২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ কিশোরগঞ্জের দুই সহোদরসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ

  • আসামি পক্ষের শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের দুই সহোদর মোঃ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ও শামসুদ্দিন আহম্মেদসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে প্রসিকিউশন পক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। আসামিপক্ষের শুনানির জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার এ আদেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন এবং তাকে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতানা রেজিয়া।

অপরদিকে আসামিপক্ষে উপস্থিত থেকে অভিযোগের বিরুদ্ধে শুনানিতে অংশ নেন শামসুদ্দিনের আইনজীবী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও পলাতক চার রাজাকারের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান। এ সময় গ্রেফতারকৃত একমাত্র আসামি এ্যাডভোকেট মোঃ শামসুদ্দিনআহমেদ ট্রাইব্যুনালের ডেকে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ মামলায় ৫ আসামির মেধ্য একমাত্র এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহম্মেদ গ্রেফতার হয়েছেন। পলাতক চারজন হচ্ছেন শামসুদ্দিনের ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মোঃ নাসিরউদ্দিন আহমেদ এবং রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তারা আত্মসমর্পণ করেননি বা গ্রেফতার করা যায়নি। মঙ্গলবার প্রসিকিউশন পক্ষে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি শেষ করেছেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আসামিপক্ষের শুনানির দিন ধার্য করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি বিচারপতি মোঃ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধী ট্রাইব্যুনাল-১।

গত ১৩ মে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, লুণ্ঠন, নির্যাতনের সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে। তারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর, আয়লা, ফতেরগুপ বিল, পীরাতন বিল ও আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ১৫ এপ্রিল এ মামলায় তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। ১৩ এপ্রিল এ প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেন তদন্ত সংস্থা ।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার করিমগঞ্জ মধ্যপাড়া (দুলিপাড়া) গ্রামের মোঃ নাসিরউদ্দিন ও মোঃ শামসুদ্দিনের বাবার নাম মৃত আব্দুর রাজ্জাক মুন্সি ও মায়ের নাম মৃত লুৎফুন্নাহার লতা। এ দুজনের মধ্যে বড় ভাই নাসিরউদ্দিন সেনাবাহিনীর ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন ছিলেন। তিনি ১৯৯৪ সালের ৫ জুলাই সেনাবাহিনীর কমিশন লাভ করেন। ২০০২ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি অকালীন বাধ্যতামূলক অবসরে যান। অন্যদিকে ছোট ভাই শামসুদ্দিন কিশোরগঞ্জে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

এ মামলার তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ৬ জুন। তদন্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান গত বছরের ২৬ নবেম্বর নাসিরউদ্দিন-শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেও আরও অধিক তদন্তের জন্য ফেরত পাঠান প্রসিকিউশন। তাদের বিরুদ্ধে ১২ জনকে হত্যা, গণহত্যা, আটক, নির্যাতন ও লুণ্ঠনের ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল সে সময়। এরপর পুনঃতদন্ত শেষ করে গত ১৩ এপ্রিল তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেন তদন্ত সংস্থা।