১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুঃসময়ে টেনিসের রানী মারিয়া

  • মাহমুদা সুবর্ণা

তৃতীয় কনিষ্ঠ প্রমীলা টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে ২০০৪ সালে উইম্বলডন জিতেই আবির্ভাব ঘটনা মারিয়া শারাপোভা। এর পরের দশকে আরও চারটি গ্র্যান্ডসøাম জিতেন রাশিয়ান টেনিসের এই গ্ল্যামার গার্ল। কিন্তু বর্তমান টেনিস র‌্যাংকিংয়ের তিন নাম্বার এই তারকা যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছেন। শেষবার গ্র্যান্ডসøাম জিতেছিলেন গত বছর। ফ্রেঞ্চ ওপেনে শিরোপা জয়ের পর থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন মাশা।

গত উইম্বলডনের পর থেকেই আর কোর্টে নামেননি শারাপোভা। টেনিস ভক্তরা ধরেই নিয়েছিলেন যে রজার্স কাপ, সিনসিনাতি মাস্টার্সে না খেললেও বছরের শেষ মেজর টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনে কোর্টে নামবেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সবাইকে চমকে দিয়ে ইউএস ওপেন থেকেও সরে দাঁড়ান রাশিয়ান এই টেনিস তারকা। মূলত ডান পায়ের ইনজুরির কারণেই শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট শুরুর একদিন আগে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাংকিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান এই তারকা। রজার্স কাপ, সিনসিনাটি মাস্টার্সের পর টানা তৃতীয় টুর্নামেন্টে মাশাকে খেলতে দেয়নি চোট। প্রায় এক দশক আগে ইউএস ওপেনে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন মারিয়া শারাপোভা। তাই টুর্নামেন্টটা রুশ সুন্দরীর কাছেও বেশ প্রিয়। কিন্তু চোট-দুর্ভাগ্য এবারও কোর্টে নামতে দেয়নি তাকে।

গত মাসে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে সেরেনার কাছে হেরেছিলেন শারাপোভা। এরপর থেকেই ভক্ত-অনুরাগীরা অপেক্ষা করছেন তার কোর্টে ফেরার ব্যাপারে। তবে চোট-দুভার্গ্যরে বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে আশাবাদী তিনি। এ নিয়ে জোরের কিছু নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন শারাপোভা। এ বিষয়ে তার অভিমত হলো, ‘প্রতিদিনই নিজেকে কিছুটা সুস্থ মনে হয়। বলতে পারেন এখন আমি পুরোপুরিই সুস্থ। আসলে এখানে জোর করে কোন কিছু করার উপায় নেই।’ তবে নতুন খবর হলো সব বাধাই অতিক্রম করে আবারও টেনিস কোর্টে ফিরতে যাচ্ছেন রাশিয়ান তারকা। আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে যাওয়া উহান ওপেনেই র‌্যাকেট হাতে কোর্টে দেখা যাবে তাকে। এ বিষয়ে রোমাঞ্চিত মাশা। প্রায় দুই মাস পর টেনিস কোর্টে ফিরতে পেরে রোমাঞ্চিত হওয়াটাই যে স্বাভাবিক। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে শারাপোভা বলেন, ‘ওয়ানে কোর্টে নামার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়েই অপেক্ষায় আছি। আবারও লড়াইয়ে নামার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি আমি। তাই এই মুহূর্তে কোর্টে লড়াইয়ে নামার তর সইছে না আমার।’ শারাপোভার মতো তারকাকে পেয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষও দারুণ উচ্ছ্বসিত। এ বিষয়ে তারা এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মারিয়াকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। টেনিস বিশ্বে শারাপোভা নামটি সকলের জন্যই আইকন। এই টুর্নামেন্টে তার খেলাটা নিশ্চিতভাবেই অন্যদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।’

টেনিস কোর্টে শারাপোভা কিছুটা নিষ্প্র্রভ থাকলেও ফ্যাশন জগতে শারাপোভার নামটা যে শীর্ষ তালিকায়। তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। কোর্টে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পাশাপাশি তার রুপ-সৌন্দর্য্য দিয়েও ভক্ত-অনুরাগীদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচটি গ্র্যান্ডসøাম জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বের প্রমীলা এ্যাথলেটদের মধ্যে রাশিয়ান টেনিসের এই গ্ল্যামার গার্লই শীর্ষে। টেনিস কোর্টে, মডেলিংয়ের পাশাপাশি বয়ফ্রেন্ড পটানোতেও সিদ্ধহস্ত এই তারকা। বর্তমান টেনিস বিশ্বে সুন্দরীদের তালিকায় মাশার পর আনা ইভানোভিচের নামটাও বেশ উজ্জ্বল। তার অসাধারণ গ্ল্যামার আর লুকের জন্য টেনিস কোর্টের বাইরেও আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার গলফ তারকা এ্যাডাম স্কটের মতো হাই প্রোফাইল বয়ফ্রেন্ড ছিল তার। কিন্তু সম্পর্কটা খুব বেশিদিন রাখেননি তিনি। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জেতা সার্বিয়ার এই তারকা খেলোয়াড় টেনিস র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানটিও দখল করেছিলেন। গ্লামারের জগতে তাদের পরেই আছেন হান্টোচোভা। চেক প্রজাতন্ত্রের এই টেনিস তারকা কোর্টের চেয়ে বাইরেই বেশি জনপ্রিয়। এটা কেবলই তার রুপ-সৌন্দর্যের সৌজন্যে। মডেল হিসেবে অসংখ্য কাজ করেছেন তিনি। ২০১২ সালে ইএসপিএন ম্যাগাজিনে নগ্ন শ্যূট করেও আলোচনায় উঠে এসেছিলেন তিনি। হান্টোচোভা এখন পর্যন্ত মেজর কোন শিরোপা জিততে পারেননি। কিন্তু গ্ল্যামার দিয়ে বিশ্বের হাজার হাজার ভক্তের মন জয় করেছেন ঠিকই। গত মৌসুমেই পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসেন ইউজেনি বাউচার্ড। বছরের প্রথম দুই গ্র্যান্ডসøামের সেমিফাইনালে খেলেন তিনি। প্রথম কানাডিয়ান হিসেবে উইম্বলডনের ফাইনালে উঠে রীতিমতো চমকেই দেন টেনিস বিশ্বকে। কোর্টের বাইরে এই তরুণী নজর কাড়েন মডেলিংয়েও। কিন্তু এই মৌসুমে নিষ্প্র্রভ ছিলেন বাউচার্ড। কোর্টে নিষ্প্রভ থাকা এই বাউচার্ড গ্ল্যামার দিয়ে মডেলিংয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিতই। আর কৃঞ্চকলি নামেই খ্যাত সেরেনা উইলিয়ামস। কিন্তু কালো হলেও যে গ্ল্যামারগার্ল হওয়া যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সেরেনা উইলিয়ামস। আমেরিকান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি টেনিস কোর্টে যেমন অপ্রতিরোধ্য তেমনি কোর্টের বাইরেও সমানভাবে এগুচ্ছেন তিনি। মডেলিং, র‌্যাম্পে নিয়মিতই দেখা যায় ২১টি গ্র্যান্ডসøামজয়ী টেনিসের নাম্বার ওয়ান এই তারকাকে। ইউএস ওপেন ছাড়া চলতি মৌসুমের প্রথম তিন মেজর টুর্নামেন্টের সবকটিতেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।