাকা। কিন্তু ক্রেতা বলছেন ৭৫ হাজার টাকা। এতে বিরক্ত তিনি। অর্ধেক দাম বলা মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, এলাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনে এনেছি। ঢাকায় আনতে ট্রাক ভাড়া গরুপ্রতি তিন হাজার টাকা। আর বাড়িতে ১৫ দিন ও ঢাকায় কয়েকদিন রেখে আরও দুই হাজার টাকা খরচ। লাভ করতে অন্তত লাখের ওপর বেচতে হবে। কিন্তু ক্রেতা দাম বলছেন অনেক কম। গত তিন বছর লস হয়েছে। এবার সেটা পুষিয়ে নেয়ার আশা করছি। কিন্তু ক্রেতা গত বছরের মতো কম দামে কিনতে চাচ্ছে। এটা এবার সম্ভব হবে না। আর বিক্রেতা বলছেন, দাম চাওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। এ রকম দাম চাইলে ছোট গরু কিনতে হবে। এ হাটে গরু বিক্রি করতে আসা কুষ্টিয়ার ব্যাপারী সোনাই মিয়া জনকণ্ঠকে বলেন, এবার তিনি ৬টি গরু নিয়ে এসেছেন। প্রতিটি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। ইতোমধ্যে একটি গরু দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। বাকিগুলো কম দামে বিক্রি করতে রাজি নন সোনাই মিয়া। এ বছর গরুর দাম বেশি হওয়ায় একটি মাঝারি সাইজের গরু কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা। তবে মোটাতাজা একটি গরুর দাম প্রকারভেদে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা হাঁকাচ্ছেন ব্যাপারীরা। এরমধ্যে সবচেয়ে স্বাস্থ্যবান গরুর দাম ৫ থেকে ১২ লাখ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। গাবতলী হাটে ইতোমধ্যে একটি গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। ভারতের রাজস্থান থেকে নিয়ে আসা গরুটি হাটের সবচেয়ে বড় ও দামী গরু হিসেবে দাবি করছেন ব্যাপারী রইস ও সিরাজুল। বড় আকারের এ গরু থেকে ৩০ মণ মাংস পাওয়া যাবে বলে জানান গরুর এই দুই মালিক। এবার ক্রেতার আগ্রহ বেশি দেশীয় গরু কিনতে। দেশীয় গরু কেনার চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরাও বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন। আমিন উদ্দিন নামের এক ক্রেতা জনকণ্ঠকে জানান, কোন গরুর দাম ৭০ হাজার টাকা হলেও তা থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি চাইছেন ব্যাপারীরা। মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুরের বাসিন্দা মুজিবর রহমান মাঝারি আকারের একটি গরু কেনেন ৮০ হাজার টাকায়। কল্যাণপুরের মনির হোসেন কেনেন সাড়ে ৬৮ হাজার টাকায় একটি মাঝারি আকারের গরু। শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বড় আকারের দুইটি গরু কেনেন ৬ লাখ টাকায়। গাবতলী হাটে ছাগল বিক্রিও হচ্ছে যথেষ্ট। ৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা দামের ছাগলের বিক্রি হচ্ছে বেশি। রাজধানীর গাবতলী হাট কমিটির সদস্য রাকিব ইমরান জনকণ্ঠকে জানান, বৃষ্টির কারণে বাজার পুরোপুরি জমে উঠছে না। এবার গরু আমদানি বেশি হওয়ায় জাগয়া সঙ্কুলান করতে পারছি না। দিনরাত গরু বোঝাই ট্রাক আসছে এ হাটে।

আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম এলাকার খামারি আবুল হোসেন রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আফতাবনগর হাটে পাঁচটি গরু এনেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের। দাম চাচ্ছেন ১৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া দেশী জাতের দুটি গরু এনেছেন। এর মধ্যে বড়টি ১০ লাখ এবং ছোটটি ছয় লাখ টাকা চাচ্ছেন। ভারতীয় হরিয়ানা জাতের আরেকটি গরু রয়েছে তার। এর দাম চাচ্ছেন পাঁচ লাখ টাকা। ক্রেতা বড়টির দাম সাড়ে আট লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছেন বলে তিনি জানান। তবে গরুগুলো দেখতে জনতার ভিড় লক্ষ্য করার মতো। অনেকে হাতে স্পর্শ করছেন, কেউ কেউ মুঠোফোনে ছবিও তুলে নিচ্ছেন। এ হাটে দুটি খাসি কিনলে একটি ভেড়া ফ্রি! এমন ঘোষণা দিয়ে খাসির উচ্চমূল্য হাঁকাছেন এক বিক্রেতা। একজোড়া খাসির দাম চাচ্ছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ‘দুই খাসি কিনলে একটা ভেড়া ফ্রি!’ হাঁকডাক দিয়ে উচ্চৈস্বরে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছেন ওই বিক্রেতা। তাতে সাড়াও মিলছে ব্যাপক। আফতাবনগর হাটের অদূরে রামপুরা খালের বিপরীতে সিটি কর্পোরেশনের মেরাদিয়া পশুহাট ঘুরে দেখা যায়, এ হাটে পশুর তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। অল্পসংখ্যক ক্রেতা এসেছেন, দরদাম করছেন। তবে দামের সঙ্গে মেলাতে পারছেন না। কুষ্টিয়া থেকে শফিক হোসেন গরু এনেছেন এ হাটে। একটি গরুর দাম চাচ্ছেন এক লাখ ২০ হাজার। একজন ক্রেতা ৭৫ হাজার টাকা বললেও তাতে তার মন গলেনি। তিনি ওই দামে গরু বিক্রি করবেন না বলে জানান। রাজধানীর গোপীবাগ, কমলাপুর ও মুগদা এলাকার মানুষ পছন্দের পশু কিনতে ভিড় জমান ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাঠসংলগ্ন গবাদিপশুর হাটে। কমলাপুর, গোপীবাগের প্রধান রাস্তা ছাড়াও এ এলাকার গলিপথে বসেছে গরুর হাট। এর মধ্যে গোপীবাগের রেলক্রসিং সংলগ্ন শ্রমিক লীগের কার্যালয়ের সামনের ছোট জায়গায় কয়েক শতাধিক ছাগল বিক্রি করতে এনেছেন ব্যবসায়ীরা। গোপীবাগের হাট ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগের চারটি হাটের তুলনায় এখানে কয়েকগুণ বেশি ছাগল আমদানি হয়েছে। কিন্তু ক্রেতার উপস্থিতি না থাকায় ব্যাপারীরা হতাশ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ হাটে শুধু ক্রেতাই নয়, দর্শনার্থীর উপস্থিতিও ছিল কম। ফলে এই হাটে আসা ছাগল ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। রংপুর থেকে ৭০টি ছাগল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন রমিজউদ্দীন। তিনি বলেন, বাজারে গরুর পরিমাণ বেশি।

এদিকে রাজধানীর বাইরেও কোরবানির পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। জনকণ্ঠের নিজস্ব সংবাদদাতা ও স্টাফ রিপোর্টাররা জানিয়েছেন দেশের কোথাও কোথাও কোরবানির পশুর হাট জমে উঠলেও আবার কোথাও বৃষ্টিতে বেচাকেনা মন্দাভাব দেখা গেছে।

চাঁপাই সীমান্তে ভারতীয় পশুর ঢল ॥ শেষ মুহূর্তে মঙ্গলবার থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গোদাগাড়ী সীমান্তপথে গরু আসা শুরু হয়েছে। এতদিন গরু আসা প্রায় বন্ধ ছিল। গোদাগাড়ী সীমান্ত পথে আসা গরু সুলতানগঞ্জ করিডর হয়ে অভ্যন্তর ভাগে যাচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের খরা কাটিয়ে সুলতানগঞ্জ করিডর আবার রমরমা হয়েছে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অঘোষিত সমঝোতার কারণেই আবারও কোটি কোটি টাকার ভারতীয় গরু-মহিষ বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসছে। সীমান্তপথে গরু-মহিষের ঢল নামাতে একশ্রেণীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চাঁদা বাণিজ্যে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। তবে চোরাইপথে এলেও এসব গরু-মহিষ প্রতি শুল্ক করিডরে রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে বৈধ করার পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গরু-মহিষ আসা বন্ধ থাকার যে খরা চলছিল তা কাটিয়ে উঠতে চোরাকারবারিরা তাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ম্যানেজ করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরাসরি নিয়ে যাচ্ছে সীমান্তবর্তী হাটসমূহে। সেখান থেকে গরু-মহিষ ট্রাকে পাঠানো হচ্ছে রাজধানী ঢাকা, চট্টলাসহ বিভিন্ন স্থানে। এসব ছোট গরু ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা দেশী বলে সার্টিফিকেট জুড়ে দিয়ে বাংলাদেশী বানিয়ে পাঠানো হচ্ছে। ফলে সরকার প্রতি ঘণ্টায় লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এ ধরনের গরু যাওয়া অব্যাহত থাকবে ঈদের দিন পর্যন্ত।

