২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস দমনে নয়া পরিকল্পনা

  • ইরাকে অভিযান থেমে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি এখন সিরিয়ার দিকে

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কাছ থেকে ভূখ- পুনরুদ্ধারের অভিযান অনেকটা থেমে যাওয়ায় ওবামা প্রশাসন সিরিয়ায় আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছেÑ যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বাহিনী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে।

আইএসের শক্ত ঘাঁটি রাকার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে এ চেষ্টা শুরু করা হবেÑ যা প্রশাসনের নীতিকৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিগত এক বছরে ওই কৌশলের আওতায় ইরাকের চরমপন্থী গোষ্ঠীকে পরাজিত করার ওপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল এবং সিরিয়াকে এমন একটি স্থান হিসেবে দেখা হতো যেখানে রণাঙ্গণে সাফল্য অর্জনের খুব কমই প্রকৃত সম্ভাবনা রয়েছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

সিরীয় অনিয়মিত বাহিনীর সাম্প্রতিক এবং অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনের সুযোগ গ্রহণ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করার জন্য হোয়াইট হাউসের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে বৈঠকে মিলিত হন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুনরায় আলোচনায় বসবেন। প্রশাসন সিরিয়ায় বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করার কথা বিবেচনা করছে এবং ভাল করে যাচাই-বাছাই করার বিষয়টি শিথিল করা হবে। এর মধ্য দিয়ে সেখানে চলমান গৃহযুদ্ধে আমেরিকার জড়িয়ে পড়া আরও গভীরতর হবে। এ ধরনের উদ্যোগে কিছু বিধি-নিষেধও প্রত্যাহৃত হতে পারে যা তুরস্ক এবং সিরিয়ার বাইরে অন্যান্য স্থানে সিরীয় যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দানের পেন্টাগণের ঝামেলাপূর্ণ কর্মসূচীকে মন্থর করে দিয়েছিল। প্রশিক্ষণের পূর্বে ও প্রশিক্ষণকালে বিদ্রোহীদের বারংবার যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় না নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে লড়াইয়ের ময়দানে থাকা ইউনিট প্রধানদের ওপর বাছাইয়ের রীতিকে সীমিত রাখতে পারেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আসল বিষয় হলো তাদের হাতে, কিছু তাজা বুলেট ধরিয়ে দেয়া।’ এই কৌশল পরিবর্তনের আংশিক কারণ ইরাকে লড়াইয়ের অচলাবস্থাজনিত হতাশা, যেখানে রামাদির ওপর সেনা অভিযান বন্ধ রয়েছে এবং মসুল পুনরুদ্ধারের বহুল প্রত্যাশিত অভিযান, যা এ বছরে শুরু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল তা হয়ত প্রেসিডেন্ট ওবামার দায়িত্বভার ত্যাগের পরেই শুরু করা হবে। আরেকজন মার্কিন কর্মকর্তা অন্যদের মতো নাম প্রকাশ না করার শর্তে চলমান সামরিক তৎপরতা আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘এখন আমরা সিরিয়ায় যে সুযোগ পেয়েছি যা অতীতে আমরা পাবো বলে ভাবিনি।

আমরা আইএসের কাছ থেকে সমগ্র তুর্কি সীমান্ত এলাকা কেড়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছি।’ এর লক্ষ্য হলো ইসলামিক স্টেটের ক্ষমতার কেন্দ্র রাকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং সেখানকার জঙ্গী নেতাদের সিরিয়া এবং আইএস নিয়ন্ত্রিত বৃহৎ ইরাকী নগরী মসুলের মধ্যবর্তী স্থানে যোদ্ধা ও সম্পদ প্রেরণ প্রতিহত করা। কর্মকর্তারা পিপল্স প্রটেকশন ইউনিট অথবা ওয়াইপিজির কুর্দি ইউনিটসমূহের নেতৃত্বাধীন সিরীয় বাহিনী চলতি গ্রীষ্মে তাল আবিয়াদ এবং তুরস্ক সংলগ্ন সিরীয় সীমান্তের কাছাকাছি অন্যান্য এলাকা থেকে আইএসকে হটিয়ে দিতে যে সাফল্য অর্জন করেছে তার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, হোয়াইট হাউস দেশের উত্তরে কয়েক হাজার যোদ্ধার দলের সিরীয় আরব জোটকে অস্ত্রশস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জাম জোগান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে এই আশায় যে, দলটি কুর্দি বাহিনীর পাশাপাশি লড়াই করবে এবং তুর্কি সীমান্ত থেকে রাকা অভিমুখে দক্ষিণে চাপ সৃষ্টি করবে। অনুমোদিত হলে এই উদ্যোগ হবে পেন্টাগণের পক্ষ থেকে সিরিয়ার ভিতরে প্রথমবারের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ। ইতোপূর্বে দেশটি তুরস্কে প্রশিক্ষণ দেয়া যোদ্ধাদেরই অস্ত্র দিয়েছিল। সিরীয় বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও অস্ত্রসজ্জিত করার জন্য সিআই’র নিজস্ব কর্মসূচী রয়েছে।

কর্মকর্তারা জোর দিয়েছেন যে, এখনও এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এবং হোয়াইট হাউস সিরিয়ায় তার বর্তমান নীতিকৌশল অব্যাহত রাখতে পারে, যার মধ্যে আছে বিমান হামলা, মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদ্রোহীদের প্রত্যক্ষ সহায়তা এবং অন্যান্য বাহিনীকে পরোক্ষ সাহায্য প্রদান।

গত সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমা-ের প্রধান জে, তৃতীয় লয়েড জে, অস্টিন স্বীকার করেন যে, সিরিয়ায় মাত্র ৪Ñ৫ জন মার্কিন প্রশিক্ষিত যোদ্ধা সক্রিয়ভাবে লড়াই করছে। তারপর থেকে অতিরিক্ত ৭১ জন সিরীয় বিদ্রোহী মার্কিন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং তাদের সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।