২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইইউ কোটায় ক্ষুব্ধ বিরোধীরা

  • শরণার্থীদের শোষণ-বঞ্চনা ও দুঃখকষ্ট অবসানে এটাই শেষ সুযোগ ॥ জাতিসংঘ

১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে মহাদেশজুড়ে ভাগ করে দেয়ার পরিকল্পনা ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা অনুমোদন করার পর মধ্য ইউরোপীয় দেশগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এই স্কিমের অধীনে শরণার্থীদের ইতালি, গ্রীস ও হাঙ্গেরি থেকে অন্যান্য ইইউ দেশে সরিয়ে নেয়া হবে। তবে রুমানিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, সেøাভাকিয়া ও হাঙ্গেরি বাধ্যতামূলক কোটার বিরুদ্ধে ভোট দেয়। চেক প্রেসিডেন্ট মাইলোস জেমান বলেন, ‘কেবল ভবিষ্যতেই দেখাবে এটি কি ধরনের ভুল ছিল।’ মঙ্গলবার জাতিসংঘ ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের দুঃখ দুর্দশা এবং শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটাতে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ সাড়া দেয়াটা ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের হয়ত শেষ সুযোগ। এদিকে কয়েক সপ্তাহের সিদ্ধান্তহীনতার পর মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইইউ ১ লাখ ২০ হাজার আশ্রয় প্রার্থীকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। এই পরিকল্পনার তাৎপর্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মহাদেশটিতে শরণার্থীদের বৃহত্তর গমনাগমনের মুখে ঐক্য প্রদর্শন। খবর বিবিসি, ডন ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

বিবিসির ইউরোপ প্রতিনিধি ক্রিস মরিস বলেন, এটি খুবই অস্বাভাবিক যে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব জড়িত আছে এরকম একটি প্রশ্ন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে না হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে মীমাংসা হবে। তিনি বলেন, শরণার্থীদের গ্রহণের এই স্কিম বাহ্যিকভাবে স্বতঃপ্রবৃত্ত মনে হলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এ বিষয়ে বেছে নেয়ার কমই সুযোগ দেয়া হয়েছে। ইইউর আইনে একটি দেশ তার ওপর আরোপিত কোন অভিবাসন নীতির ব্যাপারে সম্মত না হলে দেশটিরই উরোপিয়ান কাউন্সিলে আপীল করার অধিকার থাকবে। তবে, বৈঠকে সভাপতিত্বকারী লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ এ্যাসেলবর্ন বলেন, তাঁর কোন সন্দেহ নেই যে, বিরোধিতাকারী দেশগুলো প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করবে। ফিনল্যান্ড ভোটদানে বিরত থাকে। পোল্যান্ড যে দেশটি শুরুতে প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলÑ পক্ষে ভোটদান করে। পোল্যান্ডের ইউরোপমন্ত্রী রাফাল ট্রজাসকওস্কি বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা মনে করেছি, আলোচনা করা, এসব শর্ত নিয়ে আলোচনায় বসা অনেক উত্তম পন্থা। আমাদের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই বিতর্কে একটি সক্রিয় সদস্য হতে চেয়েছি। বুধবার ব্রাসেলসে এই স্কিমটি অবশ্যই অনুমোদিত হতে হবে। ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীর মধ্যে ইতালি থেকে ১৫ হাজার ৬শ’, গ্রীস থেকে ৫০ হাজার ৪শ’ এবং হাঙ্গেরি থেকে ৫৪ হাজার শরণার্থী এসেছে। যদিও হাঙ্গেরিতে এখনও কত শরণার্থী আছে সেটি পরিষ্কার নয়। গ্রীস, হাঙ্গেরি ও ইতালিতে প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। শরণার্থীদের মধ্যে সিরীয়, ইরিত্রীয় এবং ইরাকীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। যেসব সদস্য দেশ ভাগ করে দেয়া শরণার্থীদের নিতে অস্বীকার করবে তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। গ্রহণ করতে সম্মত হওয়া দেশগুলোর কোটা নির্ভর করবে সেসব দেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার আকার এবং আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদনের গড়পড়তা সংখ্যার ওপর। দু’মাসের মধ্যে একক আবেদনকারীদের স্থানান্তর করা হবে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংক্রান্ত হাইকমিশনার এ্যান্টনিও গুটেরেস বলেছেন, ‘এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটি সঙ্কট যার সঙ্গে মিশেছে ইউরোপীয় ঐক্যের ঘাটতি যা ব্যবস্থাপনার চরম বিশ্ঙ্খৃলার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৫৬ সালে যখন ২ লাখ হাঙ্গেরীয় অস্ট্রিয়া ও যুগোশ্লাভিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল, সে সময় আশ্রয়প্রার্থীদের শুধু ভালভাবে বরণই দ্রুত করা হয়নি, বরং দ্রুত একটি পুনর্বাসন কর্মসূচীও কার্যকর করা হয় যার অধীনে ১ লাখ ৪০ হাজার লোককে অন্যান্য দেশে পুনর্বাসিত করা হয়। তিনি বলেন, তখন যা সম্ভব হয়েছে এখনও তা সম্ভবপর। আগামীকালের (বুধবার) ইইউ কাউন্সিলের বৈঠক ইউরোপের বিভাজন কাটিয়ে ওঠার এবং কাক্সিক্ষত রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও রাজনৈতিক গতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয়দানের জন্য ইইউর কোটা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ৪টি পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশের তীব্র আপত্তির মুখে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে জোটের ব্যাপক বিভক্তির বিষয়টিই উঠে এসেছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বলেছেন, চলতি বছর প্রায় ৫ লাখ অভিবাসন প্রত্যাশী এবং শরণার্থী ইউরোপে আগমন করেছে এবং এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।