২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিএসপি এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করায় ইউএসটিআরের সন্তোষ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার॥ ইউএসটিআর প্রতিনিধি দল নিরাপদ তৈরি পোশাক কারখানা, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গৃহীত পদক্ষেপে সন্তুষ্ট। বাংলাদেশে সফররত ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভের (ইউএসটিআর) সাউথ এন্ড সেন্ট্রাল এশিয়া বিষয়ক সহকারি মাইকেল জে, ডিলানি’র নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলর বুধ্বার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সচিবালয়ে মতবিনিময় করে। এ সময় জিএসপি ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১৬ শর্ত বিশিষ্ট এ্যাকশন প্ল্যান বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করায় সন্তোষ প্রকাশ করে।

বৈঠকে শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, জিএসপি ফিরে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৬ শর্ত বিশিষ্ট এ্যাকশন প্ল্যান বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছে। কারখানার শ্রমিকরা নিরাপদ এবং কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। শ্রমিকগণ উপযুক্ত বেতন পাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে শ্রমিকদের ২১৯ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য নতুন শ্রম আইন ও বিধি মালা তৈরি করা হয়েছে, শ্রমিক ইউনিয়ন গুলো স্বাধীনভাবে কাজ করছে। ইপিজেড-এ শ্রমিকরা ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন করছেন। তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ দায়িত্ব পালন করছেন। একটি কারখানার ৩০ ভাগ ওয়ার্কার শ্রমিক ইউনিয়ন করার জন্য আবেদন করলে, তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এ ভাবেই শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন আর কোন বিল্ডিং-এ পোশাক কারখানা নেই, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব সবকিছু করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের স্থগিতকৃত জিএসপি ফিরে পেতে আর কোন বাধা নেই।

মন্ত্রী বলেন, বাংরাদেশের ৩৬৮৫টি তৈরী পোশাক রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠানের কারখানার মধ্যে এ্যাকর্ড, এ্যালায়েন্স এবং জাতীয় উদ্যোগ ৩৪০৭ টি কারাখানা পরিদর্শন করেছে, এর মধ্যে মাত্র ৩৪ টি কারখানায় সমস্যা ছিল, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানা গুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সেফটি ডোর শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এখন নিরাপদ পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছেন। এখন আর এ্যাকর্ড, এ্যালায়েন্স-এর কারখানা পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপর জিএসপি সুবিধা দিতো না। প্লাস্টিক, টোবাকো, সিরামিক, টেবিল ওয়্যারেরমত কিছু আইটেমের উপর জিএসপি সুবিধা দিতো। যার পরিমান বছরে ২৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, এতে বাংলাদেশের তেমন আর্থিক ক্ষতি না হলেও ইমেজ সংকটের বিষয়।

বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিস্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মার্কিন প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, শ্রমিক সংগঠনের নেতার সঙ্গে বৈঠক এবং কারখানা পরিদর্শন করেছেন।