২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুশফিকদের শুরুর দিনেই আসছে অস্ট্রেলিয়া

  • বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দুই দলের লক্ষ্য একটাই, টেস্ট সিরিজ জয়। ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ সফরের মিশন শুরু করবে। একই দিনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অনুশীলন করা দিয়ে সিরিজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার মিশন শুরু করে দেবে। সেই সঙ্গে দুই দলের সিরিজ জয়ের মিশনও শুরু হয়ে যাবে।

দুই দলের মধ্যকার ব্যাট-বলের লড়াই অবশ্য শুরু হবে ৯ অক্টোবর। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট দিয়ে সেদিন সিরিজ শুরু হবে। এরপর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৭ অক্টোবর দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে নামবে দুই দল। এ ম্যাচটি শেষ হতেই সিরিজও শেষ হয়ে যাবে।

বাংলাদেশে অবশ্য সব ক্রিকেটার একসঙ্গে একই ফ্লাইটে আসবেন না। ২৭ সেপ্টেম্বর সিকিউরিটি ম্যানেজার বাংলাদেশে এসে পড়বেন। ২৮ সেপ্টেম্বর আসবেন সব অসি ক্রিকেটার। তবে বিকেল থেকে কয়েক ধাপে বাংলাদেশে আসবেন অসি ক্রিকেটাররা। বিকেল ৫টার আগে ১ ক্রিকেটার, রাত ৮টার আগে ৮ ক্রিকেটার, রাত ১১টার আগে আরও ১৬ ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ ঢাকায় পা রাখবেন। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত লাগাতার ৪ দিন মিরপুরে অনুশীলন করবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটাররা। কন্ডি-শনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে। এরপর ৩ অক্টোবর থেকে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে নামবে। ৫ অক্টোবর প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে ৬ অক্টোবর চট্টগ্রামে চলে যাবে অস্ট্রেলিয়া। সেখানেই সিরিজের মূল পর্বের প্রথম টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ২১ অক্টোবর খেলা শেষ হতেই রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে বিমানে চড়বে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন দলের ক্রিকেটাররা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা এখন ঈদের ছুটি কাটাচ্ছেন। তবে ভারতে থাকা ক্রিকেটাররা সেই কাজ করতে পারছেন না। ভারত সফরে থাকা জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বাদে বাকিরা ২৮ সেপ্টেম্বর অনুশীলনে নেমে পড়বেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে যারা বিসিবি একাদশে সুযোগ পেয়েছেন, তারা প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবেন। বাকিরা মিরপুরে অনুশীলনের মধ্যেই থাকবেন। ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররাও সকালেই চট্টগ্রামে পৌঁছে যাবে।

এ সিরিজ নিয়ে এরই মধ্যে চিন্তায় আছেন অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা যে এ সফরের আগেই অবসর নিয়ে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে কয়েকজন নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার আবার বাংলাদেশ সফরে নেই। তাই স্মিথের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বলা কথাবার্তা থেকেই বোঝা গেছে।

স্মিথ বলেছেন, ‘নিজ দেশে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন হবে।’ স্মিথ বুঝে গেছেন, চ্যালেঞ্জ সামনে আছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি যে যেনতেন সিরিজ হতে যাচ্ছে না তাও বুঝে গেছেন।

এরইমধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। যেখানে দুই ক্রিকেটার আছেন, যাদের এখনও জাতীয় দলে অভিষেকই হয়নি। আর ৫ ক্রিকেটারের ১০ টেস্টের বেশি খেলার অভিজ্ঞতাই নেই! অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে মাইকেল ক্লার্ক, ব্র্যাড হ্যাডিন, রায়ান হ্যারিস, শেন ওয়াটসন ও ক্রিস রজার্স অবসর নিয়ে ফেলেছেন। পেসার মিচেল জনসন ও হ্যাজলউডকেও বিশ্রামে রাখা হয়েছে। মিচেল স্টার্কও পুরোপুরি ফিট নন। এমন অবস্থায় স্থায়ীভাবে নেতৃত্ব পাওয়া স্মিথের সামনে তরুণ দলটি নিয়ে দেশের বাইরে খেলা কঠিন হয়ে পড়বে, এটাই মনে করা হচ্ছে। অবশ্য জয়ের কথা ঠিকই বলছেন অসি অধিনায়ক, ‘যে কোন টেস্টই জয়ের জন্য খেলি। যেখানেই খেলি, জয় পেতে চাই। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটিও এর ব্যতিক্রম নয়।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘তবে সফরটি কঠিন হতে যাচ্ছে। তবে আমি আশাবাদী কন্ডিশন মানিয়ে নিয়ে সফল সফরই হবে।’ স্মিথ যেখানে জয়ের কথা বলছেন, সেখানে ২০১৫ সালটিতে দুর্দান্ত খেলতে থাকা বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের নজরও জয়ের দিকেই। বলেছেন, ‘এটাই অস্ট্রে-লিয়াকে হারানোর সেরা সুযোগ। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এরচেয়ে বড় সুযোগ আর হয় না। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব দুটি টেস্ট ম্যাচে আমাদের শতভাগ বা তার চেয়ে বেশি দেয়ার।’

তবে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা না থাকুক, এরপরও দলটি শক্তিশালী বলেই জানিয়েছেন মুশফিক, ‘অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল। তারা সব সময় র‌্যাঙ্কিংয়ের এক বা দুই নম্বরে থাকে। আপাতত তারা যতই খারাপ খেলুক না কেন, তারা যে কোন কন্ডিশনে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। বাংলাদেশও প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ভাল খেলার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। আশা করছি সিরিজটি ভাল হবে।’

সর্বশেষ ২০০৬ সালে বাংলাদেশে টেস্ট খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই দলের কেউই বর্তমান দলে নেই। অজিদের বর্তমান দল নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘তাদের এই দলটি খুব মেধাবী। তারা এখন যেমনই খেলুক না কেন অস্ট্রেলিয়া সব সময়ই শক্তিশালী। আমরা সর্বশেষ চার সিরিজে যেমন খেলেছি, এই সিরিজেও সেই খেলা ধরে রাখতে পারলে সম্ভাব্য সেরা ফলাফলই আশা করছি।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মোট চার টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। তাতে হারতে হয়েছে প্রতি ম্যাচেই। তিন ম্যাচেই আবার ইনিংস ব্যবধানে হার হয়েছে। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। ফলে আশাটাও অনেক। সেই আশা পূরণ যেন হয় এ জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর থেকেই অনুশীলনে নেমে পড়বে বাংলাদেশ দল। একইদিন অস্ট্রেলিয়া দলও বাংলাদেশে আসবে। দুই দলের সিরিজের মিশন একইদিনে শুরু হচ্ছে।