২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খানাখন্দে বেহাল সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

নিজস্ব সংবাদদাতা, উখিয়া, ২৭ সেপ্টেম্বর ॥ কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কটি খানাখন্দকে ভরে গেছে। যার ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে বলে সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়াও পর্যটনের অপার সৌন্দর্য্য এবং পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার অবস্থিত বলে সড়কটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ও সীমান্ত শহর টেকনাফের অনাবিল সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য দেশী-বিদেশী পর্যটকের আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত থাকে এ মহাসড়কটি। অথচ এ সড়কের বেহাল দশা। যেন দেখার কেউ নেই! প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক সময় এ সড়কে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে বিকল হয়ে আটকে যায়। এ ছাড়া থাইংখালী, পালংখালী, উলুবনিয়া, হোয়াইক্যং, মধ্যম হ্নীলা, মৌলভীবাজার, ঝিমংখালী, হ্নীলা বাসস্টেশনসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক স্পটে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে নিত্য যানজট লেগে থাকে। সড়কটির অধিকাংশস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে।

জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ ৮৯ কিলোমিটার এ সড়কের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ থাইংখালী থেকে টেকনাফের হ্নীলা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটারের প্রায় অর্ধেক পথই খানাখন্দে ভরা। বর্তমানে এ সড়কটি অনেকটাই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কয়েকটি গর্তে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ভর্তি ট্রাক অধিকাংশ সময় আটকে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফের দূরত্ব ৮৯ কিলোমিটার। সড়কের ৮৯ কিলোমিটার যেতে সময় লাগে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা। কিন্তু টেকনাফ থেকে থাইংখালী ৪৩ কিলোমিটারেই লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে উখিয়ার থাইংখালী থেকে টেকনাফের হ্নীলা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার পথই খানাখন্দে ভরা।

উখিয়া উপজেলা রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, হ্নীলা থেকে থাইংখালী পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক এই অবস্থায় চলে গেছে যে কোন রোগীকে এ্যাম্বুলেন্সে করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সড়কের বড় বড় গর্তের ঝাঁকুনিতে পথেই মৃত্যুবরণ করবে। এছাড়াও ডেলিভারি রোগীর কথা না বলাই ভাল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেকনাফ স্থলবন্দরের এক ব্যবসায়ী জানান, সরকার প্রতিবছর বাণিজ্যচুক্তির খাত থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করছে। অথচ এ বাণিজ্যচুক্তির মালামাল সরবরাহে ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে শুধুমাত্র সড়কের কারণে। যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি করতে না পারার কারণে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।