২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পর্যটন স্পটে মানুষের ঢল

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ঈদের ছুটিতে জমজমাট রূপ ধারণ করে চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলো। নগরীর বিপুলসংখ্যক মানুষ ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ায় অনেকটাই ফাঁকা সড়ক ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য অনুকূল হয়ে দাঁড়ায়। এ সুযোগে ঈদ এবং ঈদের পরদিন নারী, শিশুসহ সকল বয়সী মানুষকে দেখা যায় বেড়ানোর আমেজে। নগরী ও জেলার সব পর্যটন স্পটই ছিল লোকে লোকারণ্য।

চট্টগ্রাম নগরীর ভ্রমণ পিপাসুদের প্রধান আকর্ষণ বরাবরের মতো এবারও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। কেননা, বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এ সৈকত দেখতে ও ঘুরে বেড়াতে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। এর জন্য প্রয়োজন হয় না কোন অর্থ ব্যয়ের। বিকেলে তাই হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় সৈকত এলাকা।

চট্টগ্রাম নগরীর আকর্ষণীয় আরেকটি স্পট হলো ফয়’স লেক। নয়নাভিরাম এ লেকের প্রতি আকর্ষণ থাকায় সাধারণ মানুষ সেদিকেও ছুটে যায়। এবারও তাই হয়েছে। তবে প্রবেশ টিকেট সংগ্রহে মোটা অঙ্কের অর্থ গুনতে হয় বিধায় স্বল্প আয়ের মানুষ ফয়’স লেকের সৌন্দর্য উপভোগে ব্যর্থ হয়। কিন্তু তারপরও ঈদের ছুটি বলে কথা। ফলে নারী শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদভারে মুখর হয় ফয়’স লেক।

মুখরিত কক্সবাজার সৈকত

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে জানান, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের পদভারে চঙ্গা হয়ে উঠছে পর্যটন স্পটগুলো। ঈদ-উল আযহার পর দলে দলে পর্যটক আগমনের বিষয়টিকে কেন্দ্র কক্সবাজারের পর্যটন স্পটসমূহ নতুনরূপে সাজানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ায় কোরবানি ঈদের পরদিন থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে কক্সবাজারে। এতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রাখাইন পল্লী, বার্মিজ মার্কেট, রামুর দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, ইনানী পাথুরে সৈকত, হিমছড়ির অপরূপ ঝর্ণা, মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগরসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

রাজশাহীর পদ্মার পাড়ে ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, ঈদের ছুটিতে মানুষের ঢল নেমেছে রাজশাহীর পদ্মা পাড়ে। ঈদের দিন থেকে নগরীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোও ভরে উঠেছে বিনোদন পিপাসু মানুষের পদচারণায়। সকাল থেকে মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই কোথাও। সবচেয়ে ভিড় বাড়ছে নগরীর পদ্মা পাড়ে। পঞ্চবটি আইবাঁধ থেকে শ্রীরামপুর টি-বাঁধ পর্যন্ত শুধু মানুষের ঢল।

ঈদের দিন বিকেল থেকেই মানুষের ঢল নামে পদ্মার পাড়ে। কর্মব্যস্ত শহর রাজশাহীর চারপাশে এখন কেবল স্বজনদের মিলন মেলা। এখনও মহানগরজুড়ে চলছে ঈদের আমেজ। রাজশাহীতে হাতেগোনা কয়েকটি বিনোদনস্পট থাকায় মানুষের পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে থাকে পদ্মার পাড়। তবে অতিরিক্ত ভিড়ে এখানে বেড়াতে এসে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

সুন্দরবন পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট থেকে জানান, ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার, বারাকপুরে অবস্থিত সুন্দরবন রিসোর্ট সেন্টার, শহরের দশানীপার্ক ও দড়াটানা নদী সংলগ্ন পৌরপার্কসহ জেলার সকল পর্যটন স্পটে অসংখ্য পর্যটকের ভিড় ছিল। ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান আলীর মাজার এলাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বিভিন্ন ধরনের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম জানান, ঈদে সুন্দরবনের করমজল, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট ও দুবলারচরসহ পর্যটন স্পটগুলোতে আগমন ঘটে হাজার হাজার পর্যটকের। পর্যটদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও চোরা শিকারীদের তৎপরতা বন্ধে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বনরক্ষীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়।

