২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থী প্রবেশে বাধাদানে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

  • ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি জাতিসংঘের সতর্ক বার্তা

নাজনীন আখতার ॥ সীমান্ত দিয়ে শরণার্থী প্রবেশে বাধা না দিতে ইউরোপের দেশগুলোকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। শরণার্থীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার জন্যও ইউরোপের দেশগুলোর এভাবে বাধা প্রদানের ‘নীতি’ গ্রহণকে দায়ী করেছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি শরণার্থী ও উদ্বাস্তুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের উল্লেখ করে বলেছে, যেভাবে ইউরোপের দেশগুলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা চালুর ঘোষণা দিয়েছে তাতে আইনের ব্যত্যয় ঘটছে। শরণার্থীরা তাদেরকে আইনী সুরক্ষার ক্ষেত্রে অবহেলিত হিসেবে দেখতে পাচ্ছে।

গত এক সপ্তাহের শরণার্থী বিষয়ক পরিস্থিতি তুলে ধরে জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে জাতিসংঘের শরণার্র্থী বিষয়ক এ সংস্থা। শরণার্থীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার জন্য ইউরোপের দেশগুলোর এভাবে বাধা প্রদানকে দায়ী করে ইউএনএইচসিআর বলেছে, ইতোমধ্যে হাঙ্গেরি সার্বিয়া, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সেøাভাকিয়ায় দুই দশক ধরে চালু রাখা উন্মুক্ত সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। তারা কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে যাতে শরণার্থীরা আশ্রয়ের জন্য প্রবেশ করতে না পারে। নেদারল্যান্ডসও তাদের সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহেও গ্রীসের কাছাকাছি ভূমধ্যসাগরে দুটি নৌকা ডুবেছে। এতে ১৫ জন শিশু, ৪ জন দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ মারা গেছেন ৩৯ জন। গত শনিবার ও রবিবার ফার্মাকোনিসি ও সামোসের কাছাকাছি ডুবে যাওয়া নৌকায় সিরীয় ও ইরাকের নাগরিকরা ছিলেন। তারা যুদ্ধাবস্থার শিকার হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইউরোপের দেশগুলোর দিকে ছুটছিলেন। এছাড়া গত মঙ্গলবার এজিয়ান সাগরে গ্রীক দ্বীপ কসের কাছাকাছি আরেকটি নৌকাডুবিতে ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪ জন শিশু। আশ্রয় প্রত্যাশী ২১১ জনকে ওই নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ মিটারের ওই কাঠের নৌকাটি মূলত নৌকা ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হতো। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের উদ্দেশে শরণার্থী সঙ্কট পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর রবিবারের নৌকাডুবিতে ৩৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা গ্রীসের সাগরে সবচেয়ে বড় একক দুর্ঘটনা। এর আগে ওই স্থানে এত বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তুরস্ক থেকে গ্রীসে পৌঁছানোর জন্য ৩ লাখ মানুষ এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক যাত্রায় প্রবেশ করছে। ছোট ছোট নৌকায় অতিরিক্ত লোক বোঝাই করে গন্তব্যের দিকে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আর শনিবারের নৌকাডুবির ঘটনায় মারা যাওয়া তিন শিশুর প্রত্যেকে ইরাকী নাগরিক। তারা ভাইবোন। তাদের শোকাহত মা এখন সামোস দ্বীপে আছেন। ইউএনএইচসিআরের স্টাফরা তার দেখাশোনা করছেন সেখানে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে ইউরোপের দেশগুলো তাদের সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে শরণার্থী প্রবেশে কঠোর বাধা দেয়ার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। হাঙ্গেরির সঙ্গে সার্বিয়া, জামার্নি, অস্ট্রিয়া এবং সেøাভাকিয়ার দুই দশক ধরে উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চালু ছিলো। শরণার্থী ইস্যুতে হাঙ্গেরি এতদিনের উন্মুক্ত সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। নেদারল্যান্ডস সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় ইউএনএইচসিআর ইউরোপের দেশগুলোকে আবারও সতর্ক করছে এই বলে যে, শরণার্থীরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের আইনী সুরক্ষার ক্ষেত্রে অবহেলিত দেখতে পাচ্ছে। অথচ তাদের সুরক্ষায় যথাযথ আইন রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বৈশ্বিকভাবে প্রায় ৬ কোটি মানুষ জোরপূর্বক স্থানচ্যুত হচ্ছে। বিপজ্জনকভাবে নৌকায় করেও এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। মারাও যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন গণমাধ্যমে উঠে আসছে এ তথ্য। কখনও স্থানচ্যূত মানুষদের বলা হচ্ছে শরণার্থী। কখনও বা আলোচনায় আসছে অভিবাসী পরিচয়ে। কিন্তু এ দুটো শব্দের মধ্যের সত্যিকারভাবে কোন পার্থক্য আছে কী না সে প্রশ্ন বার বারই উঠে আসে। আর এর জবাবটা হচ্ছেÑ অবশ্যই সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। আর এ নিয়ে দ্বিধা বা ভুল ধারণা থাকলে তা অভিবাসী আর শরণার্থী দুই ধরনের মানুষের জন্যই সমস্যা তৈরি করবে।