২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্ধর্ষ জঙ্গী সানি ও বোমা মিজান দেড় বছরেও ধরা পড়েনি

শংকর কুমার দে ॥ দীর্ঘ দেড় বছরেও ধরা পড়েনি পুলিশ হত্যা করে প্রিজনভ্যান থেকে পালানো ফাঁসির দ-প্রাপ্ত ভয়ঙ্কর জেএমবির সেই দুর্ধর্ষ দুই জঙ্গী। জেএমবির এই দুই জঙ্গী হচ্ছে সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি এবং বোমা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান। সীমান্ত পথে ভারতে পালিয়ে গিয়ে এরা সেখান থেকেই জঙ্গী তৎপরতা ও নাশকতার ছক কষছে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জেএমবির একাংশের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল্লাহ আল তাসনিম ওরফে নাহিদসহ জেএমবির সাত জঙ্গীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ধরনের তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)।

ঢাকা-ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশের প্রিজনভ্যানে বোমা মেরে ও গুলি করে তিন জঙ্গীকে ছিনিয়ে নেয় জেএমবির জঙ্গীরা। এ ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রাকিবুল হাসান নামে এক জঙ্গী পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হয়। অপর দুই জঙ্গী সালেহীন ও বোমারু মিজান এখনও ধরা পড়েনি। গ্রেফতারকৃত জেএমবির একাংশের আমিরসহ সাত জঙ্গীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গী সম্পর্কে জানতে চায় ডিবি। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গী সীমান্ত পথে পালিয়ে ভারতে চলে গেছে। তারা সেখানে বসেই জঙ্গী তৎপরতা চালাচ্ছে এবং নাশকতার ছক কষছে। সূত্র জানায়, ফাঁসির দ-প্রাপ্ত জঙ্গী সালাউদ্দিন সালেহীন ও জাহিদুল ইসলাম মিজান পালিয়ে যাওয়ার পর সীমান্ত, বিমানবন্দর, স্থলবন্দরসহ সম্ভাব্য সকল স্থানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বার্তা পাঠানো হয়। পলাতক এই দুই জঙ্গীর আগের ও বর্তমান ছবি, ছদ্মবেশ ধারণ করার সম্ভাব্য স্কেচ, জীবনবৃত্তান্ত দেয়া হয় বার্তায়। বাংলাদেশের সীমান্তে ও ভারতের সীমান্তে জারি করা হয় রেড এলার্ট। যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে সেজন্য বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে সতর্ক করা হয়েছিল। তারপরও ধরা পড়েনি পুলিশ হত্যার ফাঁসির দ-প্রাপ্ত প্রিজনভ্যান থেকে পালানো জেএমবির দুই জঙ্গী।

সূত্র মতে, সম্প্রতি রাজধানীর আশুলিয়া এলাকা থেকে জেএমবির একাংশের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল্লাহ আল তাসনিম ওরফে নাহিদ (২৯), জেএমবির সক্রিয় সদস্য মোঃ নাঈম আলী (২৮), মোঃ সিকান্দার আলী ওরফে নকি (২৫), মাহমুদ ইবনে বাশার (২৩), মোঃ মাসুম বিল্লাহ (২৬), ফুয়াদ হাসান (১৮) ও আলী আহম্মদসহ (২৪) সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়। জেএমবিসহ জঙ্গীবিরোধী অভিযান চালানো অব্যাহত থাকলেও দুর্ধর্ষ ভয়ঙ্কর সেই জেএমবির দুই জঙ্গী কোথায় অবস্থান করছে তার সঠিক তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে ডিবি। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটার দিকে তিন জঙ্গীকে বহন করা প্রিজনভ্যানটি সাইনবোর্ড নামক স্থানে পৌঁছলে সামনে থাকা একটি ট্রাক ব্রেক করে ভ্যানটির গতিরোধ করতেই সাদা ও কালো রঙের দুটি মাইক্রোবাস প্রিজনভ্যানটিকে ঘিরে ফেলে জেএমবির জঙ্গীরা। এরপর অদূরে দাঁড়ায় আরেকটি প্রাইভেটকার। মুহূর্তেই কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা ১৫ থেকে ২০ জন জঙ্গী কমান্ডো স্টাইলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রিজনভ্যানটি লক্ষ্য করে গুলি করে। প্রিজনভ্যানের তালা ভেঙে ও হ্যান্ডকাফের চাবি কেড়ে নিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নিয়ে নিয়ে যায় তারা। এ সময় তাদের গুলিতে গুরুতর আহত হন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান, কনস্টেবল সোহেল রানা ও আতিকুল ইসলাম। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার পুলিশ সদস্য আতিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে পলাতক ও ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেএমবির ছিনিয়ে নেয়া তিন জেএমবি সদস্য হলো সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮)। সালাউদ্দিন সালেহীনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায়। সালাউদ্দিন সালেহীনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৪০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলায় তাকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম। তাকে এক নামে ওরফে বোমার মিজান (৩৫) নামে চেনেন সবাই। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বোমা মিজানের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। এর একটিতে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়। তার বাড়িও জামালপুরের মেলান্দহে। সালাউদ্দিন তিন মামলায় ও রাকিব এক মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত এবং মিজান যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গী। এদের মুক্তাগাছা থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ও কোতোয়ালি থানার সিরিজ বোমা হামলাসহ ৫ মামলায় হাজিরা দিতে ময়মনসিংহের আদালতে নেয়া হচ্ছিল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, জেএমবির একাংশের আমিরসহ গ্রেফতারকৃত সাত জঙ্গীকে পালিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