২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সময়সীমার আগেই বর্জ্য অপসারিত হয়েছে দাবি দুই মেয়রের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোরবানির ঈদের দিন দুপুর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাই করা পশুর সব বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য ঠিক করেছিল ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রায় সব বর্জ্য অপসারিত হয়েছে বলে দাবি করছেন দুই সিটির মেয়র। মানুষ সচেতন হওয়ায় ২৭ ঘণ্টার মধ্যেই পশুর বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক। আর পশুর হাট ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জবাই করা পশুর সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মেয়র সাইদ খোকন।

রবিবার উত্তর ও দক্ষিণের নগর ভবনে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও বলছেন নির্বাচিত মেয়র থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভাল হয়েছে। তবে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করার জন্য নেয়া দুই কর্পোরেশনের উদ্যোগে তেমন সাড়া মেলেনি। অধিকাংশ রাজধানীবাসীই বাসার নিচের গ্যারেজ, খালি জায়গা, রাস্তা ও গলির ওপর কোরবানি দেন। তবে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অধিকাংশ নগরবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল হক বলেন, সবার প্রচেষ্টায় এবার ‘কম্পারেটিভলি ক্লিন’ ঢাকা উপহার দিতে পেরেছি; নগরবাসী একটু হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণে লক্ষ্য ঠিক করা হলেও ২৭ ঘণ্টার মধ্যেই তা করা সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্যেও জন্য তিনি সিটি করপোরেশনের কর্মী, কাউন্সিলর ও নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। উত্তর সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র বলেন, কোরবানি উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল। আমি নিজেও প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে ঘুরে কাজের তদারকি করেছি। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা তৎপর ছিলেন।

রাজধানীর দু’টি এলাকার কথা উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, মিরপুরে একটু উৎকট গন্ধ রয়ে গেছে । উত্তরায় চামড়ার বাজারের কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। এছাড়া বাকি এলাকাগুলোতে কোনো সমস্যা নেই। পশু জবাইয়ের জন্য উত্তর সিটি ২৭৯ স্থান নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বেশিরভাগ স্থানেই নগরবাসীর অংশগ্রহণ কম ছিলো। এ বিষয়ে মেয়র বলেন, অনেকেই নির্ধারিত জায়গায় না গিয়ে নিজেদের মতো কোরবানি দিয়েছেন। তবে তারা নিজেরাই পানি দিয়ে পশুর রক্ত ধুয়ে ফেলেছে। এতে আমাদের সহযোগিতা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে অবৈধ বিলবোর্ড না সরালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন মেয়র আনিসুল।

অপরদিকে, দক্ষিণের নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, কোরবানির পশুর হাট ছাড়া সব এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বর্জ্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, পশুর হাটে খুঁটি রয়েছে এবং ওই সব হাটে পশুর কিছু বর্জ্যও রয়েছে। ওগুলো রবিবার রাতের মধ্যে সরানো শেষ হবে।

কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, আমাদের ধারণা ছিল ১৮ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য হবে। ইতিমধ্যে ১৬ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিন দিন পর্যন্ত পশু কোরবানি হয়ে থাকে। প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিনের বর্জ্য যথা সময়ে অপসারণ করা হয়েছে। তৃতীয় দিনে জবাই করা পশুর বর্জ্য শিগগিরই অপসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

হাটের জন্য নির্ধারিত জায়গার বাইরেও কোরবানি পশু রাখার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মেয়র বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় কিছুটা নমনীয় ছিলাম। সামনে এই সব বিষয়ে দৃষ্টি রেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সিটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রাকিব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এই মাত্রা পাওয়া