২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুবাদের বিরুদ্ধেই প্রস্তুতি ম্যাচে বেসামাল জাতীয় ফুটবলাররা

  • কোচ লোপেজ দল নিয়ে বিকেএসপি যাবেন ২৭ সেপ্টেম্বর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষা। সেই পরীক্ষার স্থানটিই যদি হয় অনুপোযোগী, তাহলে পরীক্ষা কতটা ভাল হবে? বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তেমনটাই হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল এবং বাংলাদেশ জাতীয় অনুর্ধ ১৯ ফুটবল দলের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃষ্টিভেজা কাদা মাঠে। উভয়দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল এ্যাসিড টেস্টের। কেননা, ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আগামী ১৩ অক্টোবর এ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশ জাতীয় দল মোকাবেলা করবে কিরগিজস্তানের। আর আগামী ২-৬ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘এএফসি অনুর্ধ ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ‘এ’ গ্রুপের খেলা। নিজেদের শাণিয়ে নিতে সিনিয়র ও জুনিয়র দলের একটি অনুশীলন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় বুধবার। তাতে সিনিয়র দল ১-০ গোলে হারায় যুবদলকে। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ফয়সাল মাহমুদের কর্নার থেকে গোল করেন শাহেদুল আলম শাহেদ। যুবদল হারলেও লড়াই করেছে সমানতালে। তাদের দুটি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে।

এই ম্যাচ দেখে ৪১ ফুটবলারের মধ্যে চূড়ান্ত ২৩ ফুটবলারকে বেছে নেয়ার কথা জাতীয় দলের নতুন ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজের। প্রায় ৯ দিন দলকে ট্রেনিং করিয়েছেন তিনি। গুঞ্জন ছিল এই ম্যাচেই হয় তো দল ছোট করে আনবেন লোপেজ। কিন্তু সেটি করেননি তিনি। ম্যাচ শেষে জানালেন ২৭ সেপ্টেম্বর ছুটি শেষে বিকেএসপিতে যাবে বর্তমান দলের সবাই (তার আগে ওইদিন বাফুফে ভবনে সকালে খেলোয়াড়দের রিপোর্ট করতে হবে। কেননা তিনদিন ঈদের ছুটি পাবে খেলোয়াড়রা)। কবে দল চূড়ান্ত করবেন বিষয়টা এড়িয়ে গেলেন কোচ।

ম্যাচে দুই অর্ধে মোট ৩৫ ফুটবলারকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছেন লোপেজ। তাদের ফিটনেস নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানান তিনি। ‘তবে দুই মাসের মধ্যে আশা করি খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঈর্ষণীয় পর্যায়ে থাকবে।’

ম্যাচে মামুনুল-এমিলিদের থেকে কোন অংশে কম গেলেন না ইব্রাহিম-নিপুরা (অনুর্ধ ১৯ দল)। কোচ প্রথম একাদশের সঙ্গে অনুর্ধ ১৯ দলের ইব্রাহিম দুই গোল করেছিলেন। তবে দুটিই বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। নিজের দল জিতলেও কোচ লোপেজ অবশ্য ম্যাচের ফলটাকে বেশি গুরুত্ব দেননি, এটা একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ। তারা কে কেমন খেলে সেটাই একটু যাচাই করে দেখা। ফিটনেসের ঘাটতিটা একটু চোখে পড়েছে। মাত্র ৫-৬ দিনে কতটুকুই আর উন্নতি ফিটনেসের। তারা কিছুদিন আগেই জর্দানের সঙ্গে খেলেছে।’ হারলে অনুর্ধ ১৯ দলের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন লোপেজ, ‘তারাও খুব ভাল খেলেছে। আমি ইমপ্রেসড। এই দলে এমন অন্তত ২-৩ জন আছে যারা এখনই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারে।’ তবে লোপেজ সন্তুষ্ট হলেও এখনই অনুর্ধ ১৯ দলের কাউকে জাতীয় দলের সঙ্গে নিতে চাইছেন না, ‘সামনেই তাদের (১৯ দলের) বড় ম্যাচ আছে। তাই এখন ওইদল থেকে কাউকে নিতে চাচ্ছি না। তাছাড়া আমাদের দলটাই অনেক বড়। ৩৫ জনকে এখন পর্যন্ত পেয়েছি। যা দিয়ে তিনটা একাদশ করা সম্ভব।’

অনুর্ধ ১৯ দলের হেড কোচ (জাতীয় দলের সহকারী) সাইফুল বারী টিটু ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমার দলের খেলোয়াড়রা ভাল পারফর্মই করেছে। তবে যেহেতু তাদের বয়স কম এখনই নিজেদের পারফর্মেন্সে যেন তারা বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়। ১৯ দলের এই ফুটবলাররা একসময় জাতীয় দলে খেলবে সেটি তারা মাথায় রাখুক। কিন্তু ভাল ফল পেতে অন্তত দুই বছর তাদের সময় দেয়া উচিত।’

অনুর্ধ ১৯ দলের ফুটবলাররা ফিটনেসে এগিয়ে সেটি সরাসরি স্বীকার না করলেও কোচ টিটু বলেন, ‘আসলে জাতীয় দলের ফিটনেস নিয়ে তো আর খুব একটা কাজ করার সময় পাওয়া যায়নি। যখন দলটা ছোট হয়ে এসেছে তখন তাদের নিয়ে কাজ করাটা আরও সহজ হয়ে যাবে। এখনের সময়টা তো আসলে বলতে গেলে ট্রায়াল সেশনই।’ এএফসি অনুর্ধ ১৯ বাছাইপর্বে খেলার আগে অন্তত আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে ইচ্ছুক টিটু। তবে প্রতিপক্ষ পাওয়া যে মুশকিল এই অল্প সময়ের মধ্যে, স্বীকার করেন সেটাও।

নির্বাচিত সংবাদ