১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আলুবাজার ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি, যানজট দুর্ভোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর ॥ শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের আলুরবাজার ফেরিঘাটে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় বিআইডব্লিইটিসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মালবাহী যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায় করার কারণে শরীয়তপুরের পাশে দীর্ঘ ২ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে এবং পরিবহনের লোকেরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা বলছে, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই টোল আদায় করছে তারা। কোন চাঁদা নেয়া হচ্ছে না। এ ফেরিঘাট দিয়ে পারাপার হয়ে প্রতিদিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার পরিবহনের বাস ও মালবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন এবং যাত্রীরা যাতায়াত করে থাকে। ফেরিঘাটটি ইজারামুক্ত করার পর থেকে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গাড়ি পারাপার করে থাকে। এখানে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী পচনশীল ও যাত্রীবাহী যানবাহনসহ গরুর গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করার নিয়ম থাকলেও ঘাটের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাগণ ব্যাপকভাবে চাঁদা আদায় করছে। তারা কাঁচামালের গাড়ি, গরুর গাড়ি, মুরগির বাচ্চার গাড়ি মাছের গাড়িসহ পচনশীল দ্রব্যের গাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোন গাড়িই পারাপার করছে না। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বালার সহায়তায় কতিপয় প্রভাবশালী আলুরবাজার ফেরিঘাটে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদাবজির কারণে আলুরবাজার ঘাটে গত ২/৩দিনে প্রায় ২ কিলোমিটারব্যাপী যানজটের সৃষ্টি হয়েছে । এতে করে আটকেপড়া যানবাহন শ্রমিকরা দুর্ভোগে পড়েছে। গাড়ি চালকরা অভিযোগ করে বলছে, দিনের বেলায় অতিরিক্ত টাকা না দিলে গাড়িতে সিরিয়াল দেয়া হয় না । রাত হলে ইচ্ছেমত টাকা চায় ঘাটের লোকজন। না দিলে জোর করে টাকা আদায় করে। অনেক সময় আমাদের মারধর করে থাকে। এ ব্যাপারে মুরগির বাচ্চার ট্রাক চালক আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা আলুরবাজার ফেরিঘাটে আসলে আমাদের থেকে অতিরিক্ত ৪/৫ শ’ করে টাকা নেয়। টাকা না দিলে সিরিয়াল দিতে দেরী করে পিছনে ফেলে রাখে। এতে করে আমাদের মুরগির বাচ্চা মরে যায়। কোম্পানি আমাদের গালমন্দ করে। সখিপুর থানার উপ-পরিদর্শক ইমরান বলেন, আমাদের সহায়তায় কোন চাঁদাবাজি হয় না।

চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।

আলুরবাজার ফেরিঘাট বিআইডব্লিউটিসির এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা কম্পিউটারের মাধ্যমে স্কেলে মাপ দিয়ে টোল আদায় করে থাকি। ২০ মেঃ টন পর্যন্ত ১ হাজার ৪শ‘ টাকা। বাকি প্রতিটনে ১৬০ টাকা আদায় করে। কারও থেকে কোন চাঁদা নেয়া হয় না। পচনশীল মালের গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার হয়ে থাকে। তবে আমাদের লোকবল কম থাকার কারণে আমাদের অজান্তে কিছু প্রভাবশালী চাঁদা নেয় বলে আমাদের কাছেও অভিযোগ রয়েছে।