২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমতলীতে গৃহবধু খুন, তালতলীতে স্বামীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী (বরগুনা)॥ বরগুনা আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে কাতার প্রবাসী আব্বাস মিয়ার স্ত্রী ও দু’ সন্তানের জননী দিলারা বেগমকে (২৬) শনিবার রাতে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে বাবা আজিজ মিয়া অভিযোগ। শুক্রবার সন্ধ্যায় তালতলী উপজেলার বেহালা খাল থেকে পুলিশ দিন মজুর আবুল কাসেমের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ৮ বছর পূর্বে দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের দিলু খাঁ’র ছেলে আব্বাস মিয়ার সাথে একই ইউনিয়নের রাওঘা গ্রামের আজিজ মিয়ার মেয়ে দিলারা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামীর সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার রাতে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটি হয়। রবিবার সকালে ওই বাড়ীর পার্শ্বের আমগাছের নীচে তার লাশ স্থানীয়রা দেখতে পায়। পরে তারা আমতলী থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠিয়েছে। আমতলী থানার এস আই শহীদ জানান দিলারা বেগমের গলাধারে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

দিলারার বাবা আবদুল আজিজ বলেন জামাতা কাতারে রয়েছে। তার শ্বশুর দিলু খান, শ্বাশুড়ি সুফিয়া বেগম, ননদ আলো বেগম ও ননদের স্বামী বশির হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জামাতার পাঠানো টাকা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তারা আমার মেয়েকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত তাকে হত্যা না আত্মহত্যা করেছে তা বলা যাচ্ছে না।

এদিকে তালতলী উপজেলার আলীর বন্দর গ্রামের দিন মজুর আবুল কাসেমের (৩০) শরীরে ২০টি আঘাতের চিহ্নসহ শুক্রবার রাতে বেহালার খাল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ স্ত্রী সোনিয়া বেগম, মিরাজ ফরাজী ও রাসেলকে গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আবুল কাসেম ঢাকায় দিন মজুরের কাজ করে। এ সুবাদে স্ত্রী সোনিয়া বেগম পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পরে। গত বুধবার সকালে আবুল কাসেম ঢাকা থেকে বাড়ীতে ফিরে আসে। পরে স্ত্রীর সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় আবুল কাসেম গরুর আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। বহু খোজাখুজির পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বেহালার খালে তার লাশ স্থানীয় জনগন দেখতে পায়। পরে তালতলী থানায় খবর দিলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তালতলী থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত স্ত্রী সোনিয়া বেগম, মিরাজ ফরাজী ও রাসেলকে গ্রেফতার করেছে।

তালতলী থানার ডিউটি অফিসার এস আই কমলেশ হালদার জানান আবুল কাসেমের শরীরে ২০টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।