২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

করাচীতে সালমাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা, তবু...

করাচীতে সালমাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা, তবু...

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সবকিছু আগে থেকেই চূড়ান্ত ছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের পাকিস্তানে যাওয়াও নিশ্চিত। করাচীতে ১০ দিনের সফরে দুই ওয়ানডে ও দুই টি২০ খেলাও নিশ্চিত। শুধু বাকি ছিল সরকারের সবুজ সঙ্কেতের। তাও মিলে গেছে। এখন আর সালমাদের পাকিস্তানে খেলতে যেতে কোন বাধা নেই। শুধু শেষপর্যন্ত প্রয়োজন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা।

আজ রাতে বিদেশ থেকে আসবেন বিসিবি সভাপতি। এসে বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে এ নিয়ে সভায় বসবেন। সালমাদের পাকিস্তানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত জানিয়ে দিলেই হয়ে যায়। ঈদের একদিন পর রবিবার পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন সালমা খাতুনরা।

তবে একটি বিষয় এখনও সবার মুখে মুখেই আছে। সেটি কী? শেষপর্যন্ত যদি জীবনের ঝুঁকিতে ফেলা হয় সালমাদের এবং পাকিস্তানে যায় তারা, যদি কিছু হয়ে যায়; তাহলে দায়ী থাকবে কে? সেই প্রশ্নও উঠছে। এক বোর্ড পরিচালক বলেই দিলেন, ‘দায় সবার।’ সবার বলতে যেহেতু সরকার অনুমতি দিয়েছে, তাদেরও দায় নিতে হবে। বিসিবিও দায়ী থাকবে। আর দায়ী থাকবেন আসলে সালমারাও। বিসিবি চাচ্ছে পাকিস্তান সফরে যাক সালমারা। যদি তাদের কিছু হয় এ জন্য বিসিবি দায়ী থাকবে। সরকার পাকিস্তানের বাজে অবস্থা জেনেও যেহেতু ভিসা করার অনুমতি দিয়েছে, এ জন্য সরকারও দায়ী থাকবে। আর দুই ধাপে সালমাদের সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলে বিসিবি। সালমারা পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য রাজি হন। তাতে করে সালমারাও দায়ী থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল পারেননি বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলকে পাকিস্তানে খেলতে পাঠাতে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞায় তা আটকে যায়। এবার কী বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে পাকিস্তানে পাঠাতে পারবেন? আজ-কালের মধ্যেই তা জানা যাবে। বিসিবির পরিচালক, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘এ নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। যতদূর জেনেছি সরকার থেকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন বিসিবি সভাপতি বুধবার রাতে দেশে আসবেন। এসে বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর সিদ্ধান্ত জানাবেন। তখনই বোঝা যাবে, চূড়ান্তভাবে কী হচ্ছে।’ এ নিয়ে আসলে বিসিবি সভাপতি যতক্ষণ পর্যন্ত গণমাধ্যমে কিছু না জানাচ্ছেন, বিসিবির কোন পরিচালকই মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না। সবাই গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। তবে এক বোর্ড পরিচালককে প্রশ্ন করা হলো? যদি এ ক্রিকেটারদের মধ্যে কেউ আপনার মেয়ে হতো, তাহলে কী তাকে শত নিরাপত্তা সত্ত্বেও পাকিস্তান খেলতে যেতে দিতেন? তখনই এক এক করে তিনি কথা বলতে থাকেন। যেখানে স্পষ্ট বোঝা যায়, বোর্ড পরিচালক বুঝছেন এমন সফর করে মহিলা ক্রিকেটারদের কোন লাভ নেই। মন খুলে যে খেলতেই পারবে না। বোর্ড পরিচালক বলেছেন, ‘হ্যান্ডবল দল (ডিসেম্বরে গেছে পাকিস্তানে), মহিলা ফুটবল দল (২০১৪ সালের নবেম্বরে গেছে) খেলতে গেছে পাকিস্তানে। কিছু হয়নি। ভিভিআইপি নিরাপত্তা দেয়া হবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলকে। যদি আত্মঘাতী বোমা হামলাও হয় তাহলেও আগে ৫০০ সৈনিককে মারতে হবে। এরপর মহিলা ক্রিকেটারদের কাছে যেতে হবে। এত কড়া নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি কোন খারাপ পরিস্থিতিই হবে না। আল্লাহর কাছে দোয়া করি।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘এই যে মহিলা ক্রিকেটাররা খেলতে যাবে, এরপরও তো মনে হয় না আগামী ১০ বছরে ছেলেদের কোন দল খেলতে যাবে। এ সফরে আসলে কোন লাভ নেই। কারণ, পাশে ট্যাঙ্ক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে আর ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং খুব ভালভাবে করা যাবে, এটা কোনভাবেই হবে না। এ পরিস্থিতিতে কে খেলতে চাইবে। এখানে জানের ভয় নেই। তবে এ রকম পরিস্থিতিতে কেউ মন দিয়ে খেলতে পারবে না।’ বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন আগে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান সফর হলে সব ম্যাচই করাচীতে হবে। সেখানকার ক্রিকেট কমপ্লেক্সে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। পাকিস্তান এয়ারপোর্টে নেমে ক্রিকেটাররা সরাসরি ওই কমপ্লেক্সে চলে যাবে। সফর শেষে কমপ্লেক্স থেকে আবার সরাসরি এয়ারপোর্টে চলে আসবে। এর বাইরে তাদের কোন মুভমেন্ট থাকবে না। কারণ, কমপ্লেক্সের ভেতর সুইংমিংপুল, ডরমেটরি সবই রয়েছে। ফলে ক্রিকেটারদের হোটেলে থাকতে হবে না।’ সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করে এসেছে বিসিবির নিরাপত্তা পরিদর্শক দল। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তারা করাচী ও লাহোর পরিদর্শন করেন। তাদের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এ পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে অবশ্য একটা নাটক আছে। সবার ধারণা হয়ে গেছে, ক’দিন আগে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই যে রিপোর্ট করেছিল, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল সফরে না গেলে বিপিএলে পাকিস্তানী ক্রিকেটারদের পাঠাবে না দেশটির বোর্ড (পিসিবি), এর কোন প্রভাব থাকতে পারে। অবশ্য বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানী ক্রিকেটাররা খেলছেনÑ এমন কাঠামো রেখেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পাকিস্তানীরা বিপিএলে খেলবে না, এমন কিছু আমাদের জানা নেই। পিসিপির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। মহিলা ক্রিকেটাররা খেলতে যাক আর না যাক, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আফ্রিদিদের মতো তারকারা আসছেন।’ বিসিবি সভাপতিও আগেই বলেছেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে কোন শর্ত নিয়ে আলাপ হয়নি। যেগুলো (মূল জাতীয় দলের সফর নিয়ে ঝামেলা) ছিল, সেগুলো পাকিস্তান সিরিজের আগেই চুকিয়ে ফেলা হয়েছে।’ ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ছয় বছর পর চলতি বছর জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফর করে। কোন অঘটন ক্রিকেটারদের ওপর ঘটেনি। তবে স্টেডিয়ামের বাইরে বোমা হামলা হয়েছে। এরপরই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে আমন্ত্রণ জানায় পিসিবি। তাতে বিসিবি রাজিও হয়। এবং যাওয়াও নিশ্চিত। মহিলা ক্রিকেটারদের কিছু না হোক, তা সবারই প্রত্যাশা। তবে কিছু হলে এর দায় সবাইকেই নিতে হবে।