২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রধানমন্ত্রী আজ যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে শেখ হাসিনার পাঁচবার দেখা হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য জানায়।

জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ বুধবার নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল পৌনে দশটায় বাংলাদেশ বিমানযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হোসেন তওফিক ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্রিয়ার আলম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালেক প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৬০ সদস্যের সরকারী প্রতিনিধিদল ও ১১৯ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ‘শান্তিরক্ষা’ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে কো-চেয়ারপার্সন থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও ওই সম্মেলনের কো-চেয়ার থাকবেন। বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দেবেন। আইএস ও উগ্রসহিংসতা রোধ নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ওবামা আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ওবামা ও মিশেল ওবামার নৈশভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এছাড়াও বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে দেখা হবে প্রধানমন্ত্রীর। এসব অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দিল্লীর কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আহূত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা শীর্ষক বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদিও উপস্থিত থাকছেন। এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। এ দুই সম্মেলনের সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে সাক্ষাত হবে। এই সময় দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর আগে গত আগস্ট মাসে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লী গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক হয়। এছাড়া গত বছর জাতিসংঘ অধিবেশনে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে থাকাকালীন তার সঙ্গে অনেক দেশের প্রধানদের বৈঠক হবে। জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশন সামনে রেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সব দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের একটি চিঠি দিয়েছেন। মূলত এ অধিবেশনের আলোচ্যসূচী ও জাতিসংঘের সংস্কার নিয়েই প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। অনেক দেশ তার চিঠির ইতিবাচক জবাব দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন মোদি।

চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিশ্ব নেতাদের এক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন, নারী শিক্ষার প্রসার, নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরবেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সাউথ সাউথ সহযোগিতা নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই দিনে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ হাসিনার একটি দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবে দুই শীর্ষ নেতা। এছাড়াও ২৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এসব বৈঠকের তারিখ ও সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ‘এমডিজি থেকে এসডিজিতে যাওয়া: বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আয়োজনে ওই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক একটি ফোরামে বক্তব্য দেবেন তিনি। ২০০০ সালে এমডিজি গ্রহণের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। এবার এসডিজি কর্মসূচী গ্রহণের সময়ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন।

২০১৫ সালের শেষে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) মেয়াদ শেষ হতে চলায় পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য ২৫ থেকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর একটি সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) চূড়ান্ত করবেন বিশ্ব নেতারা। ওই সম্মেলনের শেষ দিন বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ২৬ সেপ্টেম্বর ‘টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবর্তন এবং টেকসই ব্যবহার ও উৎপাদন’-শীর্ষক একটি সংলাপে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চালর্স মাইকেলের সঙ্গে কো-চেয়ারপার্সন থাকবেন শেখ হাসিনা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সফলতার ওপর আলোকপাত করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এবারের সাধারণ বিতর্কের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘৭০তম জাতিসংঘ অধিবেশন : নতুন প্রতিশ্রুতির জন্য কার্যক্রম’। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর এবারের সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবারের অধিবেশনের মূল আয়োজন জাতিসংঘ ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একে কেন্দ্র করে উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনের পুরোটা সময় জুড়েই অসংখ্য নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ অক্টোবর পর্যন্ত অবস্থান করবেন। আগামী ৩ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরবেন।