১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্দরে আটক ভারতীয় মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হবে আজ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম বন্দরে আরব আমিরাত থেকে অবৈধ পথে আসা ভারতীয় মুদ্রা আটকের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কাস্টমস এ্যাক্ট ও ব্যাগেজ রুলসে বন্দর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার আটককৃতদের পুলিশে সোপর্দ করার পর শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয়েছে। মুদ্রা আটকের ঘটনার পর সোমবার গভীর রাতে গণনা শেষে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৫শ’ রুপী। শুল্ক ও গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়, আটক টাকা আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হবে। গ্রেফতারকৃতদের আজ আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমা- প্রার্থনা করা হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা জহির হোসেন।

উল্লেখ্য, ‘গৃহস্থালী ব্যবহার্য পণ্য ঘোষণা দিয়ে দুবাই প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক শহিদুজ্জামান একটি কন্টেনারযোগে ১৬৫ কার্টনের মধ্যে চারটিতে ভারতীয় মুদ্রা অবৈধভাবে পাঠান। গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনার পৌঁছার পর গত রবিবার সন্ধ্যায় খালাসকালে তা শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ আটক করে। সোমবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১৬৫ কার্টন তল্লাশি করে চারটিতে দুই কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার পাঁচ শ’ ভারতীয় রুপী পাওয়া যায়। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার একটি গোয়েন্দা সংস্থা শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগকে তা অবহিত করার পর অবৈধ পথে আসা ভারতীয় এসব মুদ্রা আটক করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হচ্ছে পণ্যের সিএ্যান্ডএফ সংস্থা ফ্ল্যাশ ট্রেডের মালিক মোঃ শামিমুর রহমান, আসাদ উল্লাহ, আহমদ উল্লাহ, কাওসার আলম ও তৌহিদুল আলম।

প্রসঙ্গত, আসাদ উল্লাহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মোবারক হোসেনের পুত্র। আসাদ উল্লাহ ফ্ল্যাশ ট্রেড ইন্টারন্যাাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ভারতীয় রুপীর অবৈধ চালান ধরা পড়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো রবিবার রাত থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সোমবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ পৌনে তিন কোটি রুপী গুণতে তাদের সময় লেগে যায়। এসব রুপী গোনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গণনার মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মুদ্রার প্রকৃত পরিমাণ একেক কর্তৃপক্ষ একেকভাবে জানানোর কারণে মিডিয়ায় তা নানা অঙ্কে প্রচারিত হয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে আটক রুপীর পরিমাণ দুই কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার পাঁচ শ’ বলে জানানো হয়।