২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লন্ডনে পৌঁছেছেন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য নিউইয়র্কের পথে বুধবার বিকেলে লন্ডনে পৌঁছেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম টেলিফোনে বাসসকে জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে লন্ডনের স্থানীয় সময় তিনটা ২০ মিনিটে হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোঃ আবদুল হান্নান বিমানবন্দরের রয়েল লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

হিথরো বিমানবন্দরে প্রায় ৩ ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্ক যাবেন।

ফ্লাইটটি নিউইয়র্ক সময় রাত দশটায় জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী সকাল দশটায় (বাংলাদেশ সময়) নিউইয়র্কের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও, কেবিনেট সচিব এম মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে জাতিসংঘের পরিবেশ সম্পর্কিত সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নে আইসিটি পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর (ইউনেপ) নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনারের কাছ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ অব দ্য আর্থ এ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন।

তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবের কাছ থেকে ‘আইটিইউ পুরস্কার’ নেবেন। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ২৮ সেপ্টেম্বর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেবেন। একই দিনে তিনি অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত সংবর্ধনা ও ভোজসভায় যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, সুশাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও শেখ হাসিনা ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলা ভাষায় ভাষণ দেয়ার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে মাতৃভাষায় ভাষণ দেবেন।

সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন। পরদিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ‘গ্লোবাল লিডার্স মিটিং অন জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি এ্যান্ড উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট : এ কমিটমেন্ট টু এ্যাকশনে’ যোগ দেবেন।

এক দিনই তিনি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংলাপে কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ২০১৫ পরবর্তী বিশ্বের উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে সাধারণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এতে তিনি টেকসই উন্নয়ন ও এ লক্ষ্যে সরকারের কর্মকা-ে জাতীয় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করবেন।

প্রধানমন্ত্রী একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের হিলটন মিডটাউন হোটেলে তাঁর সম্মানে প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তিরক্ষা বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা হচ্ছেÑ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, রুয়ান্ডা, উরুগুয়ে ও ইউএনএসজি।

২৯ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত আইএস ও সহিংস জঙ্গীবাদ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দেবেন।

তিনি এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ : বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন। এতে জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

এদিন তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দেবেন।

সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে ভাষণ দেবেন। একই দিন তিনি হোটেল ওয়ালডর্ফ এস্টোভিয়ায় বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে একদিন যাত্রাবিরতি করবেন এবং সেখানে ২ অক্টোবর তাঁকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। তিনি ৩ অক্টোবর দেশে ফিরবেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।

এছাড়া এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বে ১১৯ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল শেখ হাসিনার সঙ্গে গেছে।