১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিদিন ট্রেনেই চট্টগ্রাম ছাড়ছে ১৫ হাজার যাত্রী

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ঈদে বাড়ি ফেরা আর আরামদায়ক ভ্রমণের নামই হচ্ছে ট্রেন যাত্রা। গন্তব্যের উদ্দেশে পৌঁছাতে বুধবার চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রত্যেকটি ট্রেন ছিল তিল ধারণের ক্ষমতাবিহীন। কারণ বৃহস্পতিবার থেকে অফিস আদালত, শিল্প কারখানা সবই বন্ধ। ফলে অধিকাংশ যাত্রীই বুধবার বিকেলের ট্রেনে যাত্রা শুরু করেছে। তবে সকালের ট্রেনগুলোতে তুলনামূলকভাবে যাত্রী ছিল সহনীয়। এদিকে আন্তঃনগর ট্রেন হলেও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ৯টি ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অগ্রিম টিকেট কেনা যাত্রীদের অবস্থা ছিল চরম অসহনীয় পর্যায়ে। কারণ স্ট্যান্ডিং টিকেট ও টিকেটবিহীন যাত্রীরা ট্রেনের এমন কোন স্থান বাদ রাখেনি। ইঞ্জিনের সামনে থেকে শুরু করে ট্রেনের ছাদে, কোচের সিঁড়িতে এমনকি দুটি কোচের সংযোগস্থলেও যাত্রীরা উঠেছে। ফলে আসনধারী যাত্রীরা দাঁড়িয়ে থাকাদের ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হলেও ঈদ যাত্রার কারণে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে না।

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন গড়ে ঈদ যাত্রার প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী গন্তব্যের উদ্দেশে ট্রেনে চড়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে তিনটি রেল রুটে এসব যাত্রী নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে। এবার সবচেয়ে বেশি যাত্রীর টিকেটের চাহিদা ছিল ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে। এছাড়াও চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা বরিশালমুখী হওয়ায় এ ট্রেনে যাত্রীদের টিকেটের চাহিদা মিটাতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে সিলেটগামী দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা ট্রেনের ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। তবে ঢাকামুখী চারটি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে সুবর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের টিকেট চাহিদাও পূরণ করতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বাকি তিনটি আন্তঃনগর ও একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট যাত্রার দিনিও বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে এবার ট্রেনে চড়ে ঈদ যাত্রায় গন্তব্যের উদ্দেশে গেছেন প্রায় দেড় লাখ যাত্রী। এর মধ্যে আসনবিহীন অবস্থায় প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী চট্টগ্রাম ছেড়েছেন।

এ ব্যাপারে পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, সবকটি ট্রেনই যাত্রীদের প্রচুর ভিড়। ঈদ যাত্রার কারণে স্পেশাল ট্রেনও চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি রয়েছে আন্তঃনগরসহ এক্সপ্রেস ও মেইল ট্রেনগুলোতে। ঈদের আগে ও পরে প্রায় এক সপ্তাহ এ ধরনের চাপ থাকবে।