২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোরবানির পশুতে সয়লাব ঢাকা, জমে উঠেছে সারাদেশের হাট

  • রাজধানীতে গরুবাহী ট্রাক ঢুকছেই আমদানি বেশি, দাম কমতির দিকে যেতে পারে

রহিম শেখ ॥ রাত পোহালেই ঈদ-উল-আযহা। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কোরবানির পশুতে সয়লাব হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা। এক কথায় বলা যায়, জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। বৃষ্টি-কাদার মধ্যেই প্রতিটি হাটেই উপচেপড়া গরুর সঙ্গে ক্রেতাও ছিল ঠাসা। দুর্ভোগ ও ভোগান্তি নিয়েই কোরবানির পশু কিনে বাড়িমুখী হচ্ছেন বিক্রেতারা। কত কয়েকদিনের তুলনায় বেচা-বিক্রিও বেড়েছে। তবে সে বিক্রি নিয়ে খুব বেশি খুশি নন বিক্রেতারা। গরু আমদানি বেশি হওয়ায় দাম শেষ পর্যন্ত কমতির দিকে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। আর সেই শঙ্কা নিয়ে গরুর দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যাপারীরা। এদিকে রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলীতে বিপুলসংখ্যক পশু ওঠায় রাখার জায়গা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। একই চিত্র রাজধানীর অধিকাংশ হাটেও। বৈধ হাটের সঙ্গে মিশে গেছে অবৈধ হাট। সকাল-সন্ধ্যা কিংবা মধ্য রাতে গরুবাহী ট্রাক এখনও রাজধানীতে ঢুকছে। ফলে ফুটপাথ, মূল সড়ক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এমনকি হাসপাতালের সামনের স্থান দখল করে বসেছে গরুর হাট। ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের ওপরেও বিক্রি হচ্ছে গরু। পাড়া-মহল্লা, মার্কেট-শপিংমলের সামনেও গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন পশু হাট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ হাটেই গরু রাখার জায়গা নির্দিষ্ট জায়গা পূরণ হয়ে গেছে। ফলে আশপাশের সড়ক ও খালি জায়গা দখল করছেন ব্যাপারীরা। বেশি গরু ওঠায় ইজারাদাররা খুশি থাকলেও ব্যাপারীরা স্বস্তিতে নেই। বরং আমদানি বেশি হওয়ায় তারা কিছুটা চিন্তিত। নগরীর গাবতলী, আগারগাঁও তালতলা, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, মেরাদিয়া বাজার, উত্তর শাহজাহানপুরের মৈত্রী সংঘের মাঠ, মিরপুর সেকশন-৬-এর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, কুড়িল ফ্লাইওভার সংলগ্ন পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফুট প্রশস্ত সড়ক, মিরপুর সেকশন-১১-এর বাউনিয়া বাঁধসংলগ্ন খেলার মাঠসহ সব হাট কোরবানির পশুতে কানায় কানায় পূর্ণ। কোন কোন হাট নির্দিষ্ট সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। অস্থায়ী হাট চলে এসেছে মূল সড়কে। গাবতলীর মূল হাট ছেড়ে ট্রাকস্ট্যান্ডসহ আশপাশের সড়কের পাশে গরু রাখা হয়েছে। গাবতলী হাটের প্রবেশমুখেই গরু বিক্রি করতে দেখা গেছে। আগারগাঁও হাটের গরু চলে এসেছে শেরেবাংলা নগর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের প্রবেশমুখের সামনে। রাজধানীর অন্যান্য অস্থায়ী হাটগুলোর সঙ্গে মিশে গেছে অবৈধ হাট। রাজধানীতে যেভাবে গরু আসছে তাতে অধিকাংশ হাট আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বুধবার সরেজরিমন গাবতলী হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে পশু রাখার তিল ধারণের জায়গা নেই। তবে বিশেষ কিছু পশুর দাম আকাশচুম্বী। কোন কোন খাসির দাম হাঁকা (সাদা ও কালো ছোপ দাগের) হচ্ছে লাখ টাকার ওপরে। যে খাসিতে দেড় মণ মাংস পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে এ হাটে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি উট। এসব উটের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। দাম হাঁকা হচ্ছে সাত লাখ করে। গাবতলী হাটে এবার দেশি গরুর আমদানি বেশি। গরুর পাশাপাশি মহিষ, ছাগলের সরবরাহও প্রচুর। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রচুর সরবরাহ থাকায় দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। কিন্তু গত কয়েকদিন দাম গরুর দাম বেশি চড়া ছিল বলে অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করলেন। শত দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যেই বুধবার হাটের এপাশ-ওপাশ ঘুরে গরু কিনেছেন অনেক ক্রেতাই। দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে কাদা-পানি ও বর্জ্যরে মধ্যেই চলে বেচা-বিক্রি। অনেক ক্রেতাকেই ছাতা মাথায় নিয়ে গরু কিনতে দেখা গেছে। ৬২ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন নাছির হোসেন নামের এক ক্রেতা। এর আগে দু’দিন হাটে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বৃষ্টি, কাদা-পানিতে ও চড়া দামের কারণে গরু কেনা হয়নি। তিনি জানান, এখন দাম একটু কমতির দিকে থাকায় ভাল দামেই গরু কিনেছি। এ হাটে কয়েক ক্রেতাকে অবশ্য দেখা গেল ঘুরে ঘুরে মোটাতাজা গরুগুলোকে পরখ করছেন। তাদের একজন বললেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তিনি এই গরুগুলোর সঙ্গে অন্য গরু মিলিয়ে দেখছেন। তিনি জানান, সবাই স্বাস্থ্যকর গরু কিনতে চায়। এ হাট থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাঝারি মানের তিনটি দেশি গরু কিনেছেন মিরপুর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, হাটে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু থাকলেও মাঝারি মানের তিনটি গরু কিনেছি। সবাই এখন জানে কিভাবে গরু মোটাতাজা করা হয়। তবে হাটের পরিবেশ দেখে অসন্তোষ জানালেন এ ক্রেতা। বৃষ্টির পানি, কাদায় ও গরুর বর্জ্যে দুর্ভোগের শেষ নেই। তার পরও ঈদ উৎসবের অনুষঙ্গ তাই পশু কেনা।

এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে, কাদায় দাঁড়িয়ে ও শুয়ে থাকতে থাকতে অধিকাংশ পশুগুলোকে রোগা মনে হচ্ছিল। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে গত সোমবার ১৭টি গরু নিয়ে এসেছেন আজিজুল ব্যাপারী। এ পর্যন্ত ৪টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। এর মধ্যে বুধবার সকালেই দুটি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, গরু বিক্রি হচ্ছে না। অথচ প্রতিদিন নিজের হোটেল ভাড়া ও খাবার বাবদ দুই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আর ১৭টি গরুর পেছনে প্রতিদিন এক হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এক আঁটি খড় কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকায়। খৈল ও কাঁচা ঘাস কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকার। দুই হাজার টাকা দিয়ে বৃষ্টি থেকে গরুকে রক্ষায় পলিথিন কিনেছেন। আজিজুল ব্যাপারী বলেন, এবার লাভ দূরে থাক, আসল ওঠানোই দায় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে এবার সর্বনাশের মধ্যে পড়েছেন। এই হাটে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন কুষ্টিয়ার সাইফুল। তিনি বলেন, ভারতের গরু আসবে না, তাই এবার গরুর ভাল দাম পাব- এমন আশায় তিন মাস আগে ১৫ লাখ টাকায় ১২টি গরু কিনেছিলাম। কিন্তু এখন বাজারের যে অবস্থা, তাতে মনে হয় ১০ লাখ টাকাও উঠে আসবে না। সর্বনাশের আশঙ্কায় তার ঘুম ও খাওয়া বন্ধ দু’দিন ধরে। নিজের পালা পাঁচটি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের সগির হোসেন। তিনি বলেন, আশা করছিলাম ৭০-৮০ হাজার টাকা করে গরু বিক্রি করব। কিন্তু মানুষ ৪০ হাজার টাকার বেশি আগায় না। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় গরু না এলে ভাল দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন অনেক বিক্রেতা। গাবতলী হাটের ইজারাদার কর্মী সানোয়ার হোসেন জানান, গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটে ছাউনি আছে। তবে এবার বেশি গরু আসায় হাট অনেক এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এত বড় হাট ত্রিপল দিয়ে ঢাকা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যারা ত্রিপলের নিচে গরু রাখতে চান, তাদের বাড়তি টাকা দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারীরা টাকার ভয়ে গরুগুলো বৃষ্টিতে ভেজান। মিরপুরের মনিপুর এলাকার ব্যবসায়ী আসিফ হোসেন গাবতলী থেকে ৫৭ হাজার টাকায় মাঝারি আকারের একটি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, এবার গরুর দাম গতবারের চেয়ে সামান্য চড়া থাকলেও তা ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নয়। গত বছর তিনি এ রকম সাইজের একটি গরু ৪২ হাজার টাকায় কেনেন বলে জানান।

চট্টগ্রামে জমে উঠছে কোরবানির হাট ॥ চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর বাজারগুলোতে দেখাদেখির পালা শেষ। পুরোদমে চলছে কেনাবেচা। নগরীর সাগরিকা, বিবিরহাট, স্টিল মিল, বড়পুলসহ প্রত্যেকটি পশুর বাজারেই বুধবারের চিত্র ছিল জমজমাট। এতদিন যারা দেখাদেখি ও দর যাচাই করে সময় ব্যয় করেছেন তারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন পশু কেনায়। তবে শেষ সময়ে ক্রেতার চাপ বেশি হলেও বাজারে গরুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দামও নাগালের মধ্যে। অপরদিকে, বিদেশী গরু তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বিক্রেতারাও সন্তুষ্ট। চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা, বিবিরহাট ও স্টিল মিল বাজারে প্রচুর কোরবানির পশু। ফলে ক্রেতার চাপ থাকলেও মূল্য ছিল সহনীয়। কিন্তু এমন অনেক বাজার রয়েছে যেখানে পশুর সরবরাহ অপেক্ষাকৃত কম। বিশেষ করে শহরের বাইরে এ চিত্র দেখা যায়। ফলে সেখানে পশুর দাম কিছুটা চড়া। আজ বৃহস্পতিবার হবে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা। কারণ, কোরবানিদাতাদের যেমন পশু কিনতেই হবে, ঠিক তেমনিভাবে বিক্রেতারাও তাদের আনা গরুগুলো ছেড়ে দেবেন। ঈদের আগেই গরু বিক্রি করতে না পারলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। কেননা, দুর্মূল্যের এ বাজারে পশু খাদ্যের দাম বেশি।

খুলনায় পশুর হাট জমজমাট ॥ শেষ মুহূর্তে খুলনায় কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে খুলনার পশুহাটগুলো জমতে পারেনি। বুধবার বৃষ্টির দাপট না থাকায় নগরীর জোড়াগেটস্থ পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা সমাগম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গরু-ছাগলের আমদানিও বেড়েছে অন্য দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক ও নৌপথে জেড়াগেটের পশুহাটে বিভিন্ন আকৃতির গরু ও ছাগলের সমাগম ঘটেছে। ক্রেতারাও কোরবানি দিতে পছন্দের গরু বা ছাগল কিনতে হাটে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার গরু-ছাগলের দাম অনেক বেশি বলে ক্রেতারা জানান। বুধবার সকাল থেকে আবহাওয়া অনেকটা অনুকূল থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে এই পশু হাটটি জমজমাট হয়ে ওঠে। গত চার দিন হাটে পশুর যোগান কম থাকলেও বুধবার অসংখ্য গরু-ছাগল নিয়ে আসেন বিক্রেতারা।

