২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্টের দৌড়ে অমিতাভ, নেপথ্যে শ্রীনিবাসন

অনলাইন ডেস্ক ‌॥ এক দিকে, সরকারি অভিযোগের রাস্তায় না গিয়েও পরিবারের তরফে প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার অস্ত্রোপচারের সিডি হাসপাতাল থেকে চেয়ে পাঠানোর ভাবনা। অন্য দিকে, নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাওয়া। যেখানে দৌড়ে ঢুকে পড়লেন স্বয়ং বোর্ডের যুগ্ম সচিব অমিতাভ চৌধুরী। যিনি বোর্ডমহলে নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

জগমোহন ডালমিয়া উত্তর ভারতীয় ক্রিকেটের প্রথম দিনে এই দু’টো ঘটনাই ঘটে থাকল।

মঙ্গলবার সদ্যপ্রয়াত বোর্ড প্রেসিডেন্টের অন্ত্যেষ্টির দিনই পরিবার থেকে বলা হয়েছিল যে, হাসপাতালের ডালমিয়ার চিকিৎসা-পদ্ধতি নিয়ে কোথাও কোথাও ধোঁয়াশা থাকলেও সেটা নিয়ে সরকারি অভিযোগের রাস্তায় যাওয়া হচ্ছে না। এ দিন ডালমিয়া-কন্যা বৈশালী রাতে শুধু বললেন যে, অস্ত্রোপচারের সিডিটা চাওয়া হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের থেকে। ‘‘আসলে সে দিন বাবা ঠিক আছেন শোনার কিছুক্ষণের মধ্যেই কী করে অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে গেল, আমাদের বোধগম্য হয়নি। পরের দিকে আমাদের তো ভাল করে কিছু দেখতেও দেওয়া হয়নি। তাই কিছু কিছু ব্যাপারে আমাদের ধোঁয়াশা আছে,’’ এ দিন রাতে বলছিলেন বৈশালী ডালমিয়া। সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘দেখুন, আমরা কোনও পুলিশি তদন্তের রাস্তায় যাচ্ছি না। তাতে আর কোনও লাভও নেই। কিন্তু এই ধোঁয়াশাগুলো কাটানোর জন্যই আমরা অপারেশনের সিডি চেয়ে পাঠাব। যাতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরাও বুঝতে পারি যে, সব ঠিকঠাক হয়েছিল কিনা।’’ যা দাঁড়াচ্ছে সিডিটা চাওয়া হবে। এটাও শোনা যাচ্ছে যে, এ সপ্তাহের শেষের দিকে হাসপাতালকে একটা চিঠিও দেওয়া হতে পারে।

এবং প্রয়াত বোর্ড প্রেসিডেন্টের চিকিৎসা নিয়ে তাঁর পরিবারের কোথাও কোথাও যেমন ধোঁয়াশা রয়েছে, ঠিক তেমনই ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে আসন্ন বোর্ড প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও।

ডালমিয়ার মৃত্যুর পর শোনা যাচ্ছিল যে, ভাবী বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে দৌড়ে আছেন দু’জন। আইপিএল চেয়ারম্যান রাজীব শুক্ল এবং এনসিপি প্রধান তথা মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার প্রেসিডেন্ট শরদ পওয়ার। কিন্তু ডালমিয়ার অন্ত্যেষ্টির চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে তৃতীয় নামটাও ঢুকে পড়ল। তিনি— বোর্ড যুগ্ম সচিব অমিতাভ চৌধুরী। মঙ্গলবার আচমকাই মিডিয়ার কোনও কোনও অংশে দেখানো শুরু হয় যে, পূর্বাঞ্চল নাকি অমিতাভকেই নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে চাইছে। যিনি পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা পর্যন্ত টানবেন। বলা হচ্ছে, ডালমিয়া পূর্বাঞ্চল থেকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে এ বছরের শুরু দিকে মনোনীত হয়ে এসেছিলেন। এবং পূর্বাঞ্চলের টার্ম যখন চলছে, তখন নতুন প্রেসিডেন্টও সেখান থেকেই করতে হবে। অন্তত গঠনতন্ত্র তাই বলছে।

আর রাতারাতি অমিতাভ চৌধুরীর নাম উঠে আসার পিছনে যিনি রয়েছেন, তিনি নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন।

বলা হচ্ছে, আইসিসি চেয়ারম্যানের পদ সুরক্ষিত রাখার জন্য পওয়ার বা শুক্লর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার চেয়ে অমিতাভকে দাঁড় করানো শ্রীনির কাছে অনেক বেশি লাভজনক। কারণ, বোর্ড যুগ্ম-সচিব শ্রীনির বিশ্বস্তদের একজন। অমিতাভকে কোনও ভাবে প্রেসিডেন্ট করে দিতে পারলে, তাঁর আইসিসির চেয়ার নিয়ে টান পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না। ডালমিয়ার তত্ত্বও তুলে আনা হচ্ছে। বলাবলি চলছে, ডালমিয়া বরাবর চাইতেন পূর্বাঞ্চলের টার্ম মানে, পূর্বাঞ্চল থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়া উচিত। তিনি প্রয়াত হয়েছেন বলে তাঁর তত্ত্বকেও বাতিল করতে হবে, মানে নেই। আর গোটা পূর্বাঞ্চলে এই মুহূর্তে নাকি প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ও বোর্ড রাজনীতিতে অভিজ্ঞ অমিতাভ ছাড়া কেউ তেমন নেই। ওড়িশার রঞ্জীব বিসওয়াল বোর্ডের পদাধিকারী নন। তাঁর পক্ষে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়া এখন সম্ভব নয়। অসমের গৌতম রায় রাজ্য রাজনীতিতে জড়িয়ে ভাল রকম। তাঁর পক্ষে এতটা সময় দেওয়াও সম্ভব নয়। আর সিএবি এখন প্রেসিডেন্টহীন। তাই ঝাড়খণ্ডের অমিতাভ। এটাও যদিও মানা হচ্ছে যে, অমিতাভ শেষ পর্যন্ত দাঁড়ালে নির্বাচন হতে পারে। বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মত ভাবে তখন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্ভব না-ও হতে পারে।

যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক দিনে প্রয়াত বোর্ড প্রেসিডেন্টের চিকিৎসা পদ্ধতির রহস্যদ্ঘাটন এবং বোর্ডের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন—দু’টোই নাটকীয় হতে যাচ্ছে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা