২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাত্র ১২ লাখ লোকের কর দেয়াটা সন্তোষজনক নয় ॥ আইনমন্ত্রী

মাত্র ১২ লাখ লোকের কর দেয়াটা সন্তোষজনক নয় ॥ আইনমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আয়কর মেলায় রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এবার আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব। মেলায় করদাতাদের যেসব সেবা দেয়া হয়েছে কর অঞ্চলগুলোতে ভবিষ্যতে সেগুলো অব্যাহত রাখা হবে। কর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদেরকে আরও সচেতন করতে আসছে শীতে আরও একটি কর মেলার আয়োজন করা হবে। এছাড়া আগামী বছর আসছে নতুন আয়কর আইন।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) আব্দুর রাজ্জাক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) আব্দুর রাজ্জাক জানান, এবারের মেলায় করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এছাড়া মেলার সমাপনী দিনের বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ১৯ শ’ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব জমা পড়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তা ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১২ লাখ লোক কর

দেয় এই সংখ্যাটা মোটেও সন্তোষজনক নয়। নাগরিকদের কর আদায় করতে আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আয়কর হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম।

তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশে পরিবর্তন হচ্ছে। ২০১৬ সালে একটি নতুন আয়কর আইন উপহার দেয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। যা জনমুখী ও ব্যবসা বান্ধব হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। আগামী শীতে এনবিআরকে আরেকটি কর মেলা আয়োজন করার পরার্মশ দেন তিনি।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে কর মেলার ইতিহাস নেই। বাংলাদেশ তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখানে করদাতারা এসে নিজের কর দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন সৃজনশীল ইতিবাচক আরও অনেক কিছু তাঁরা করছেন একবিংশ শতকের সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে নাগরিকদের গড়ে তোলার জন্য।

কর দেয়ার পর তা কোনখাতে ব্যয় হচ্ছে তা জানা নাগরিকদের অধিকার বলে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণ, সেবা আর কল্যাণমূলক কাজে এসব অর্থ ব্যয় হচ্ছে। যা নাগরিককে জানালে তারা কর দিতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।

আগামী শীতে আরেকটি কর মেলা আয়োজনে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে উল্লেখ করে এম এ মান্নান বলেন, বাঙালী জাতি মেলা প্রিয়। যে কোন ছুতায় মেলা হলে তা এদেশে জমে। আগামী শীতে আরেকটি কর মেলা আয়োজনে এনবিআরকে পরামর্শ দেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, এনবিআরের কর মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল করদাতাদের সেবা দেয়া। কর সম্পর্কে তাদের সচেতন করে তোলা এবং কর প্রশাসনে করদাতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

তিনি বলেন, মেলায় করদাতাদের যেসব সেবা দেয়া হয়েছে কর অঞ্চলগুলোতে ভবিষ্যতে এই সেবা অব্যাহত রাখা হবে। করদাতাদের এমন সেবা দিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে কর কর্মকর্তারা।

নজিবুর রহমান বলেন, কর মেলায় নাগরিকদের উপস্থিতি দেখে তারা আসছে শীতে আরেকটি কর মেলার আয়োজন করার কথা ভাবেন। যেখানে কর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের আরও সচেতন করার চেষ্টা করবেন।

জাতীয় আয়কর মেলার শেষদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিকেল ৫টার পরও মেলার বিভিন্ন স্টলে ছিল করদাতাদের ভিড়।

এনবিআর‘র জেষ্ঠ্য তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন মঙ্গলবার রাতে জনকণ্ঠকে জানান, আয়কর মেলার শেষ দিন বিকেল ৫টায় মেলা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেলা প্রাঙ্গণে করদাতা থাকায় সেবা দেয়া অব্যাহত ছিল। এরআগে সোমবার পর্যন্ত মেলায় সারাদেশে মোট ১ হাজার ৬৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা রাজস্ব জমা পড়ে।