কুয়াকাটায় হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী

নিজস্ব সংবাদদাতা কলাপাড়া থেকে জানান, ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটক-দর্শনার্থীর এখন উপচেপড়া ভিড় রয়েছে। হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমী নর-নারীর পদচারণায় কুয়াকাটা মুখরিত হয়ে আছে। শুক্রবার শেষ বিকাল থেকে এদের আগমন ঘটে। অধিকাংশ হোটেল-মোটেল পর্যটকে পরিপূর্ণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাগরে ¯œানে মেতে উঠেছে আগতরা। গভীর রাত পর্যন্ত সাগরের বেলাভূমে বিচরণ করছে তারা। পর্যটকের সমাগমে স্থানীয় রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেটসহ খাবার হোটেলগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। বৌদ্ধ মন্দির, রাখাইন পল্লী দর্শন করছে আগতরা। ঘুরে বেড়াচ্ছে লেম্বুরচর, ফাতরার বনাঞ্চল কিংবা পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি সৈকত। মেঘলা আকাশ থাকায় নির্বিঘেœ সুর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করতে না পারলেও আগতদের উচ্ছ্বাসের একটু ঘাটতি নেই।

মাওয়ায় নারী পুরুষের ঢল

মীর নাসির উদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পদ্মার পাড়, মাওয়া রিসোর্ট ও পদ্মা রিসোর্টসহ মুক্তারপুর সেতু পর্যটকদের কোলাহলে মুখরিত। পদ্মা আর ধলেশ্বরী নদীর নির্মল পরিবেশ দেখতে সব বয়সী নারী-পুরুষ ছুটে আসে। পদ্মা পাড়ের মুক্ত বাতাস আর ধলেশ্বরী নদীর সুউচ্চ এই সেতু থেকে নৌকা, লঞ্চ, চাঁদের আলো এবং সূর্যাস্তের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে কার না ভালো লাগে। তাইতো দূর-দূরান্ত থেকে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় এ সব পর্যটন কেন্দ্র।

ঈদের আনন্দ উপভোগ ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যায় এমন ভিড় পড়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর সেতুতে। বিকেল থেকেই মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষের পদচারণা শুরু হয়। সন্ধ্যায় এই ভিড় যায় আরও বেড়ে। সেতুটির ফুটপাত ছাপিয়ে ভিড় চলে আসে যানবাহন চলাচলের স্থলেও। ঈদের ছুটিতে আশপাশে বিনোদনের কোন স্থান না থাকায় এই ভিড় বেড়ে গেছে। তবে ঈদে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বিনোদন পিয়াসু মানুষ। প্রকৃতির টানে গভীর রাত অবধি ঘুরে ফিরছে এই ঈদের ছুটিতে।

ধলেশ্বরী নদীর রাতের রূপ দেখে মুগ্ধ তারা। চাঁদের আলোয় নদীর ওপর দাঁড়িয়ে নদী, আকাশ আর বাতাসের এই লোভনীয় দৃশ্য দেখার সুযোগ হাতছাড়া না করতেই এখানে ছুটে আসা।

সৌন্দর্যের রানী রাঙ্গামাটির লেক

সৈকত

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গামাটি থেকে জানান, সৌন্দর্যের রানী হিসেবে খ্যাত পাহাড়ী শহর রাঙ্গামাটি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।

টানা বর্ষণের পর হঠাৎ আবহাওয়া ভাল হয়ে ওঠায় ঈদ-উল-আযহার পরদিন রাঙ্গামাটিতে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য অনেকেই স্বপরিবারে এসেছে। রবিবার অফিস খোলা হলেও অনেকেই ওইদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে রাঙ্গামাটি বেড়াতে এসেছে। হোটেল মালিকরা আগে থেকেই পর্যটকদের আগমনের জন্য প্রস্তুত থাকায় এখানে থাকা খাবার জন্য এবার কোন অসুবিধা হয়নি বলে রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বড় আবাসিক হোটেল সৈকতের পরিচালক সফি জানান।