বরিশালে দেশী গরুর কদর ॥ ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততোই জমে উঠেছে বরিশালের পশুর হাট। এরই মধ্যে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিকিকিনি কিছুটা ব্যাহত হলেও বুধবার বৃষ্টিভেজা পশুর হাটগুলো ছিল বেশ জমজমাট। বিক্রেতাদের দাবি অন্যান্য দিনের তুলনায় বুধবার ক্রেতা সমাগম ছিল লক্ষণীয়। বিকিকিনিও হয়েছে বেশ। তবে এবার ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে দেশী মাঝারি আকারের গরু। অন্য বছরের তুলনায় এবার প্রতিটি হাটেই ভারতীয় গরুর সরবরাহ কম। অধিকাংশ হাটের ইজারাদার ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মোবাইল ফোন, ফ্রিজসহ নানা আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রীর আয়োজন করেছেন। নগরীর রূপাতলীর গরুর হাটের ইজারাদার পলাশ মিয়া বলেন, এবার ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে দেশীয় মাঝারি আকারের ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের গরু।

মুন্সীগঞ্জে ৩৫টি গরু নিয়ে পদ্মায় ট্রলারডুবি ॥ মুন্সীগঞ্জে এমভি ঐশি নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় ৩৫ গরু নিয়ে একটি ট্রলার পদ্মায় ডুবে গেছে। বুধবার দুপুরে লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘােটর কাছে এ ঘটনা ঘটে। তবে ট্রলারে থাকা ১৪ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭টি গরু জীবিত উদ্ধার করা গেলেও অপর গরুগুলোর ভাগ্যে কি হয়েছে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। এসব তথ্য দিয়ে মাওয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, ট্রলারে মোঃ বারেক ব্যাপারীর ৩০ গরু এবং নূর মোহাম্মদের ৫ গরু ছিল। গরুগুলো ট্রলারের সঙ্গে বাঁধা ছিল। তাই গরুগুলো সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করা যায়নি। গরুগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে পদ্মায় এখন প্রচ- স্রোত। এর সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। তারপর উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত লঞ্চটির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মোঃ বারেক ব্যাপারী জানান, তারা সিরাজগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শিমুলিয়া ঘাটের কাছে এমভি ঐশি নামের একটি লঞ্চ ট্রলারটির ওপর উঠিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে ট্রলারটি ডুবে যায়। আশপাশের ট্রলার ও স্পীডবোট গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে। ৭টি গরুও উদ্ধার করে তারা। আমাদের কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে মুন্সীগঞ্জে শেষ পর্যায়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। টানা ৩দিন ধরে বৃষ্টির কারণে ক্রেতা সমাগম ছিল কম। হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও মিলছে না কাক্সিক্ষত ক্রেতা। বুধবার ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এতে গরু ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দর বেশি হাকলেও বুধবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। হাটগুলোতে যেমন গরুর অভাব নেই। ক্রেতারও গরু কেনা ক্ষেত্রে কৌশলী ভাব নিয়েছে। সব মিলিয়ে গত বছরের মতো এবারও কম দামে গরু বিক্রি করতে হতে পারে। এমন আশঙ্কা বিক্রেতাদের। অন্যদিকে নৌপথে চাঁদাবাজি ও জোর করে নদীর আশপাশের হাটগুলোতে গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এক্ষেত্রে নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও কার্যকর কোন পুলিশী ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

নীলফামারীতে দুই হাজার ভারতীয় গরু এসেছে ॥ করিডরের মাধ্যমে ভারত থেকে নীলফামারীতে ভালমানের এরে জাতের গরু আসছে। করিডরে সরকারের ঘরে রাজস্ব দেয়ার পর এখানেই সেই গরু বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এসব গরু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে এই গরু বেশি যাচ্ছে। ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই কলোনির বিটে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভারত থেকে গরু এসেছে এক হাজার ৯১৪টি। এখান থেকে সরকার করিডরের মাধ্যমে এসব গরু থেকে রাজস্ব পেয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত কালীগঞ্জ বিজিবি সংলগ্ন তিস্তার পাড়ের গরুর বিটে দেখা যায় যে পরিমাণ গরু এসেছে তার চেয়ে দ্বিগুণ চাহিদা। গড়ে প্রতিটি গরু ৩০ হাজার টাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।