১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বদলে যাচ্ছে ইউরোপে মুসলিম সংখ্যালঘুর মানচিত্র

অনলাইন ডেস্ক ॥ ইউরোপে সংখ্যালঘুর মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। আর এই পরিবর্তনটি ঘটবে মুসলিম শরণার্থীদের আশ্রায় দেওয়ার কারণে।

মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে ‘অপ্রত্যাশিতভাবে’ জার্মানিই এখন ইউরোপের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যালঘুর দেশে পরিণত হতে পারে।

গৃহযুদ্ধের মুখে দেশ ছেড়ে আসা সিরীয় শরণার্থীদের স্রোতের মুখে জার্মানিতে ইসলামের বিদ্যমান চেহারা পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে প্রথম পরিবর্তনটি হবে সংখ্যাগত।

এতদিন ১৯৬০-র দশকে আসা তথাকথিত তুর্কি ‘অতিথি কর্মীরা’-ই জার্মানির মুসলিম সমাজের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন। নতুন শরণার্থীদের মধ্যে আফগানিস্তান, ইরাক ও অন্যান্য মুসলিম দেশের নাগরিকরা থাকলেও সিরীয়রাই সংখ্যাগরিষ্ঠ (প্রায় ৪৫ শতাংশ)।

সিরীয় শরণার্থীদের প্রায় সবাই দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স তাদের সাবেক উপনিবেশগুলোর অভিবাসীদের গ্রহণ করলেও জার্মানির এ ধরনের কোনো ঐতিহ্য নেই। তাই বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব শরণার্থীদের জার্মানিতে আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল কী দাঁড়াবে তা পরিষ্কার নয়।

ইতোমধ্যে জার্মানিতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে ভাষাশিক্ষা ও চাকরি পাওয়ার সমস্যার ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন। এদের পিছু পিছু আরো কত শরণার্থী আসছে তাও জানা নেই।

মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিষয়ে জার্মানদের অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুনদের নিয়ে আশা ও উদ্বেগ দুটোই দেখা দিচ্ছে।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের দল ক্রিস্টিয়ান ডেমক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সঙ্গে জড়িত বিশ্লেষক সংস্থা কোনরাড আদেনেউর ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ থমাস ভোল্ক বলেছেন, “হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিতভাবে আমরা ৫০ লাখ মুসলিম অভিবাসীর দেশ হয়ে উঠতে পারি।”

৫০ লাখ মুসলিম সংখ্যালঘু নিয়ে নিয়ে ফ্রান্স ইউরোপের শীর্ষে আছে। আর প্রায় ৪০ লাখ নিয়ে জার্মানি আছে পরের স্থানে। কিন্তু ফ্রান্সের মুসলিম সংখ্যালঘুদের সংখ্যা অনেকটা বাড়িয়ে বলা হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের ধারণা।

চলতি বছর আট লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে জার্মানি যাদের অধিকাংশই মুসলিম। এদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে জার্মানি ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের দেশে পরিণত হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ভোল্ক বলেছেন, “এই প্রবণতা অব্যাহত আছে। আর ২০১৬ সালের পহেলা জানুয়ারিতে এটি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাবে তা নয়।”