১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেইমারের জন্য অপেক্ষা...

নেতা নেইমারের জন্য অপেক্ষা করছে ব্রাজিল। কোপা আমেরিকায় নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাই ফুটবলে প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারবেন না সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরের সময় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপীল না করলেও সম্প্রতি ব্রাজিল আবেদন করেছে নেইমারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে। উদ্দেশ্য একটাই, দলের সেরা তারকার সেবা পাওয়া।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আক্টোবর মাসে চিলি ও ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ইতোমধ্যে এই দুই ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে সেলেসাওরা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে দলে জায়গা হয়নি দেশটির অধিনায়ক নেইমারের। তবে শাস্তি কমিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বার্সিলোনার এই তারকা ফুটবলারকে দলে পেতে কোর্ট অব অরবিটেশনের ফর স্পোর্টস (সিএএস) এর কাছে আপীল করেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।

চিলিতে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় ফাউল করার জন্য লালকার্ডসহ চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান নেইমার। ফলে ওই নিষেধাজ্ঞার জন্য চিলি ও ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে দুটি বাছাইপর্বের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। তবে দলীয় অধিনায়ককে ছাড়া বোধ হয় কোন রকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গা। তাই দেরিতে হলেও শাস্তি কমাতে সিএএস এর কাছে আবেদন করেছে সিবিএফ। শাস্তি অব্যাহত থাকলেও কোপা আমেরিকা ম্যাচের শাস্তি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে কেন ভোগ করতে হবে নেইমারকেÑ এখানেই আপত্তি সিবিএফ’র। এ বিষয়ে সিবিএফ’র দাবি, নেইমার যেহেতু কোপা আমেরিকায় অপরাধ করেছেন, তাই অপরাধের শাস্তি সেই টুর্নামেন্টেই তার ভোগ করা উচিত, অন্য কোন আসরে বা টুর্নামেন্টের ম্যাচে নয়।

স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সিলোনায় যেমনÑ তেমনি জাতীয় দলের জার্সিতেও দুর্দান্ত নেইমার। অথচ চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোপা আমেরিকার গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আপীলের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন তখন তা করেনি। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, সেলেসাওদের কোচ দুঙ্গা সেই সময় চাননি বলেই নেইমারের পক্ষে আপিল করা হয়নি। আর এটা জানিয়েছিলেন সিবিএফের জেনারেল সেক্রেটারি ওয়াল্টার ফেল্ডম্যান। জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে না পারলেও ক্যাটালান ক্লাবটির হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন নেইমার। শুধু তাই নয় মাঠের বাইরের সময়টাও ভাল কাটছে তার। সম্প্রতি নতুন ডিজাইনের রোদচশমা বাজারে এনেছে পুলিশ আইওয়ার। আর নতুন ব্র্যান্ডের এই রোদচশমার প্রচারণায় মডেল হন তিনি। এ নিয়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো ব্রাজিলিয়ান এ স্ট্রাইকারকে চুক্তি করল ইতালিয়ান ফ্যাশন উপকরণ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের সেলিব্রেটি ফটোগ্রাফার রানকিনের ক্যামেরার লেন্সে সানগ্লাস চোখে ধরা পড়েন বার্সিলোনার এই ব্রাজিলিয়ান প্লেমেকার। তার সঙ্গে আছেন সুপার মডেল কেনস্তানজা সারাভিয়াও।

সময়ের দুই অবিসংবাদিত সেরা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। প্রায় সবাই একবাক্যে বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। এর কারণও রয়েছে ঢের। শুধু একটি প্রসঙ্গ সামনে আনলেই এর যথার্থ প্রমাণিত হবে। ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার সর্বশেষ সাতবার এ দু’জনই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। পরবর্তী মুকুটও এ দুজনের একজন পড়তে যাচ্ছেন, এটা একপ্রকার নিশ্চিত। তবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস বলছেন, মেসি-রোনাল্ডো নন নেইমারই বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার। সম্প্রতি দেয়া সাক্ষাতকারে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কার্লোস মেসি ও রোনাল্ডোর রেকর্ড, পরিসংখ্যানকে পাত্তা দিচ্ছেন না। সাক্ষতকারে ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি লেফটব্যাক বলেন, সবাই সবসময় মেসি ও রোনাল্ডো সেরা কিনা, তা নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আমার কাছে সেরা নেইমার। তিনি আরও বলেন, বার্সিলোনাতে আমরা যে নেইমারকে দেখি, সেটাই তার সেরা রূপ। ব্রাজিলের নেইমারের চেয়ে বার্সিলোনার নেইমার অনেক কিছু করে। কেননা, দলটা আনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত। ব্রাজিল দলটি এখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সে জন্য ব্রাজিলের হয়ে এতটা ভাল খেলতে পারে না সে।

বর্তমানে ভারতে ফুটবল দল দিল্লী ডায়নামোর কোচের দায়িত্বে আছেন কার্লোস। দলের দায়ভার কাঁধে নেয়ার যন্ত্রণা এখন বুঝছেন ভাল মতোই। এ জন্যই স্বদেশী নেইমারের জন্য সহমর্মিতা ফুটে উঠেছে তাঁর কণ্ঠে। কার্লোস বলেন, সে বার্সায় নিজের মতো খেলতে পারে কারণ ওখানে তাঁকে কোন চাপ নিতে হয় না। মেসি-সুয়ারেজ আছে সেখানে। কিন্তু ব্রাজিল দলে তাঁকে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হয়। এটা অনেক কঠিন একটি কাজ।

বার্সিলোনার হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত খেলেছেন নেইমার। বিশেষ করে সুয়ারেজ ও মেসির সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়ে তোলেন। গত মৌসুমে মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ বার্সিলোনার হয়ে গোল করেন ১২২টি। এ তিন স্ট্রাইকার দলকে জিতিয়েছেন স্প্যানিশ লা লীগা, কোপা ডেল রে ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা। নতুন মৌসুমে ইতোমধ্যে জেতা হয়ে গেছে উয়েফা সুপার কাপ। বার্সায় হয়ে দুর্দান্ত একটা মৌসুম কাটানো ব্রাজিল অধিনায়ক ৫১ ম্যাচে করেন ৩৯ গোল। একটা সময় এক মৌসুমে ৩৯ গোল সঙ্গে তিনটি শিরোপা জিতলে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারই নিশ্চিত ছিল। অথচ নেইমার ইউরোপের সেরা তিনেই জায়গা পাননি।

শুধু তাই নয়, নেইমার চ্যাম্পিয়ন্স লীগের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন গত মৌসুমে। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ও কোপা ডেল রের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রত্যেক ধাপে গোল করেছেন। স্প্যানিশ লীগের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। এরপরও ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে নেইমারের সেরা তিনে না থাকাটা বিস্মিত করে অনেককে। এ প্রসঙ্গে বার্সিলোনা কোচ লুইস এনরিকে বিরক্তি নিয়েই জবাব দিয়েছিলেন, ‘এটা নিয়ে আমি কী বলব, যারা ভোট দিয়েছে তাদের গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। আর কারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? নেইমারকে ছাড়া ইউরোপে সেরা তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা সঠিকভাবে করা হয়নি। আমার মত যদি জানতেই চান তাহলে বলব সেরা তিনে মেসি, সুয়ারেজ আর নেইমারের থাকা উচিত ছিল, রোনাল্ডো নয়।’