২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদে বিলুপ্ত ছিটমহলের ঘরে ঘরে আনন্দ

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট ॥ ৬৮ বছর পর আনন্দ মুখোর পরিবেশে সদ্য বিলুপ্ত লালমনিরহাট জেলার ৬৯টি ছিটমহলের কয়েক হাজার মানুষ ঈদ উৎসব উদযাপন করেছে। ঈদের আনন্দে প্রকৃতিও সহায়তা করেছে। সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি ভেজা থাকলেও ঈদের দিন হতে কোন বৃষ্টি হয়নি। গ্লানিমুক্ত করে ধুয়েমুছে স্নিগ্ধতা দিয়েছে।

পরিচয়হীন জীবনের অবসান ঘটে সমৃদ্ধ জীবনের হাতছানি উঁকি দিচ্ছে সকলের জীবনে। জেলা সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নে ছিটমহল (১৫২) এই ছিটেরবাসিন্ধা মোঃ রমজান আলী (৭৫) জানান, এবারে প্রথম বারের মত বিলুপ্ত ছিটমহল ও মূলভূখন্ডেরন মানুষ এক সাথে ঈদের আনন্দ করেছি। কোন ভেদাভেদ ছিল না। এখন ভূযা পরিচয়ে দিতে হবে না। ছিটমহলবাসীর পরিচয় মূছে গেছে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে মাথা উঁচু করে স্বাধীন চেতা হয়ে রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে বেচে থাকতে পারছি। ঈদে সবখানে বিহঙ্গেমত ঘুরে বেড়িয়েছি।

ঈদের দিন শুক্রবার ছিল। তার পরেও বাংলাদেশের পতাকা সাথে নানা রংগের পতাকা দিয়ে সজ্জিত ছিল ছিটমহলের প্রতিটি বাড়ি।

ঈদে এবারে ছিটমহলে স্থানীয় মূল ভূখন্ডের মানুষের আনাগুনা চোখে পড়ার মত ছিল। আতœীয় স্বজন ছাড়াও অনেকে বিলযপ্ত ছিটমহলে গুলোতে ঘুরে বেড়িয়ে সময় কেটেছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মোঃ আকবার আলী জানান, ছিটমহলে তার জন্ম। তিনি ছিটমহলের বাসিন্ধা। পৈত্তিক ভিটা ছিড়ে। কিন্তু শুধুমাত্র পরিচয়ের স্বীকৃতি আদায়ে কুলাঘাটে মূলভূখন্ডে বাড়ি করতে হয়েছে। মিথ্যা পরিচয়ে রাজনৈতি করেছি। ছেলে মেয়ে লেখা পড়া শিখে চাকরি করছে। জীবন সায়েহ্নে এসে পরিচয় পেয়ে আতœতৃপ্ত করছি। এখন নাতি নাতনিরা সত্য পরিচয়ে বেড়ে উঠবে। রাষ্ট্রের সকল সুয়োগ সুবিধা ভোগ করবে। এ বছর অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে ঈদের উৎসব পালন করেছি। কোন ঝুট ঝামেলা ছাড়াই আতœীয় স্বজনরা ঈদে বেড়িয়ে গেছে।

নির্বাচিত সংবাদ