২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে মাদ্রাসা শিক্ষকের সার্টিফিকেট জালিয়াতি

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ জেলার উজিরপুর উপজেলার হস্তিশু- সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়ে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার এ জালিয়াতি ও অর্থ বাণিজ্যের তথ্য ফাঁস হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। যে কারণে গত এক মাস থেকে সে নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে।

ইতোমধ্যে মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ, পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য এবং স্থানীয়রা সার্টিফিকেট জালিয়াতিসহ তার সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী জামায়াত নেতা মাওলানা আবু বক্কর সেলিম মিয়া জালিয়াতির মাধ্যমে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার দাখিল ও আলীম পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগের স্থলে দ্বিতীয় বিভাগ এবং ফাজিল পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগের স্থলে প্রথম বিভাগ বানিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়ে ওই মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক পদে চাকরি নিয়েছে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্মকর্তাদের ধোকা দিয়ে সে আলীম পরীক্ষার পরীক্ষক হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছে। এছাড়া তার জন্ম তারিখেও গড়মিল রয়েছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক হিসেবে চাকরি নেয় আবু বক্কর সেলিম মিয়া। ২০০১ সালের পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মাদ্রাসায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তৎকালীন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সবুরকে প্রাণনাশের হুমকির মুখে মাদ্রাসা ত্যাগে বাধ্য করে। ২০০২ সালের ১৩ মার্চ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর পদটি দখল করে মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য পকেট কমিটি গঠন করে শিক্ষক নিয়োগের নামে বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

হস্তিশু- গ্রামের বাসিন্দা মোদাচ্ছের হোসেনের কন্যা ফাতেমা আক্তার অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময় আবু বক্কর সেলিম তাকে মাদ্রাসার লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য আড়াই লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনেও তাকে ওই পদে নিয়োগ না দেয়ায় তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের চাপের মুখে সম্প্রতি সময়ে তাকে দেড় লাখ টাকা ফেরত দেয়া হলেও বাকি এক লাখ টাকা না দিয়ে সে গত এক মাস থেকে আত্মগোপন করেছে। একই গ্রামের মাওলানা মনোয়ার হোসেনের পুত্র মোঃ মহিবুল্লাহ অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য আবু বক্কর সেলিম তার সঙ্গে ছয় লাখ টাকার চুক্তি করে। প্রথম পর্যায়ে চুক্তির তিন লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর এ নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই মাওলানা আবু বক্কর সেলিম আত্মগোপন করায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা মফিজুর রহমান।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া