১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঠিক দাম নির্ধারিত না হওয়ার কারণে চামড়া পাচার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চামড়ার সঠিক দাম নির্ধারিত না হওয়ার কারণেই প্রতিবছর কোরবানিতে বিপুল পরিমাণ চামড়া পাচার হয়ে যায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে। দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ বছরও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাজার দরের চেয়ে অর্ধেক দামে, আর গত বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশেরও বেশি কম দামে এবার চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সঠিক মূল্য না পাওয়ার কারণে এ বছরও বিপুল পরিমাণ চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যানারি মালিকরা বলছেন, চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার কারণে সময়মতো মানসম্মত চামড়া কিনতে না পেরে বছরজুড়েই কাঁচামাল সঙ্কটে ভোগে ট্যানারিগুলো। তবে, এ বছর পাচার ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি করা হয়, যার মধ্যে বেশিরভাগই গরু আর ছাগল। দেশীয় গরু ও ছাগলের চামড়া আমদানি করা পশুর তুলনায় ভাল মানের হওয়ায় তা বিক্রিও হয় তুলনামূলকভাবে বেশি দামে। কিন্তু সরকারীভাবে দাম নির্ধারণের সময়, এ বিষয়টি কখনোই আমলে নেয়া হয় না, ফলে স্থানীয় পর্যায়ে চামড়ার দাম নিয়ে চলে এক ধরনের লাগামহীন প্রতিযোগিতা, যার নেতৃত্বে থাকেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ সুযোগে বেশি দামে চামড়া কিনে নেন পাশের দেশের ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বিটিএ সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘প্রতি বছরই বর্ডার দিয়ে কিছু চামড়া পাচার হয়ে যায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষে নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ে।’ তবে সরকারের কড়া নজরদারির কারণে বিগত বছরে চামড়া পাচার অনেকটাই কমেছে বলে দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘চামড়া পাচার হয়ে যাতে পার্শ্ববর্তী দেশে যেতে না পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হবে।’ এক্ষেত্রে, স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি, চামড়ার সঠিক দাম নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।