২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব ধরনের সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪২ দশমিক ২৯ শতাংশ। অবশ্য ঈদের ছুটির কারণে আগের সপ্তাহে ৫ দিন লেনদেন হলেও, গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৩ দিন। এ বিবেচনায় গড় লেনদেন কমেছে সামান্যই। ঈদের ছুটির আগে বিনিয়োগকারীদের নগদ টাকা উত্তোলনের সুযোগ কমে যাওয়ার কারণেই সূচক বাড়লেও লেনদেন কিছুটা কম ছিল বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৪৩৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৪৫১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহে দেশী-বিদেশী সব ধরনের বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই) পুঁজিবাজার বিষয়ক এক সেমিনার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে। সেখানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ (বিএসইসি) গত কয়েক বছরে সংস্কারসহ বেশকিছু অগ্রগতি তুলে ধরে। একইসঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়। এই সেমিনারে মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন প্রোডাক্টের বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যও তুলে ধরা হয়।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩০২ কোটি ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৮ টাকার শেয়ার। যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ৮১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ টাকা। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হয়েছে ৯১ দশমিক ০৩ শতাংশ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হয়েছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ, ‘এন’ ক্যাটাগরিতে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

আলোচিত সপ্তাহে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক বা ডিএসই এক্স দশমিক ৭০ শতাংশ বা ৩৩ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক দশমিক ৩৭ শতাংশ বা ৪ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ১৯১ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক দশমিক ৬৬ শতাংশ বা ১২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৬০ পয়েন্টে। ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩২৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭২টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টিও লেনদেন হয়নি ৩টি কোম্পানির শেয়ারের।

সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : বিএসআরএম লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, আমান ফিড, ইফাদ অটোস, ইউনাইটেড এয়ার, বিএসআরএম স্টিল, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা ও ইসলামী ব্যাংক।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : জাহিন টেক্সটাইল, এ্যাপেক্স স্পিনিং, বিডি ল্যাম্পস, বঙ্গজ, বিএসআরএম স্টিল মিলস লিমিটেড, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, ইবনে সিনা ও বিডি ফাইন্যান্স।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : বিচ হ্যাচারী, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম লিমিটেড, সায়হাম কটন, এইম ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মুন্নু স্টাফলারস, আমান ফিড মিল লিমিটেড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, মডার্ন ডাইং, ডিবিএইচ ১ম মিউচুয়াল ফান্ড ও গ্রামীণ মিউচুয়াল ওয়ান।