২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপত্তা অজুহাতে আজ আসছেন না স্মিথরা

  • সূচী অনুযায়ী সিরিজের খেলা শুরুর প্রত্যাশা বিসিবি ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার, ঢাকায় অস্ট্রেলীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বিসিবির আলোচনা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আজ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু আজ আসছে না স্টিভেন স্মিথের দল অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্রুতই অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশে আসার সময়সূচী চূড়ান্তভাবে বলে দেয়া হবে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া থেকে এমনই জানানো হয়েছে। এমনকি এও জানানো হয়েছে, সূচী অনুযায়ীই খেলার আশা করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডই এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে আপাতত আসছে না অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ৯ অক্টোবর প্রথম টেস্ট ও ১৭ অক্টোবর দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ৩ অক্টোবর থেকে তিনদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা অস্ট্রেলিয়ানদের। এ সিরিজ সঠিক সময়ে হবে কি না, এ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে রবিবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারল ও আরেকজন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক ঢাকায় আসেন। তাদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সভা করেন। সভা শেষে সব দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন বিসিবি সভাপতি। সেই সঙ্গে অসিদের বিপক্ষে যে সিরিজ হবে, সেই আশার কথাও জানান। তবে কোন সূচী দিতে পারেননি।

পাপন জানান, ‘অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে আশাবাদী আমরা। আমরা আশাবাদী অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে আসবে। তাদের নিরাপত্তা দলটির সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। দলটি তাদের রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রদান করলে আমরা জানতে পারব কবে আসবে সফরকারী দলটি।’ রবিবার বেলা পৌনে ১১টায় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারল ঢাকায় এসে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন নিরাপত্তা দলের আরেক সদস্য। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তারা ঢাকায় পৌঁছে সরাসরি চলে যান বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনে। সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারা। এরপর নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করার পর অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে রিপোর্ট প্রদান করবেন তারা। তাদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে কবে নাগাদ অসি দল বাংলাদেশ সফর করবে সে বিষয়ে জানা যাবে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রশ্ন তোলায় সিরিজের সূচীতে কোন পরিবর্তন না আনলেও সাময়িকভাবে স্থগিত করে সফরের তারিখ। এর আগে শনিবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের টেস্ট দলকে বাংলাদেশ পাঠানোর আগে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বোর্ডকে সর্তক করে দেয়। তারা জানায়, বাংলাদেশের জঙ্গী দলগুলো পর্যটকদের ওপর হামলা চালাতে পারে। ফলে পিছিয়ে দেয়া হয় সফরের সময়। তবে, তারা নিশ্চিত করে, অস্ট্রেলিয়ার আসার সময় শুধু পিছিয়ে যাচ্ছে, সফরটি বাতিল হয়নি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড বলেন, ‘ক্যারল এরইমধ্যে বাংলাদেশে গেছে। আমাদের পরিকল্পনা একই রকম আছে। সূচী অনুযায়ীই খেলতে চাই। আমি এখন তার (ক্যারলের) সাড়া পাওয়ার অপেক্ষা করছি।’ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও বাংলাদেশ সফরের পক্ষেই কথা বলেছেন। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটাররা না কি বাংলাদেশ সফরে যেতে চায়। সাদারল্যান্ড বলেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দুই টেস্টের সিরিজটির ওপরে এখন প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে। সিদ্ধান্তটা হঠাৎ করেই হয়েছে। আমরা অবশ্য এ সফর হওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছি। তবে খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছি আমরা। আপাতত নিরাপত্তার নিশ্চয়তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।’ রবিবার এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলীয় সরকার জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ডিফ্যাট (অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক বিভাগ) অবগত। এ বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। তবে বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে যথাসম্ভব কম চলাফেরারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে শনিবার বলা হয়, সরকার টেস্ট দলকে বাংলাদেশে পাঠানোর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বোর্ডকে সর্তক করে দেয়ায় ক্রিকেটারদের দেশ ছাড়ার তারিখ পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকার আশঙ্কা করছে, বাংলাদেশে জঙ্গী দলগুলো পর্যটকদের ওপর হামলা চালাতে পারে। ডিএফএটি শুক্রবার বাংলাদেশ নিয়ে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়ে জানায়, বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ানদের ওপর হামলার হুমকি নিয়ে তাদের কাছে ‘নির্ভরযোগ্য তথ্য’ আছে। অস্ট্রেলিয়া শেষবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ২০১১ সালে। আর ২০০৬ সালের এপ্রিলের পর থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোন টেস্ট খেলেনি তারা। অস্ট্রেলিয়ার এমন সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই বিসিবির কর্মকর্তারা হতাশ। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও শুরুতে হতাশাই প্রকাশ করেছেন। রবিবার যখন অস্ট্রেরিয়া হাইকমিশনে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সভা হয়, এরপর আশাবাদী হয়ে উঠেন। বলেছেন, নির্দিষ্ট করে বাংলাদেশ নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশজুড়েই নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছে অস্ট্রেলিয়া। জানিয়েছেন, ‘নির্দিষ্ট করে বাংলাদেশ নয়, তাদের আশঙ্কা উপমহাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা সফর পিছিয়ে দিয়েছে। তবে তাদের কাছে কী তথ্য আছে তা বলেননি। আমরা বলেছি বাংলাদেশ নিরাপদ। আজ (রবিবার) তারা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসবেন। কাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসবেন। তবে আমি এ সফর পিছিয়ে দেয়ার কোন কারণ দেখছি না।’