২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দীঘিপাড়া কয়লাখনি উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

রশিদ মামুন ॥ এবার দীঘিপাড়া কয়লাখনি উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশী কোম্পানি বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) কাছে খনিটির লাইসেন্স ঈদের পর পরই হস্তান্তর করা হবে। সরকারের জ্বালানি বিভাগ সম্প্রতি খনিজ সম্পদ ব্যুরোর প্রস্তাবে খনি এবং খনিজ সম্পদ বিধিমালা ২০১২ এর ১৩-এর (ক) অনুযায়ী খনির লাইসেন্স হস্তান্তরে সম্মতি জানায়। বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, লাইসেন্স পাওয়ার পর তারা খনি উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্যতা জরিপ শুরু করবে।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর দীঘিপাড়া কয়লাখনি সম্পর্কে যে প্রাক সম্ভাব্যতা জরিপ করেছিল তাতে দেখা যায় খনির পাঁচটি কূপের বেসিন এলাকার পরিমাপ প্রায় ১০ বর্গকিমি এবং সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন মেট্রিক টনের চেয়ে বেশি। এছাড়া সম্পদ হিসাবে ২০০ মিলিয়ন টন সিলিকা বালু ও সাদা মাটির সন্ধান পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুজ্জামান জনকণ্ঠকে বলেন, সরকার লাইসেন্স বড়পুকুরিয়ার কাছে হস্তান্তরে সম্মতি দিয়েছে। সরকারের সম্মতির পর এখন কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। আশা করছি ঈদের পরপরই লাইসেন্সটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, লাইসেন্স পেলে আমরা প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্যতা জরিপ শুরু করব। এক্ষেত্রে কিছু কিছু কাজ আমরা নিজে করতে পারব,বাকিটা আমাদের বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে সহায়তা হিসেবে নিতে হবে। তবে খনিটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। এখনই খনির মজুদ সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দেশের সবগুলো কয়লাখনি উন্নয়নের আগ্রহ প্রকাশ করে পেট্রোবাংলাকে প্রস্তাব দেয় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কোম্পানি। জ্বালানি বিভাগ এবং সরকার দীর্ঘ দিন পর্যালোচনার পর বড়পুকুরিয়াকে আরও একটি খনি উন্নয়নের দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। দেশে ব্যাপক ভিত্তিতে কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও কযলাখনি উন্নয়নের কোন পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

দিনাজপুরের পূর্বাংশের বিপুল এলাকাজুড়ে রয়েছে খনিজ কয়লা। এর মধ্যে চতুর্থ খনি দীঘিপাড়া ১৯৯৫ সালে আবিষ্কৃত হয়।

প্রাথমিক জরিপের ফল বলছে আনুমানিক ১০ বর্গকিমি এলাকায় খনিটি বিস্তৃত। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের ভাষ্য মতে, ত্রিমাত্রিক সাইসমিক সার্ভে এবং অধিক কূপ খননের মাধ্যমে খনির মজুদ সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর খনন শাখা ও ভূতত্ত্ব শাখা ১৯৯৫ সালে প্রাক সম্ভাব্যতা জরিপের অংশ হিসেবে প্রথম কূপ খনন করে। প্রতিষ্ঠানটি ৩২৭ দশমিক ৯৬ মিটার গভীরতায় উন্নতমানের গ-োয়ানা কয়লা খনির সন্ধান পায়। পরবর্তীতে গত এক যুগ ধরে আরও চারটি কূপ খনন করা হয়। এর মধ্যে ২০০১ সালে প্রথম কূপ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এক বর্গমাইল দূরত্বে দ্বিতীয় কূপ খনন করে ৩৮৩ দশমিক ৫৪ মিটার মাটির নিচে কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। ২০০৩ সালে একই ব্যবধানে দক্ষিণ-পূর্বে তৃতীয় কূপ খনন করে ৩৫৫ দশমিক ৯ মিটার ভূগর্ভে কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে একই ব্যবধানে উত্তর দিকে চতুর্থ কূপ খনন করে ৩২৩ দশমিক ৮ মিটার ভূগর্ভে কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া ২০০৬ সালে মার্চে দীঘিপাড়া থেকে পূর্ব-দক্ষিণে প্রায় দুই কিমি দূরত্বে পঞ্চম কূপ খনন শেষে ৩৮৮ দশমিক এক মিটার ভূ-গর্ভে কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।

খনি বিশেষজ্ঞ মতে, পঞ্চম কূপ খননের ফলে কয়লাখনির ক্ষেত্র দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ বর্গ মাইল এবং কয়লার মজুদ রয়েছে ১৫০ মিলিয়ন টন। সূত্র জানায়, কয়লাক্ষেত্রের চতুর্দিকে একই ব্যবধানে জরিপ চালানো হলে, কয়লাক্ষেত্র ও মজুদের পরিমাণ অনেক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। শুধু পাঁচটি খননকৃত কূপে সম্ভাব্য অতিরিক্ত মজুদ ধরা হয় ৫শ’ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি।