২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ

মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় এবার দারুণ ফল এসেছে। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। ৪৮ হাজার ৪৪৮ জন মেডিক্যালে ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। নম্বর প্রাপ্তিতেও অসামান্য ভাল করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত বছর সর্বোচ্চ নম্বর উঠেছিল ৮১ দশমিক ৫০, আর এবার উঠেছে ৯৪ দশমিক ৭৫। কিন্তু এ উন্নতি একদিকে হতাশার জন্ম দিচ্ছে, অপরদিকে প্রশ্নবিদ্ধও করছে ভর্তি পরীক্ষাকে। হতাশা এই অর্থে যে, পরীক্ষায় পাস করেও ৩৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাবে। মানে তারা মেডিক্যালে ভর্তি হতেই পারবেন না। কারণ পাবলিক ও প্রাইভেট মিলিয়ে দেশে মেডিক্যাল কলেজের আসনসংখ্যা ১১ হাজার ৪৯। তাই পেয়েও না পাওয়ার বেদনায় জর্জরিত হবেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। এ তো গেল একটি দিক। অন্যদিকে উত্তীর্ণ হয়েও শিক্ষার্থীদের খোটা শুনতে হবে ‘ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্র’ অনুযায়ী পরীক্ষায় পাস করার। কেননা মেডিক্যালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকাসহ কমপক্ষে আট জেলায় এ পরীক্ষা বাতিলের জন্য মেডিক্যালে ভর্তিচ্ছুরা রাস্তায় নেমে এসে মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। সংবাদ সম্মেলন করে তারা নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ফেসবুকে এ সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ মিলবে বলে তারা জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে। মেডিক্যাল ভর্তির ফল বাতিল চেয়ে করা রিটটি অবশ্য হাইকোর্টে খারিজ হয়ে গেছে। তবে রিট আবেদনকারী বিধি অনুযায়ী নতুন যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে পুনরায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের সমাজে। সরকার এ ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট রয়েছে বলেই প্রশ্নপত্র জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত লোকরা মাঝে মধ্যে ধরা পড়ছে। গত শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির একটি চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এরা চুক্তি করে বিচারক নিয়োগ পরীক্ষা থেকে শুরু করে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারী নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জালিয়াতি করে পাস করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করত। কার্যত এরা ইউজিসি কার্যালয়ে পরীক্ষা জালিয়োতির কেন্দ্র খুলেই বসেছিল। এর জন্য এরা অতি উচ্চমানের প্রযুক্তি পর্যন্ত ব্যবহার করেছে। শাসনতান্ত্রিক একটি প্রতিষ্ঠানে কী করে এমন গর্হিত কর্মকা- দীর্ঘকাল ধরে চলতে পারল, তা বিস্ময়করই বটে।

চিকিৎসকদের ওপর রোগীদের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। যদি অসুস্থ উপায়ে মাত্র একজন শিক্ষার্থীও ভবিষ্যতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে চিকিৎসক হয়ে যান, তাহলে তার হাতে মানুষের জীবন কিভাবে নিরাপদ থাকবে? বলাবাহুল্য প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তরপত্র জালিয়াতির ঘটনা আমাদের সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে না পেরে বা কাক্সিক্ষত চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে হতাশায় ভুগছেন। আবার জালিয়াতচক্রের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি না হওয়ায় অনেকে চলমান ব্যবস্থাকেই দায়ী করছে। তাই জালিয়াতচক্র নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর হতে হবে। আমরা চাই এ চক্রের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। একইসঙ্গে মেডিক্যালে ভর্তিচ্ছু এবং তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ এক কথায় নাকচ করে না দিয়ে যথাযথ তদন্ত করে দেখা দরকার। মনে রাখতে হবে, কখনই কোন রকম জেদাজেদি বা জোরাজুরি ভাল ফল এনে দেয় না। সকল মহলের সম্মিলিত চেষ্টায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানই কাম্য।