২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দূষণ কেলেঙ্কারিতে ফাঁসল ভক্সওয়াগন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ হঠাৎ করেই যেন পৃথিবী পাল্টে গেছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ভক্সওয়াগনের। মাত্র চার দিনের ব্যাপার। চার দিন আগেও যেখানে গাড়ি তৈরি নিয়ে গর্ব ছিল ফোক্সভাগেনের প্রকৌশরীদের। চার দিন পর সেই প্রকৌশরীদের গর্বেও বড়সড় ধাক্কা লাগল। আর তার জেরে শুধু আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়াতেই একের পর এক দেশে তদন্তের মুখে পড়েনি জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি, শেয়ার বাজারেও ধস নেমেছে। গত শুক্রবারই মার্কিন মুলুকে সামনে আসে জার্মান গাড়ি নির্মাণকারী বহুজাতিকটির দূষণ কেলেঙ্কারি। জানা যায়, সেখানে কার্বন নির্গমনের মাত্রা পরীক্ষায় যাতে ধরা না-পড়ে, তার জন্য কারচুপি করেছে ভক্সওয়াগন। ডিজেল গাড়ি তৈরির সময়ই তাতে বসিয়ে রেখেছে এমন সফটওয়্যার, যাতে তা চলার সময় আসলে যা দূষণ হচ্ছে, সেটি কমিয়ে দেখানো যায়। পরীক্ষা করতে গেলেই চালু হয়ে যায় ওই সফটওয়্যার। আর তার ফলে দূষণের মাত্রা নেমে আসে আসলের তুলনায় অনেক নিচে।

এ ঘটনা জানাজানির পর থেকেই আমেরিকা, ইউরোপ, এমনকি এশিয়াতেও একের পর এক দেশে তদন্তের মুখে পড়তে হচ্ছে জার্মান গাড়ি নির্মাতাটিকে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, এই দূষণ কেলেঙ্কারির ধাক্কা সামলাতে চলতি ত্রৈমাসিকে ৭৩০ কোটি ডলার সরিয়ে রাখার কথা জানাতে বাধ্য হয়েছে ভক্সওয়াগন। স্বীকার করে নিয়েছে, ১.১ কোটি ডিজেল গাড়িতে দূষণ আইন ফাঁকি দেয়ার ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে তারা। একবার নয়, পর পর দু’দিন ক্ষমা চাইতে হয়েছে ভক্সওয়াগনের সিইও মার্টিন উইন্টারকর্নকে।

মুখ বাঁচাতে সংস্থাটি জানাচ্ছে, বাইরের সংস্থাকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করানো হচ্ছে। কিন্তু তাতেও চিড়া ভেজেনি। বরং ফ্রাঙ্কফুর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে সোম এবং মঙ্গলবার দু’দিনে যথাক্রমে ১৭ এবং ১৮ শতাংশ পড়েছে সংস্থার শেয়ার দর। মুছে গেছে শেয়ারমূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা সংস্থার দামের এক-তৃতীয়াংশ। অনেকে বলছেন, শুধু ভক্সওয়াগনে নয়, আগামী দিনে এ ঘটনা কালো ছোপ ফেলতে পারে ‘মেড ইন জার্মানি’র মর্যাদার উপরেই। অবস্থা বেগতিক বুঝে মাঠে নেমেছেন খোদ জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মের্কেল। ইতোমধ্যেই সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন তিনি।

জার্মানির জাতীয় আয়ের ৪৫ শতাংশই আসে রফতানি থেকে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গাড়ি শিল্পের। ফলে ভক্সওয়াগন দূষণ কেলেঙ্কারি যে তাতে দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা দিতে পারে, সেই আশঙ্কার কথা শোনা গেছে অর্থমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েলের গলায়। আগামী দিনে এর জেরে মুনাফাও অনেক কমতে পারে বলে শঙ্কা সংস্থারই।