ঠাকুরগাঁওয়ে পশুর হাটে বেচাকেনা কম ॥ ঠাকুরগাঁও ও এর আশপাশ এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে অবিরাম ভারি বর্ষণ চলে। এতে রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকা পানিতে ঢুবে যায় এবং অধিকাংশ এলাকায় জনশূন্য অবস্থা বিরাজ করে। বৃষ্টির কারণে ঈদের আগে কাজ না পেয়ে প্রতিদিনের খেটেখাওয়া মানুষ হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সবচেয়ে বিপাকে পড়েন কোরবানির পশুর হাটে পশু বিক্রেতা ও ক্রেতা। শেষ সময়ে হাট-বাজারে প্রচুর পরিমাণে গরু-ছাগল আমদানি হলেও মঙ্গলবার বৃষ্টির কারণে পশুর হাট বাজার ছিল প্রায় ক্রেতা-বিক্রেতা শূন্য। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতারা পড়েন বিপাকে। এছাড়া এবার গরু কেনাবেচায় বিক্রেতা ও ক্রেতা কেউ খুশি নন। ক্রেতার অভিযোগ, দাম বেশি আর বিক্রেতার অভিযোগ, দাম তেমন একটা নেই। এ অবস্থায় নাখোশ বড় আকারের গরুর মালিক ও খামারিরা। ঠাকুরগাঁও জেলার জাদুরানী, নেকমরদ, লাহিড়ী, রামনাথ, ফাঁড়াবাড়ি, মাদারগঞ্জ, খোঁচাবাড়ি, কাতিহার ও গড়েয়া হাট মূলত পশুর বড় হাট। এসব হাটে কোরবানি উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রচুর পরিমাণে গরু আমদানি শুরু হয়। বিশেষ করে যেসব খামারি সারা বছর গরু পালন করে কোরবানির ঈদের সময় বিক্রি করে থাকেন। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও অবস্থাúন্নরা ইতোমধ্যে কোরবানির গরু সংগ্রহ শুরু করেছেন। বড় গরুর চাইতে ছোট গরুর চাহিদা বেশি এবং বিক্রিও বেশি।

ঝালকাঠিতে জমে উঠছে হাট ॥ ঝালকাঠিতে পবিত্র ঈদ-উল- আযহা উপলক্ষে জেলাজুড়ে জমে উঠেছে গরুর হাট। এ বছর গুরুর বাজারে গবাদিপশুর দাম বেশি বলে দাবি করেছে ক্রেতা, তবে বিক্রেতার দাবি গবাদিপশু লালনপালন ও খাবারের দাম বেশি হওয়ায় পূর্বের দামে গরু বিক্রি করতে পারছে না। ৪ দিন ধরে বৃষ্টিবাদল জনিত বৈরী আবহাওয়ার কারণে কেনাবেচায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। গরুর হাটের ইজারাদাররা আশা করছে, আবহাওয়া ঈদ-উল-ফিতরের পূর্বেই ভাল হবে এবং তাদের কেনাবেচা আরও জমবে। ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলার ৭৬টি সরকারী ইজারাভুক্ত হাট-বাজারের পাশাপাশি আরও কিছু স্থানে গরুর হাট বসেছে। সব মিলিয়ে শতাধিক গরুর হাটে কোরবানির পশু বেচাবিক্রি হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ৭৬টি ইজারাভুক্ত হাট-বাজার ছাড়াও ৩টি গরুর হাটের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু অনুমতিবিহীন আরও ২০-২৫টি স্থানে গরুর হাট বসেছে। ৩০ হাজার থেকে এই অঞ্চলের হাটে আড়াই লাখ টাকা দামের গরু এসেছে।

খাসির দাম দেড়লাখ টাকা ॥ স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, একটি খাসির দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা! বিশাল আকৃতির এই খাসিটি হাটে বিক্রির জন্য আনলে ভিড় পড়ে যায়। মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরের পশুর হাটে এখন মূল আকর্ষণ এই খাসি। সদর উপজেলার মিরকাদিমের আব্দুল হাই এই খাসি হাটে আনেন। বড় জাতের এই খাসিটি তার খামারেই পালন করেছেন তিনি গত আড়াই বছর ধরে। কিন্তু মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা দাম উঠেছে খাসিটির। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খাসিটি বিক্রি হয়নি।