২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাকরি দেয়ার নামে ৫০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মাদ্রাসা শিক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ গৌরনদী উপজেলার এক মাদ্রাসা শিক্ষক এলাকার ১৫ বেকার যুবকদের কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নামে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত দশদিন থেকে সপরিবারে আত্মগোপন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক শিক্ষক মো. আক্কাস আলী তালুকদার উপজেলার টরকী এলাকার সুন্দরদী গাউছিয়া আবেদিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।

প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার বড় কসবা গ্রামের মৃত কেতাব আলীর পুত্র সুন্দরদী গাউছিয়া আবেদিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আক্কাস আলী তার নিজ পুত্র আমিনুল ইসলাম আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের চাকরি দেয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন।

সূত্রমতে, আক্কাস আলী সরকারী চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে উপজেলার কমলাপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ৩ লাখ, উত্তর পালরদী গ্রামের সেকান্দার আলীর কাছ থেকে ৪ লাখ ১০ হাজার, বড় কসবা গ্রামের ইদ্রিস খানের কাছ থেকে ২ লাখ ৫ হাজার, একই গ্রামের সফি সরদারের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার, সোহেল হাওলাদারের কাছ থেকে ২ লাখ, লিয়াকত সরদারের কাছে থেকে ২ লাখ টাকাসহ ১৫ জন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। আক্কাস আলী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ও মৌখিকভাবে ভাল চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব টাকা নেন। স্কুল শিক্ষক সেকান্দার হোসেন জানান, তার পুত্রকে ব্যাংকে অফিসার পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে আক্কাস সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। তিনি বলেন, তার বাবার পৈত্রিক ভিটেমাটি বিক্রি ও ঋণ করে ছেলের চাকরির জন্য ওই টাকা দেয়া হয়। কিন্তু প্রতারক আক্কাস টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, আক্কাসের পুত্র আইন মন্ত্রণালয়ের কোনদিনই চাকরি করেননি। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে সে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আক্কাস আলীর কর্মরত প্রতিষ্ঠান সুন্দরদী গাউছিয়া আবেদিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রব জানান, শিক্ষক আক্কাসকে একাধিকবার নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও গত ৪ মাস ধরে সে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে আক্কাস আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। আক্কাসের স্ত্রী রাশিদা পারভীনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাকরি দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা বাড়ি ফেলে আত্মগোপন করিনি। একটি বড় ঋণের জন্য ঢাকায় এসেছি। খুব শীঘ্রই বাড়ি ফিরে আসব। পুত্র আমিনুল ইসলাম আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে সে আইন মন্ত্রণালয়ে চাকরি করতেন বর্তমানে তার চাকরি নেই।