১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইনী জটিলতার মুখে পরাস্ত মানবিকতা

রশিদ মামুন ॥ আইনী জটিলতায় অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কর্মীদের মানবিকতা সঙ্কটের মুখে পড়েছে। কথিত মানব পাচারের অভিযোগে সংগঠনের চার কর্মী গ্রেফতার এবং পথশিশুদের শেল্টার হোমটি সিল করে দেয়ায় সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সমাজে ভাল কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে সাধারণ মানুষ। অনুসন্ধানে মামলার বাদী এবং পুলিশের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। রাজধানীর বনশ্রীতে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের শেল্টার হোমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ গত আট মাসে অন্তত তিনবার অদম্য বাংলাদেশের শেল্টার হোমে গেছে। শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছে। সবশেষ গত মাসের (আগস্ট) প্রথম দিকেও স্থানীয় রামপুরা থানায় গিয়ে সংগঠনের সভাপতি আরিফুর রহমান নিজেদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করলে পুলিশ তাতে সস্তুষ্ট হয়। যদিও পুলিশ এখন সব কিছু অস্বীকার করছে।

সংশ্লিষ্ট সকলপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে দেখা গেছে পথশিশুদের উন্নত ভবিষ্যত গড়ে তুলতে কলেজ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিলে ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলে। সংগঠনের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে মানবিকতার আবেদন ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তোলে। ফেসবুকে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কয়েকটি পেজও রয়েছে। অদম্য বাংলাদেশ নামেই দুটো রয়েছে পেজ। অন্য পেজগুলো হচ্ছে মজার স্কুল, পথশিশু এবং আমরা কতিপয়।

প্রকাশ্যে বিভিন্ন বস্তিতে পথশিশু এবং বস্তির শিশুদের স্কুল পরিচালনার মধ্য দিয়ে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তী সময়ে এরা সকলে মিলে চালু করে ‘মজার স্কুল’ নামে চারটি অস্থায়ী স্কুল ও ‘বায়ান্ন’ নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্র। কিন্তু দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে আইনী জটিলতায় পড়ে ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা চার অদম্য তরুণ তরুণী এখন কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। এরা হলেন আরিফুর রহমান, জাকিয়া সুলতানা, হাসিবুল হাসান সবুজ ও ফিরোজ আলম খান শুভ। এদের মধ্যে আরিফুর রহমান গত বছর কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে রাজধানীর অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন। অন্যরা সকলে এখনও ছাত্র। সংগঠনে অন্তত ২০০ জন প্রত্যক্ষ সদস্য রয়েছেন। যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া আরও ৩০০ মানুষ বিভিন্নভাবে অর্থ দিয়ে এদের সহায়তা করেন।

গ্রেফতার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে শিশু পাচারের অভিযোগে মামলা হলেও এখনও এ ব্যাপারে কোন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও পুলিশ বলছে, তারা এইসব তরুণ তরণীকে মানব পাচারকারী বলছে না। একজন অভিযোগকারীর দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে মাত্র। সেখানে মানব পাচার শব্দটি রয়েছে।

শেল্টার হোমের আশপাশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে ঘটনার সূত্রপাত হয় কাজের বুয়া পরিবর্তন নিয়ে। শিশুরা কাজের বুয়ার ব্যবহার ভাল না এবং সময়মতো রান্না করতে আসে না এমন অভিযোগ করায় অদম্য বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তাকে পরিবর্তন করে। বুয়া পরিবর্তনের কয়েক দিনের মধ্যে শেল্টার হোমে মামলার বাদী মনির হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন হাজির হয়ে মোবারক নামে শেল্টার হোমে থাকা একটি শিশুকে নিয়ে যেতে চায়। অদম্য বাংলাদেশের কর্মীরা এ সময় পুলিশের সহায়তা নিয়ে বিষয়টি প্রতিহত করতে চাইলে পুলিশ তাদেরই ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের নামে মানব পাচারের অভিযোগে রামপুরা থানায় মামলা হয়।

মামলার বাদী মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন মামলা করিনি। পুলিশ আসার পর আমাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ বলে আপনি বাচ্চা নিয়ে যাবেন এর একটা প্রমাণ থাকতে হয়। এজন্য আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়। পরে এখন বলা হচ্ছে আমি মামলা করেছি, আমি মামলার বাদী। সেখানে তার ভাতিজা রয়েছে কিভাবে খোঁজ পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার ভাতিজা মোবারক হোসেনকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে বুয়ার মাধ্যমে আমি সেই খবর পেয়ে সেখানে যাই। দূর থেকে বুয়া আমাদের বাড়ি দেখিয়ে দিয়ে চলে আসেন। পরে আমি সেখানে গিয়ে মোবারককে নামিয়ে আনার সময় অদম্য বাংলাদেশের লোকজন পুলিশ নিয়ে আসে। ওই পুলিশই তাদের ধরে নিয়ে যায়।

বাদীর মামলা করার বিষয়টি অস্বীকার করা প্রসঙ্গে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান তরফদারের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমরা মামলা করব কেন? মামলা সেই করেছে এখন এসব বললে হবে না। তিনি জানান, আমরা তাদের মানব পাচারকারী বলছি না, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে। এখন পর্যন্ত তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমাদের বিভিন্ন কাগজপত্র দিচ্ছে আমরা দেখছি। তবে এর বাইরে তদন্তের স্বার্থেই কিছু বলা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন। গত আট মাসে তিনবার পুলিশ শেল্টার হোমে গিয়েছিল। এছাড়া গত মাসে আরিফুরের থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

যদিও একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলছেন, কেবলমাত্র মোবারক ছাড়া অন্য কোন শিশু তাদের আটকে রাখার অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে শিশুরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এছাড়া রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদেও মানব পাচার সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কেউ বা চাকরি করেন। মানবিকতার টানে পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য সকলে এক জোট হন। অদম্য ফাউন্ডেশন পথশিশুদের নিয়ে তিনটি ভাসমান স্কুল চালাত। স্থায়ী স্কুলও ছিল একটি। ইচ্ছে ছিল পথশিশুদের নিয়ে স্থায়ী একটি আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলার, যেখানে মা-বাবাহারা এতিম পথশিশুরা আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ নেবে, একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবে। সেই উদ্দেশ্যেই গড়ে তোলা হয়েছিল অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পথশিশুদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রাথমিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রামপুরার বনশ্রীর বাসাটি ভাড়া নেয়া হয়।

অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ওয়াসফিয়া জান্নাত জানান, স্থানীয় রামপুরা থানা আমাদের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে জানত। তারা তিনবার আমাদের শেল্টার হোমটি ভিজিট করেছে। সবশেষ গত মাসেও সংগঠনের সভাপতি আরিফুর রহমানকে পুলিশ থানায় ডাকে। আমাদের কাছে থাকা জয়েন্ট স্টকের অনুমোদনসহ অন্য সকল কাগজ থানায় দিয়ে আসেন তিনি। এ সময় আরো কোন বিষয়ে পরামর্শ দিলে আমরা তা প্রতিপালন করতে পারতাম। হয়ত আমাদের কাছে যথাযথ অনুমোদন ছিল না। কিন্তু আমরা তো তাই বলে এমন কোন অপরাধ করিনি যাতে এ রকম শাস্তি দেয়া হবে। সামাজিকভাবে হেয় করা হবে। আমরা শিশুদের রাস্তা থেকে তুলে এনে ভালপরিবেশে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন তাদেরকে টঙ্গী কিশোর সংশোধনালয়ে অপরাধীদের সঙ্গে রাখা হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও আমাদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে কমলাপুরে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের দোতলায় প্রতি শনিবার একই সময়ে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কালীমন্দির এলাকায় সপ্তাহে ৫ দিন বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্কুল চলত। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি তারা জয়েন্ট স্টক থেকে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধন করেন। এরপর আগারগাঁওয়ের বস্তিতে ৮ হাজার টাকায় একটি গ্যারেজ ভাড়া নিয়ে স্থায়ী স্কুল পরিচালনা শুরু করেন। আগারগাঁওয়ের স্কুলটিতে তাদের ৩০ জন পথশিশু ছাত্র রয়েছে। সপ্তাহে ৫ দিন সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ক্লাস হয়। এছাড়া প্রতি ঈদে পথশিশুদের নতুন জামা কাপড় দেয়া, রোজার সময় পথশিশুদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করা, শীতের সময় গরম কাপড় বিতরণ করত তারা। বছরে একদিন কমলাপুরে খেলাধুলার আয়োজন করা হতো, ফলের সময় মৌসুমি ফলের উৎসব করে পথশিশুদের ফল খাওয়ানো হতো। মাঝে মধ্যেই পথশিশুদের বিভিন্ন পার্ক বা চিড়িয়াখানায় ঘোরানো হতো। বছরে একবার বড় বা নামীদামী রেস্টুরেন্টে খাওয়ানো হতো।

সোমবার বনশ্রীতে অদম্য বাংলাদেশ শেল্টার হোমের বাড়িটির কেয়ারটেকার মোঃ শিহাব উদ্দিন ফকির জানান, বাচ্চাদের উদ্ধার সম্পর্কে যে ঘটনা বলা হচ্ছে তা আসলে ঠিক নয়। এখানে অপরিচিত কয়েকজন লোক অদম্য বাংলাদেশের অফিসে এসে হট্টগোল করে। এসময় একজন নিরাপত্তা রক্ষী বাড়ির প্রধান ফটক আটকে দিলে তাকে মারধর করে আহত করে। হট্টগোল আরও বেড়ে গেলে স্থানীয় কেউ পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এরপর বাচ্চাদের সঙ্গে সংগঠনের চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে আমাদের এখানে ভাড়া নিতে আসার পর তারা আমাদের জানায়, মালিবাগ রেলগেটে হোসেনী ভিলা এবং গাউসুল আজম মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় তাদের একই ধরনের শেল্টার হোম রয়েছে। আমি নিজে ওই দুটি শেল্টার হোমে গিয়ে বাচ্চাদের দেখার পরই তাদের ভাড়া দিতে সম্মত হই। আমরা শেল্টার হোমে নিয়মিত যাতায়াত করতাম জানিয়ে বলেন কেউ কোন দিনই নির্যাতনের অভিযোগ করেনি। তিনিও বলেন, গত আট মাসে অন্তত তিনবার এখানে পুলিশ এসেছে। বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে তারা সন্তুষ্ট হয়েছে। সব শেষ গত মাসে থানায় ডাকা হলে আমিও আরিফুর রহমানের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, বুয়াকে ছাঁটাই করার পরই এই ঘটনার সূত্রপাত বলে আমরা জানতে পেরেছি।

ছয় তলা এই বাড়ির মালিক কর্নেল জাহিদুর রহমান থাকেন গুলশানে। বাড়িটিতে মোট ২০টি ফ্ল্যাটে ১৪০ জন বসবাস করে। তবে এখানে বেশিরভাগই মেস বাসা হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। অদম্য বাংলাদেশ মাসে ১৫ হাজার ৯৫০ টাকায় ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিল।

বাড়ির আরেক কেয়ারটেকার মোঃ মোর্শেদ জানান, প্রায় প্রতিদিনই আমি শেল্টার হোমটিতে কম্পিউটার শিখতে যেতাম। সেখানে আমি বাচ্চাদের পাড়ালেখা, ছবি আঁকা এবং কম্পিউটার চালাতে দেখেছি। রাস্তা থেকে তুলে আনার পর বাচ্চাগুলো এখানে বেশ ভালই ছিল বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে সব সময় কেউ না কেউ খাবার নিয়ে আসতো। এমনকি গত ১২ তারিখে এই ঘটনা ঘটার পরও অনেকে খাবার নিয়ে এসেছে। শুধু ঢাকাই নয় ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে বাচ্চাদের জন্য খাবার নিয়ে আসত।

জানা গেছে ২০০ জনের সংগঠনের সঙ্গে আরও ৩০০ জন বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়েছিলেন। নিজেদের আয়ের কিছুটা দেয়া ছাড়াও বিভিন্নভাবে নিজের আত্মীয় স্বজন এবং পরিবারের কাছ থেকে সামান্য অর্থ নিয়ে এই সংগঠনটি চলত। অনেকে স্বেচ্ছায় এখানে অর্থ দিতে চাইত বলে সংগঠনের সদস্য শালিক আহমেদ জানান। তিনি বলেন আমরা চাইছিলাম সকলের একটু একটু সাহায্য নিয়ে সমাজের জন্য ভাল কিছু করতে।

শেল্টার হোমের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া নজরুল আক্ষেপ করে বলেন, এখানে খুব ভাল কাজ করছিল অদম্য বাংলাদেশ। বাচ্চারা বাইরে বের হতো, তাদের সব সময় উৎফুল্ল দেখেছি। কাউকে আটকে রাখলে নির্যাতন করলে তাকে বাইরে আসতে দেয়ার কথা নয়। এখানে অদম্য বাংলাদেশের অনেকেই আসতেন যাদের আমরা চিনতামও।

এ পর্যন্ত উদ্ধারকৃত ১০ শিশুর মধ্যে ৯ শিশু বাবুল (১০), আব্বাস (১০), স্বপন (১১), আকাশ (১০), রফিক (১৩), আবদুল্লাহ আল মামুন (১১), ইব্রাহিম (১০), রাসেল (১৩) ও ফরহাদ হোসেনের (১০) কোন প্রকৃত দাবিদার পাওয়া যায়নি। এমনকি শিশুদের কেউ খুঁজতে আসেনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শিশুদের বিষয়ে কেউ কোন খোঁজ নিতে আসেনি। শিশুদের প্রকৃত দাবিদার পাওয়া গেলে, আদালতের মাধ্যমে শিশুদের প্রকৃত দাবিদারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে তদন্ত শেষ করার আগে তিনি বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান বলেন, তাদের প্রক্রিয়াগত কিছু বিষয়ে জটিলতা থাকতে পারে। যেটা না বোঝার কারণে হতে পারে। কিন্তু তাদের সকল ভালকাজ মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তিনি টাঙ্গাইলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে মানুষ ভাল কাজ করতে গিয়েছিল তাদের ওপর গুলি চালানো হলো। এভাবে মানুষ নির্যাতনের স্বীকার হলে কেউ তো আর ভালকাজ করতে আসবে না।