২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাঙ্গন ॥ ফুলছড়িতে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ২৭ সেপ্টেম্বর ॥ ফুলছড়ি উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে যেতে শুরু করায় নতুন বিপদ এসে ভর করেছে তাদের ঘাড়ে। শুরু হয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক মৌজা। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অনেকেই দিশেহারা হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

ফুলছড়ি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে এরেন্ডাবাড়ী, ফজলুপুর, ফুলছড়ি, উড়িয়া, কঞ্চিপাড়া, গজারিয়া ইউনিয়নের বন্যার পানি নেমে গেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এসব এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের শুরু“ হয়েছে এক নতুন লড়াই। পানির তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়ায় দুই সহস্রাধিক পরিবার তাদের আবাদি জমি ও ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন। অব্যাহত ভাঙ্গনে গজারিয়া ইউনিয়নের কটকগাছা, জিয়াডাঙ্গা, গজারিয়া, গলনা ও ভাজনডাঙ্গা মৌজার অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পাঁচটি মৌজার ৭ শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সরেজমিন জিয়াডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে কথা হয় ওই গ্রামের বিধবা আসমা বেগম (৪৫) এর সঙ্গে। তিনি জানান, নদী ভাঙতে ভাঙতে তার বসতবাড়ির আঙ্গিনায় এসেছে। তার পরিবারে আর কোন লোক না থাকায়- থাকার ঘরটা সরানোর জন্য অনেকের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করলেও কেউ এগিয়ে আসছে না। সবাই তাদের নিজের ঘর সরাতেই ব্যস্ত। আসমা বেগম তার ঘরটা রক্ষা করতে পারবেন কিনা এনিয়ে দুঃচিন্তায় আছেন। ভাঙনের শিকার কটকগাছা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী (৭৫) আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী গলনা গ্রামে। তিনি বলেন, বন্যা শুরুর আগেও কটকগাছা গ্রামে শতাধিক পরিবারের বসবাস ছিল। নদীভাঙ্গনের শিকার হয়ে আমার মতো একের পর এক পরিবার বাড়ি-ঘর নিয়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন।

স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন জানান, এবছরের বন্যা ও নদীভাঙ্গনে সবকিছু হারিয়ে পথে বসলেও তেমন কোন সরকার-বেসরকারী ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায়নি। গ্রামের সবাই মিলে দল গঠন করে বাড়ি-ঘর সরানো হচ্ছে। গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোতোষ রায় মিন্টু জানান, গত দুই বছরের ভাঙ্গনে কটকগাছা, গলনা, ভাজনডাঙ্গা ও জিয়াডাঙ্গা মৌজার মূল ভূ-খন্ড নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আশ্রয়হীন হয়েছে শত শত মানুষ। শুধু এ বছরের ভাঙ্গনেই গজারিয়া ইউনিয়নের ৮ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। তিনি সরকার-বেসরকারী পর্যায়ের লোকজনকে সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান। এদিকে উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের তিনথোপা, আলগারচর, সন্ন্যাসীর চর, হরিচন্ডি, ফজলুপুর ইউনিয়নের উজালডাঙ্গা, চিকিরপটল ও কুচখালী, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, মধ্য উড়িয়া, কালাসোনা, উত্তর উড়িয়া, কাবিলপুর, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ছাতারকান্দি, রসুলপুর, হাড়ডাঙ্গা, পূর্ব কঞ্চিপাড়া ও উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া গ্রামেও ব্যাপক আকারে নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙ্গনে শত শত পরিবার বাস্তুহারা হচ্ছেন। নদীভাঙ্গন রোধে সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে।