২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতি

  • কাল ঈদ-উল-আযহা ॥ সারাদেশে আনন্দ- উৎসবের বন্যা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যাগ্রহ’ শক্তির উদ্বোধন! দুর্বল! ভীরু ! চুপ রহো, ওহো খামখা ক্ষুব্ধ মন! ধ্বনি উঠে রণি’ দূর বাণীর, আজিকার এ খুন কোরবানির। রাত পোহালেই ঈদ-উল- আযহা। ত্যাগ স্বীকারের অনন্য মহিমার দিন। বিশ্বের মুসলমানদের অন্যতম প্রধান পবিত্র ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানও এটি। দিনটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে সারাদেশে শুরু হয়েছে আনন্দ ও উৎসবের বন্যা। আল্লাহ পাকের প্রতি অপার আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে প্রতিটি ঘরে ঘরে। শুক্রবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নামে পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটগুলো এখন জমজমাট। সাধ্যমতো কোরবানির কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই। রাজধানী ঢাকায় অন্যবারের ন্যায় এবারও বসেছে একাধিক কোরবানির হাট। তাই গন্তব্য সবার পশুর হাটের দিকে। পরিবারের সবাই দলবেঁধে ছুটছেন পছন্দের কোরবানির পশু কিনতে। কেনা হয়ে গেলে গলায় মালা পরিয়ে আনন্দে ঘরে ফিরছেন। রাজধানীর পাশাপাশি গ্রাম বাংলায়ও কোরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত সবাই। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ গরু ছাগল এবার ঈদে কোরবানি করা হবে। রাজধানীতে ঈদের দিন পর্যন্ত কেনাবেচা হবে কোরবানির পশু।

ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশের প্রতিটি মুসলমানের ঘরে বইছে খুশির বন্যা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে কর্মস্থল থেকে মানুষ এখন ঘরমুখী। তিন দিনের ছুটি যথাযথভাবে উপভোগ করতে কষ্ট স্বীকার করেই চলছে বাড়ির পানে। আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়ে চলে গেছে লাখ লাখ মানুষ। কোরবানির পাশাপাশি ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। ঈদের নামাজ শেষেই কোরবানি করার বিধান রয়েছে। তাই দলে দলে মুসল্লিরা আগে ঈদের নামাজে শরিক হবেন। অন্যবারের ন্যায় এবারও দেশের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেত্রী রওশন এরশাদ এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। কোরবানির মহান ত্যাগে বলীয়ান হয়ে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

ঈদ-উল-আযহা উপলেক্ষে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে সরকারী ছুটি। সামান্য ছুটিতেই সবাই ছুটছেন বাড়ির পানে। সড়ক, নৌ, রেলপথগুলো এখন ঘরে ফেরা মানুষের পদচারণায় মুখরিত। যদিও ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এ উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। সরকারী বেসরকারী বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) এবং অন্যান্য বেসরকারী সংস্থা বিপুলসংখ্যক যাত্রীর যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এজন্য তারা আগেই অগ্রিম টিকেট বিক্রি করেছে।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা দিয়ে সুশোভিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের দিন সকল সরকারী বেসরকারী ভবনেও জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা উত্তোলন করা হবে। কারাগার, হাসপাতাল, ভবঘুরে কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশু সদনে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এদিকে এবার ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোরবানির জন্য স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ইসলামের পরিভাষায় কোরবানি হলো নির্দিষ্ট পশুকে একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরই নামে জবেহ করা। ঈদ-উল-আযহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে, মনের পশু অর্থাৎ কু-প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করা। জাতীয় কবির ভাষায় : মনের পশুরে কর জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই..’। পবিত্র হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতি বছর জিলহজ মাসের দশ তারিখে বিশ্ব মুসলিম ময়দানে নামাজ আদায়ের পর যার যা সাধ্য ও পছন্দ সেই অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। আরবী ‘আযহা’ এবং ‘কোরবান’ উভয় শব্দের অর্থ হচ্ছে উৎসর্গ। কোরবানি শব্দের উৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা ও অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া। ইসলামী বিধান অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন একদিন কোরবানি করা যায়। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এ শ্রেণীর অন্য প্রাণী কোরবানি করা যায়। কোরবানিকৃত পশুর ৩ ভাগের ১ ভাগ গরিব-মিসকিন, একভাগ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়।

কোরবানির ইতিহাস অতি প্রাচীন। মহান আল্লাহ ইব্রাহীম (আঃ)কে তাঁর শেষ বয়সে প্রিয়তম পুত্র ইসমাইল (আঃ)কে কোরবানি করার নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় ছেলেকে কোরবানি দেয়া তাঁর এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি তাঁর মহান রবের হুকুমে নত হলেন। নিষ্পাপ পুত্র ইসমাইলও (আঃ) নিজেকে আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। এক পর্যায়ে পিতা তাঁর পুত্রকে জবাই করতে যখন উদ্যত ঠিক তখনই মহান আল্লাহর কাছে ইমানের কঠিন পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন।

আল কোরানে এই মহিমান্বিত ত্যাগের ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সঙ্গে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম (আঃ) তাকে বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে কোরবানি করছি। এখন তোমার অভিমত কী? সে বলল, হে পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলেন এবং ইব্রাহীম (আঃ) তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সৎকর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে জবাই করার জন্য দিলাম এক জন্তু।’’ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর অনুপম ত্যাগের অনুসরণে বিশ্ব মুসলমানরা কোরবানি করে আসছেন। তারই নিদর্শনস্বরূপ প্রতিবছর হজ পালনকারীরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

প্রায় ৪ হাজার বছর আগে হযরত ইব্রাহীম (আ.) পুত্র কোরবানির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় প্রতি বছরই পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহপাকের আনুগত্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহম্মদ (সা.)ও এই আদর্শ অনুসরণ ও বহাল রাখতে আদিষ্ট হন। তিনিও তাঁর জীবদ্দশায় প্রতি বছরই কোরবানি করেছেন এবং তার উম্মতদের জন্য এই আদর্শ ও প্রথা অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দিয়ে গেছেন।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত ॥ পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ইতোমধ্যে জাতীয় ঈদগাহের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঈদের প্রধান জামায়াত সকাল সাড়ে আটটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। প্রধান ঈদের জামাতে শরিক হবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্যসহ সব শ্রেণী পেশার মানুষ এতে অংশ নেবেন। ঢাকায় উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতে মহিলাদেরও ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। তার বিকল্প হিসেবে থাকবেন মুফতি ওয়াহিদুজ্জামান। অন্যান্যবারের ন্যায় এবারও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। এছাড়া বায়তুল মোকারমের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায়, পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা পৌনে ১১টায়।

জাতীয় সংসদ প্লাজায় ঈদ জামাত ॥ এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদ-উল-আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। এই জামাতে জাতীয় সংসদের হুইপরা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন।

ঢাকা ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাত ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জমিয়ায় ঈদ-উল-আযহার দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সল্লিমুল্লাহ হল প্রধান গেট সংলগ্ন মাঠে এবং শহীদুল্লাহ হল লনে ঈদ-উল-আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

আহলে হাদিস ঈদ জামাত ॥ পুরান ঢাকাসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আহলে হাদিসের ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে বংশাল বড় জামে মসজিদ কমিটির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে খুতবা প্রদান ও ইমামতি করবেন বংশাল আহলে হাদিস বড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আলহাজ মোস্তফা বিন বাহাউদ্দিন আস সালাফি। তবে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে বংশাল বড় জামে মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় ঈদ-উল-আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের সহসভাপতি মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন।

ঢাকার অন্যান্য ঈদের জামাত ॥ সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকসনের হারুন মোল্লা ঈদগাহ, পার্ক ও খেলার মাঠ সকাল সাড়ে ৭টায়, মিয়া সাহেব ময়দান খানকা শরীফ জামে মসজিদ ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে সকাল সাড়ে ৭টায়, মিরপুর সেকশন ১২ ডি ব্লকস্থ মাঠে সকাল ৭টায়, রসুলবাগ জামে মসজিদের প্রথম জামাত সাড়ে ৭টায়, মানিকনগর পুকুরপাড় জামে মসজিদে প্রথম জামাত সাড়ে ৭টায়, সায়দাবাদ আরজুশাহ পাক দরবার শরীফ বড় জামে মসজিদের প্রথম জামাত ৭টায়, পল্লীমা সংসদ ময়দানে ঈদ জামাত সকাল ৮টায়, দারুস সালাম মীর বাড়ি আদি জামে মসজিদে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা ॥ মানিকনগর পুকুরপাড় জামে মসজিদের দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, রসুলবাগ জামে মসজিদের দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, সায়দাবাদ আরজুশাহ পাক দরবার শরীফ বড় জামে মসজিদের দ্বিতীয় জামাত ৮টায়, নুরানী জামে মসজিদ লক্ষ্মীবাজার ৮টায়, মগবাজার বিটিসিএল কলোনি জামে মসজিদ সকাল ৮টায়।

সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা ॥ সায়দাবাদ আরজুশাহ পাক দরবার শরীফ বড় জামে মসজিদের তৃতীয় জামাত ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।