১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদে ব্যস্ত সময় পার করছে কামারপট্টির কারিগররা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীর কামারপট্টির কারিগররা। বাড়তি চাহিদার কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পশু কোরবানিতে প্রয়োজনীয় ছুরি, চাপাতি, দা আর বটিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি বেড়েছে কয়েকগুণ।

যদিও দোকানিদের দাবি, কয়লা, লোহার পাতসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও সে তুলনায় নিজেদের তৈরি পণ্যের ভাল দাম পাচ্ছেন না তারা। কারিগরদের কথাতেই স্পষ্ট, কতটা ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ঈদ আসতে আর বেশি বাকি নেই। তাই তৈরি করছেন ছুরি, বটি আর চাপাতি। যে কারণে দিন কিংবা রাত, কামারপট্টিতে ঢোকামাত্রই শোনা যায় লোহা কাটা কিংবা আগুনে পোড়ানো লোহা পেটানোর বিকট শব্দ।

আগেই অর্ডার পাওয়া জিনিস তো বটেই, তাড়া রয়েছে ঈদের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বেচাকেনা করার মতো পণ্য তৈরির। তবে দোকানিরা বলছেন, এসব পণ্য তৈরির ব্যয় বাড়লেও বিক্রি সময় ভাল দাম পাচ্ছেন না তারা। কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে তা রান্নার উপযোগী করে তুলতে কয়েক ধাপে প্রয়োজন পড়ে এসব লোহার তৈরি সরঞ্জামের। নিজের হাতেই তা করার জন্য অনেক ক্রেতাই কিনছেন এসব পণ্য। এক্ষেত্রে দাম একটু বাড়তি হলেও সমস্যা নেই ক্রেতাদের। প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ফেনীর কামার বাড়িগুলোতে চলছে হাড়ভাঙা খাটুনি। ব্যবসার আশা থাকলেও বিনিময়ে মিলছে না তাদের পারিশ্রমিক। আর সরকারী কোন সুবিধাও জোটে না এসব কামার শিল্পীদের ভাগ্যে। যতই ঘনিয়ে আসছে কোরবানির ঈদ। ততই টুং টাং টুং টাং আওয়াজে সরব হয়ে উঠছে ফেনীর কামার বাড়িগুলো। লোহা পিটিয়ে দা, ধামা, ছুরি, বটি বানাতে দিনরাত চলছে তাদের বংশ পরম্পরার হাড় ভাঙা খাটুনি। অথচ তাদের শ্রমে ঘামে তৈরি পণ্যগুলো বাজারজাত করেও কমছে না পরিবারের অনটন। এরপরও সারা বছরই কুড়াল, শাবল, কাস্তেসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনে ব্যস্ত থাকেন তারা। তবে প্রতিবারই কোরবানির ঈদে বাৎসরিক লাভের আশায় বুক বাঁধেন তারা। আর বছর বছর লোকসানেই দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে কামার বাড়ির আওয়াজগুলো। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বাঁচিয়ে রাখতে সরকারী-বেসরকারী কোন উদ্যোগও নেই। এদিকে সুযোগ সন্ধানী সংস্থাগুলো ঋণের জালে জড়িয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের লাভের অংশটুকু।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলী আজগর জানালেন, লোকবল সঙ্কটের কারণে কামারদের কাছে পৌঁছাতে পারেন না তারা। আর সরকারী বেসরকারী কোন সংস্থার কাছে হিসাব না থাকলেও কামারদের দাবি ফেনী জেলায়, তাদের এ পেশাকে এখনও টিকিয়ে রেখেছে আড়াই হাজারেরও বেশি পরিবার।