২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিমুলিয়ায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে ফেরি

  • লঞ্চেও যাত্রী কম

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ ঈদের আর মাত্র দু’দিন বাকি থাকলেও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রবেশ দ্বার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে যানবাহনের তেমন একটা চাপ ছিল না। শিমুলিয়ায় এখন গাড়ির অপেক্ষায় ফেরি! অন্যান্য বছর ঈদের এ সময়ে যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকে ফেরির জন্য। কিন্তু এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। ফেরিই বরং গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক এসএম আশিকুজ্জামান জানান, দীর্ঘ ৩২ দিন ধরে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস ছিল প্রায় অচল। এই রুটে এসে অনেকই পড়েছে ভোগান্তিতে। কিন্তু সোমবার এই সার্ভিস স্বাভাবিক হওয়ায় পাল্টে গেছে ঘাটের চিত্র। চারটি রো রো ফেরিসহ ১৬টি ফেরিই এখন চলছে। লৌহজং টার্নিং দিয়েই আসা-যাওয়া করছে সব ফেরি। তাই দ্রুত পারাপার সম্ভব হচ্ছে। ঘাটে এখন কোন যানবাহন নেই। ফেরিগুলো ঘাটে নোঙর করে আছে গাড়ীর অপেক্ষায়। যখন কোন গাড়ি আসছে সঙ্গে সঙ্গেই তা ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। তিনি জানান, ভেবেছিলাম মঙ্গলবার গাড়ির চাপ বেশি থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন চাপ ছিল না। সকালের দিকে প্রাইভেটকারের সংখ্য বেশি থাকলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তা পারাপার করা হয়। তাছাড়া দূর পাল্লার অধিকাংশ যাত্রী দ্রুত বাড়ি পৌঁছতে লোকাল বাসে করে শিমুলিয়ায় এসে সিবোট, ট্রলার ও লঞ্চে করে নদী পার। ফলে ফেরিতে চাপ কম। তবে আজ বুধবার যানবাহনের চাপ হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। এজন্য ১৬ ফেরিই প্রস্তুত আছে। আজ আরও একটি ফেরি বহরে যুক্ত হবে। তিনি জানান, যাত্রীবাহী যানবহনের সংখ্যা কম থাকায় ১০ কিমি দূরে শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়িতে স্থানে আটকে রাখা পণ্যবাহী ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন এখন পারাপার হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের জন্য এসব ট্রাক ওইখানে আটকে রাখা হয়। যখনই যাত্রীবাহী যানবাহন কম থাকবে তখনই সুযোগ বুঝে এসব ট্রাক পার করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ঘাট বন্দর কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জানান, যাত্রীর তেমন চাপ নেই। অন্য বছরে এ দিনের তুলনায় লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছিল কম সংখ্যক যাত্রী নিয়ে। যাত্রী কম। তবে কোন অবস্থাতেই লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সিবোট ছাড়তে দেয়া হচ্ছে না। তিনি মনে করেন আজ বুধবার এ নৌপথে যাত্রীর চাপ বাড়রে। জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল ও পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, স্বাচ্ছন্দ্যে পারাপার এবং দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনা লাঘবে সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হেল্প ডেক্স, সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ মঞ্চসহ নিরাপত্তা এবং যাত্রী সেবায় ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব এবং স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। অসুস্থ যাত্রীদের চিকিৎসায় রাখা হয়েছে মেডিক্যাল টিম।