২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ওপর হামলার আশঙ্কা কাল্পনিক

শংকর কুমার দে ॥ ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজক বলে দাবি করা হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশকে নিয়ে দেশী-বিদেশী প্রভাবশালী মহল গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। জঙ্গীরা বাংলাদেশে সফররত অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের ওপর হামলা করতে পারে এই ধরনের কাল্পনিক আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষকে, যা গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থা। কারা কিভাবে এই ধরনের হামলার কাল্পনিক উদ্ভট মিথ্যা তথ্য অপপ্রচার করে দেশের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাবশালী মহল থেকে লবিং করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, এবারের ঈদের ছুটিতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ও কোথাও কোথাও যানজট ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল মোটামুটি সন্তোষজনক, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় ভাল ও উন্নত। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেখানে সন্তোষজনক সেখানে হঠাৎ করেই নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের সফর বাতিল করার বিষয়টি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থা। ঈদের ছুটির আগে বা ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোথাও কোন জঙ্গী হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং জঙ্গী সংগঠনগুলোর তেমন কোন তৎপরতার খবরও পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই পাকিস্তানে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারী খেলোয়াড়রা। নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন সন্তোষজনক তখন বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলসহ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে গেছে বিদেশী দেশগুলো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলসহ সেদেশের কাছে জঙ্গী হামলার পরিকল্পনা, নিরাপত্তার অভাব ইত্যাদি অপপ্রচার ছড়িয়ে দিয়ে ক্রিকেট দলের সফরকে ভ-ুল করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারা কোথা থেকে কিভাবে এই ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রভাবশালী মহল থেকে ইতোমধ্যেই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে বিদেশে যে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র শুরু করা হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল করানোর ঘটনা বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদের ছুটিতে জঙ্গী হামলার আশঙ্কা তো দূরের কথা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভাল থাকার পরিস্থিতিতেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই হঠাৎ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের দুটি টেস্ট খেলতে সোমবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকার মধ্যেই সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে শনিবার হঠাৎ করেই সফর পিছিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডকে জঙ্গী হামলার পরিকল্পনার আশঙ্কার যে তথ্য দেয়া হয়েছে তা ষড়যন্ত্রমূলক এবং প্রভাবশালী মহল থেকেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে এই মুহূর্তে জঙ্গী হামলা হওয়ার আশঙ্কা নেই, জঙ্গী সংগঠনগুলোর মেরুদ- ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি নিরাপদ। কোন জঙ্গী মাথাচাড়া দেয়ার সুযোগ পাবে না। গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পুুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, এবারের ঈদের আগে এবং ঈদের ছুটির সময়ে মানুষজনের জানমাল রক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃপক্ষের দাবি। ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, বোমাবাজি, খুনোখুনির বড় ধরনের ঘটনা এবার ঘটেনি। খুবই নিরাপদে ও নিরাপত্তার সঙ্গে ঈদের সময়ে মানুষজন কেনাবেচা করতে পেরেছে এবং ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করতে পেরেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোথাও কোন জঙ্গী হামলা, জঙ্গী তৎপরতার ঘটনার খবর পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থা।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে জঙ্গীবাদ মুক্ত করতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে র‌্যাব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণে এটি হচ্ছে আমাদের প্রিমিয়াম এলিট ফোর্স। আমরা বাংলাদেশকে কখনও জঙ্গীবাদের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হতে দিতে চাই না। এখানে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই।