২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র

  • প্রধানমন্ত্রী ও তার ঘনিষ্ঠজনের দুর্নীতি

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল নিয়ে দেশে-বিদেশে অনুসন্ধানের মুখোমুখি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে এবার তদন্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র। নাজিব স্বয়ং এই তহবিল তদারক করেন। নাজিব ও তার ঘনিষ্ঠজনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখবে মার্কিন ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। তদন্ত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল দুই সূত্র এ কথা জানিয়েছে। খবর ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমসের।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক দুর্নীতির তদন্ত বিভাগের একটি ইউনিট এই তদন্ত করবে। তদন্তে নাজিবের সৎ ছেলের শেল কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রয় করা সম্পত্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক বন্ধুর মার্কিন রিয়েল এস্টেট সম্পর্কিত দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

এছাড়া নাজিবের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত এ্যাকাউন্টে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তরের যে অভিযোগ রয়েছে তাও খতিয়ে দেখবে মার্কিন তদন্তকারীরা। মালয়েশিয়ায় নাজিবের ওপর সোমবার চাপ আরও বৃদ্ধি পায় যখন দুই পৃথক আদালত তাকে আইনগত লড়াইয়ের মুখোমুখি করে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বলেছেন, মালয়েশিয়ার এ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তারা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ স্থানান্তর নিয়ে তদন্ত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান জেতি আখতার আজিজ বলেন, আমরা জানি, এখন জনগণ এসব প্রশ্নের জবাব জানতে চায় এবং তাদের এর উত্তর জানার অধিকার আছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কোন ফেডারেল আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা জানতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এক নিবন্ধে টাইমস তথ্য-প্রমাণসহ দেখিয়েছে, ১৫ কোটি ডলারের বেশি বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তির সঙ্গে হয় নাজিবের সৎ ছেলে রিয়াজ আজিজ নতুবা তাদের পারিবারিক বন্ধু ঝো লো নামে এক ব্যবসায়ীর সম্পর্ক রয়েছে। টাইসম আরও দেখেছে, লো মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিলের ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গেও জড়িত আছেন। এটি মালয়েশীয় সরকারের বিনিয়োগ তহবিল। ওয়ানএমডিবির নামে এই তহবিলের চেয়ারম্যান পদে আছেন নাজিব।

এই তহবিলের অর্থ সরিয়ে ফেলা হয়েছে, এমন অভিযোগ তদন্ত করছে কয়েকটি দেশ। চলতি মাসে সুইজারল্যান্ড বলেছে, তারা কয়েকটি ব্যক্তিগত ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে।

হংকং ও সিঙ্গাপুরও তদন্ত করছে। নাজিবের কার্যালয় মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি এবং মার্কিন বিচার বিভাগের মুখপাত্রও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।