২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৩৩ বছর পর ফের আকাশে আজ ‘সুপার মুন’

৩৩ বছর পর ফের আকাশে  আজ ‘সুপার মুন’

স্বাভাবিকের চেয়ে আকারে খানিকটা বড় ও উজ্জ্বল হয়ে আজ রাতের আকাশে ধরা দেবে চাঁদ। আকারে বড় ও উজ্জ্বল রঙ্গের এই চাঁদকে বলা হয় ‘সুপার মুন’। পৃথিবীর একেবারে কাছে চাঁদের চলে আসা এবং পূর্ণিমার এই দুই ঘটনার সংযোগেই দেখা মেলে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

প্রতি মাসেই একবার করে পূর্ণিমা হয়। এ সময় চাঁদ ও সূর্যের মাঝে চলে আসে পৃথিবী। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই গোল থালার মতো চাঁদ ওঠে আকাশে। এদিকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে চাঁদের সময় লাগে গড়ে ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা। প্রদক্ষিণ করতে করতে চাঁদ এক সময় পৃথিবীর কাছে চলে আসে। আবার এক সময় দূরে সরে যায়। কারণ চাঁদের কক্ষপথ একেবারে গোলাকার নয়। যখন কাছে চলে আসে, তাকে বলে ‘পেরিজি’। আর দূরে চলে গেলে বলে ‘এ্যাপোজি’। এই পেরিজির সময় চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব যখন সব চেয়ে কমে যায়, তখন যদি ঘটনাচক্রে পূর্ণিমা হয়, চাঁদকে স্বাভাবিকের থেকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। এ ঘটনাকেই বলে ‘সুপার মুন’। পজিশনাল এ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের প্রধান সঞ্জীব সেন বলেন, ‘পূর্ণিমা ও চাঁদের কাছে চলে আসা, এই দুই ঘটনা একসঙ্গে ঘটতে চলেছে। যেহেতু ধীরে ধীরে চাঁদ কাছে আসছে পৃথিবীর, তাই এখন থেকেই আকাশে বেশ বড় দেখাচ্ছে তাকে।’ সঞ্জীব বলেন, ‘এখন যেমন পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮শ ৭৬ কিলোমিটার। কিন্তু গড়ে এই দূরত্ব থাকে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। এই ২৮ হাজার কিলোমিটার (প্রায়) কাছে চলে আসাটা সাধারণ মানুষের চোখে সহজে ধরা পড়ে না।’ কিন্তু ওই দিন এর সঙ্গেই ঘটতে চলেছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণও। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শুধু উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়া (আফগানিস্তান-পাকিস্তান থেকে আংশিক) দেখতে পাওয়া যাবে। আর বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়াকোণে ঢুকে পড়ে চাঁদ। আর পৃথিবীর বায়ুম-লে থাকা ধুলোকণার ওপর এসে পড়ে সূর্যের সাদা আলোর সাতটি রং। এর মধ্যে লাল আলো সবচেয়ে কম বিচ্ছুরিত হয়। অন্যান্য রং বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। লাল আলো যেহেতু কম ছড়ায়, তাই সেই আলোটিই উজ্জ্বল হয়ে দেখা দেয়। ওই লাল আভা প্রতিসরিত হয়ে একটু বেঁকে গিয়ে পড়ে চাঁদের মাটিতে। ফলে পৃথিবীর উপগ্রহটিকে পুরো অন্ধকার না দেখিয়ে রক্তাভ বর্ণের দেখায়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানী সারা নোবেলের বলেন, ‘যে কারণে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় আকাশে লাল আভা দেখতে পাওয়া যায়, এ ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটবে।’ সুপার মুন ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ একসঙ্গে ঘটেছিল সেই ৩৩ বছর আগে ১৯৮২ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এরপর দেখা যাবে ২০৩৩ সালের ৮ অক্টোবর।