২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়ায় রাশিয়ার ২৮ জঙ্গী ও গোয়েন্দা বিমান

  • লাতাকিয়া বিমানঘাঁটিতে দুই হাজার সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠানো হবে

সিরিয়া প্রথমবারের মতো এ খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে যে, দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক জঙ্গী ও গোয়েন্দাবিমান লাভ করেছে। দামেস্ক সরকার বলেছে, এতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গীদের লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। মঙ্গলবার একজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘সিরীয় বিমানবাহিনী মস্কোর কাছ থেকে অন্তত পাঁচটি জঙ্গীবিমান এবং সেই সঙ্গে গোয়েন্দাবিমানের ডেলিভারি নিয়েছে, যা আমাদের অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করবে।’ রাশিয়া আইএস দমনে অন্যান্য ‘অত্যাধুনিক সামরিক সাজ-সরঞ্জাম’ও পাঠিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের

একজন সিরীয় সেনা কর্মকর্তা পৃথকভাবে গার্ডিয়ানকে বলেন, পদাতিক ইউনিটগুলো বর্তমানে আইএস অবস্থানের উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি পাচ্ছে। আর এ নির্ভুল রুশ সাহায্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা অধিকতর নির্ভুল ও ঘন ঘন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, সিরিয়ায় এখন রাশিয়ার ২৮টি জঙ্গীবিমান রয়েছে এবং উপকূলীয় নগরী লাতাকিয়ার দক্ষিণের একটি বিমনঘাঁটিতে দুই হাজার সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

রাশিয়া এখন সিরিয়ার আকাশসীমায় মনুষ্যবিহীন বিমান ওড়ানো শুরু করেছে, যা গোয়েন্দা তৎপরতা বলেই মনে হয়।

অবশ্য এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে যে, রুশরা কতখানি সরাসরি লড়াইয়ে জড়িত হতে প্রস্তুত। মঙ্গলবার আইএইচএস জেনস ইনটেলিজেন্স রিভিউর প্রকাশ করা স্যাটেলাইট ছবিতে লাতাকিয়ার উত্তরে দুটি নতুন রুশ স্থাপনা নির্মাণেও বিষয় ধরা পড়েছে। এতে বলা হয়, ‘সিরিয়ায় কত দ্রুততার সঙ্গে রুশ অভিযানকারী বাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি অব্যাহত আছে এটি সেটাকেই বিশেষভাবে তুলে ধরে।’ সোমবার মস্কোর কোমারসান্ত সংবাদপত্রে সিরীয় নগরী তারতাসে অবস্থিত নৌঘাঁটির একজন সৈনিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সেখানে রুশ বিশেষজ্ঞদের সংখ্যা ১৭শ’-তে উন্নীত হয়েছে।

সাড়ে চার বছর আগে শুরু হওয়া যে যুদ্ধে আনুমানিক আড়াই লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে সেখানে অস্ত্রশস্ত্র প্রেরণ একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

রাশিয়া ও ইরান প্রথম থেকেই বাশার আল-আসাদকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো আসাদকে উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং তারা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সীমিত সাহায্য দিচ্ছে। তবে ভূমিতে সৌদি এবং তুরস্ক সমর্থিত ইসলামপন্থী জঙ্গীরা কিংবা আইএস এবং আল কায়েদার সিরীয় শাখা জাভাত আল-নুসরা সে সাহায্যকে ম্লান করে দিয়েছে।